তেহরান: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের অশনি সংকেত? ইরানের কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর তৎপরতা দেখে এমনটাই দাবি করছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। ইতিমধ্যে তেহরানের কাছে পৌঁছে গিয়েছে মার্কিন রণতরী ও যুদ্ধবিমান। এরইমধ্যে বুধবার ইরান সীমান্তের কাছে পঞ্চাশের বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করল মার্কিন বাহিনী। তালিকায় রয়েছে এফ-৩৫, এফ-২২, এফ১৫ সহ একাধিক বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান। সূত্রের খবর, সপ্তাহান্তে তেহরানে হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন। যদিও এবিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পিছিয়ে নেই খামেনেইয়ের দেশও। ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া চালিয়েছে তেহরান। এবার ওমান উপসাগরে রাশিয়ার সঙ্গে শুরু হল যৌথ মহড়া। একইসঙ্গে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় দেশের পরমাণুকেন্দ্রগুলিকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে ইরান। জানা গিয়েছে, নাতান্জ ও ইশফাহানে ঢোকার যাবতীয় সুড়ঙ্গপথ কংক্রিট ও পাথর দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাঙ্কার দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে চারিদিক। তাহলে কি শীঘ্রই রণাঙ্গনে নামবে দুই পরমাণু শত্তিধর দেশ? নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
সামরিক উত্তেজনার মাঝইে চলতি সপ্তাহে জেনিভায় পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসেছিল তেহরান-ওয়াশিংটন। যদিও বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। বুধবার বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স জানান, একাধিক শর্ত মানতে রাজি হয়নি তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দাবি, ভবিষ্যতে বৈঠকের ‘মূল নীতি’ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরানকে রাজি করাতে মরিয়া ওয়াশিংটন। বুধবার এবিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘ইরানের ক্ষেত্রে চুক্তি করাটাই সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।’
জেনিভা বৈঠক শেষ হতেই ইরানের নাকের ডগায় আরও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করল আমেরিকা। আকাশপথের পাশাপাশি জলপথেও মার্কিন সেনার প্রস্তুতি তুঙ্গে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে পশ্চিম এশিয়া ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ১৩টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকির সামনে মাথা নত করতে নারাজ খামেনেইয়ের দেশ। চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল তেহরান। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ওমান উপসাগরে মস্কোর সঙ্গে মহড়া শুরু করল। বৃহস্পতিবার সেদেশের রিয়ার অ্যাডমিরাল হাসান মাকসোদলু দাবি করেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলিকে শান্তি ও বন্ধুত্বের বার্তা দিতেই এই মহড়া চালানো হচ্ছে।’