Bartaman Logo
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দেড় কোটি টাকার প্রতারণা, অভিযুক্ত দক্ষিণ দমদম পুরসভার মহিলা কর্মী

পুরসভার অস্থায়ী কর্মী। আধিকারিক থেকে কাউন্সিলার— সকলের সঙ্গেই তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তিনি ঠিকাদারির কাজ পাইয়ে দিতে পারেন। আবার ঠিকাদারকে টাকা ধার দিয়ে ভালো রিটার্ন পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

দেড় কোটি টাকার প্রতারণা, অভিযুক্ত দক্ষিণ দমদম পুরসভার মহিলা কর্মী
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পুরসভার অস্থায়ী কর্মী। আধিকারিক থেকে কাউন্সিলার— সকলের সঙ্গেই তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তিনি ঠিকাদারির কাজ পাইয়ে দিতে পারেন। আবার ঠিকাদারকে টাকা ধার দিয়ে ভালো রিটার্ন পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। এমন আশ্বাস পেয়ে নাগেরবাজারের এক বাসিন্দা ভরসা করেছিলেন পুরসভার অস্থায়ী কর্মী তথা মেয়ের প্রাক্তন গৃহশিক্ষিকার উপর। ভালো রিটার্নের আশায় কয়েক ধাপে প্রায় দেড় কোটিরও বেশি টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাকা না পাওয়ায় পুরসভার চেয়ারম্যানের পর তিনি নাগেরবাজার থানার দ্বারস্থ হয়েছেন। পুরসভার অস্থায়ী কর্মীর এহেন প্রতারণার ঘটনায় দক্ষিণ দমদমে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Advertisement

দক্ষিণ দমদম পুরসভার অস্থায়ী কর্মী নন্দিনী সেনগুপ্ত। অভিযোগ, তিনি সহকর্মীদের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা বলে বিভিন্ন সময় টাকা ধার নিয়েছেন। কিন্তু অনেকেই সেই টাকা আজও ফেরত পাননি। এতেই শেষ নয়, তিনি পুরসভার এক আধিকারিকের কাছ থেকে দু’হাজার টাকা ধার নিয়ে আজও ফেরত দেননি। তাই সচেতন কর্মীরা নন্দিনীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন থেকে দূরে থাকতেন। নন্দিনী পুরসভায় চাকরি করার আগে এলাকায় টিউশন পড়াতেন। তিনি বাঙ্গুর অ্যাভিনিউয়ের অভিজাত আবাসনের বাসিন্দা সুকান্ত সাহার মেয়ের গৃহশিক্ষক ছিলেন। সেই সূত্রে সুকান্তবাবুর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। সুকান্তবাবু নিজে এফসিআই’র কর্মী। অভিযোগ, নন্দিনী নিজেকে পুরসভার প্রভাবশালী হিসাবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির দলবলের সঙ্গে এলাকায় তৃণমূল করতেন। তিনি সুকান্তবাবুকে বলেছিলেন, পুরসভার আধিকারিক ও কাউন্সিলারদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি চাইলে ঠিকাদারির কাজ পাইয়ে দিতে পারেন। এমনকি, ঠিকাদারকে টাকা ধার দিতে পারেন কয়েক মাসের জন্য।  বিনিময়ে সুদ সহ টাকা ফেরত পাবেন। সুকান্তবাবুর মেয়ে এখন বাইরে পড়ছে। তাই তাঁরা গত ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত নন্দিনীকে দফায় দফায় বিপুল টাকা দেন। সুকান্ত সাহা বলেন, তিনি প্রায় ১ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু নানা অজুহাতে টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না। পুরসভার চেয়ারম্যানকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। প্রায় ৯ লক্ষ টাকা ফেরত পেয়েছি। প্রতারিত হয়েছি বুঝে নাগেরবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি আবার স্পিডপোস্টে সুকান্তবাবুর বিরুদ্ধে পুরসভায় গিয়ে হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির পালটা অভিযোগ জানিয়েছেন। সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নন্দিনীর মোবাইল সুইচড অফ থাকায় তাঁর মতামত পাওয়া যায়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ