নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একমাত্র ছেলের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাত্রায় বিড়ম্বনায় ছিলেন বাবা-মা। বার বার শোধরানোর কথা বললেও বদলায়নি ছেলে। বছর পঁয়ত্রিশের ছেলের এই জীবনযাপনের জেরে স্টেশনের কাছে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বৃদ্ধ দম্পতি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বারাসত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবা প্রণীত বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা মানসী বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দত্তপুকুরের বামনগাছিতে। জানা গিয়েছে, প্রণীত ও মানসী ছেলে সৈকতকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাড়িতে বাস করছিলেন বামনগাছিতে। তাঁদের বাড়ি বাদুড়িয়ায়। পরিবারটি বামনগাছির রামকৃষ্ণ পল্লীতে তপন ঘোষের বাড়িতে ভাড়া থাকত। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, সৈকত বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা ধার নিত। কিন্তু সেই টাকা সময়মতো শোধ করত না। পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে নেশায় আসক্ত থাকার অভিযোগও উঠেছে। দিনভর নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকত বলেই দাবি স্থানীয়দের একাংশের। আর ধারের টাকা পরিশোধ না হওয়ায় প্রায়ই পাওনাদাররা বাড়িতে এসে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উপর চাপ সৃষ্টি করতেন। কখনও কটূক্তি, কখনও হুমকি—নানা রকম অপমানের মুখে পড়তে হত দম্পতিকে।
প্রতিবেশীদের মতে, ছেলের কর্মকাণ্ডের দায় কার্যত তাঁদের কাঁধেই এসে পড়ছিল। বারবার অপমান ও মানসিক চাপে ভেঙে পড়ছিলেন তাঁরা। বুধবার রাতেও কয়েকজন বাড়িতে এসে তীব্র ভাষায় শাসানি দেন বৃদ্ধ দম্পতি ও সৈকতকে। এরপর মানসিকভাবে তাঁরা ভেঙে পড়েন। বৃহস্পতিবার বামনগাছি স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রাসায়নিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তাঁরা বলেই পুলিশের দাবি। এখন তাঁদের বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। এনিয়ে নিয়ে ভাড়াবাড়ির মালিক তপন ঘোষ বলেন, ছেলের জীবন অত্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল। আমি অন্যত্র চলে যেতে বলেছিলাম। কিন্তু যায়নি। বুধবার রাতেও কিছু একটা ঘটেছিল। তার জেরে সৈকতের বাবা ও মা আত্মহত্যার চেষ্টা করে বামনগাছি স্টেশনে। দত্তপুকুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, দুই মহিলার দম্পতির অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। কি কারণে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিলেন, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।



