Bartaman Logo
২ অক্টোবর, ২০২৬

‘ক্ষমতায় টিকে থাকতেই এসআইআর’, বিস্ফোরক মুরলী মনোহর যোশি, ‘দেশকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে মোদি সরকার’

‘সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তাই এসআইআর।’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে যখন গোটা দেশ তোলপাড়, এভাবেই আক্রমণ ধেয়ে এল বিজেপির খাস অন্দরমহল থেকে।

‘ক্ষমতায় টিকে থাকতেই এসআইআর’, বিস্ফোরক মুরলী মনোহর যোশি, ‘দেশকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে মোদি সরকার’
  • ২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ‘সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তাই এসআইআর।’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে যখন গোটা দেশ তোলপাড়, এভাবেই আক্রমণ ধেয়ে এল বিজেপির খাস অন্দরমহল থেকে। কারণ, এই বিস্ফোরক মন্তব্য বাজপেয়ি জমানার গুরুত্বপূর্ণ মুখ ও মন্ত্রী মুরলী মনোহর যোশির। এখানেই শেষ নয়। জেন জি আন্দোলন, বেকারত্ব, কিংবা রামমন্দিরে প্রণামি চুরি... সব ইস্যুতেই চাঁছাছোলা ভাষায় মোদি সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলে দিয়েছেন বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘একচ্ছত্র ক্ষমতা লাভে’র পর লালকৃষ্ণ আদবানির মতো যোশিরও ঠাঁই হয়েছে ‘মার্গদর্শক’ ক্যাটিগরিতে। অর্থাৎ, দলের কাজকর্ম থেকে অবসর এবং পরামর্শদাতা হিসাবে ‘মাথার উপর বসে থাকা’। কিন্তু রাজনীতির দরবারে তাঁর এক একটি মন্তব্য এখনও তোলপাড় ফেলে দেয়। এবারও সেটাই হয়েছে। ‘দ্য হিন্দু’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ বলেছেন, ‘সব সরকারই ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। এটাই কঠিন বাস্তব।’ আর ক্ষমতা দখলের চেষ্টার নামই যে এসআইআর, সেটাও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়েছেন তিনি। সঙ্গে বলেছেন, ‘ডিলিমিটেশন ইস্যুও তো তাই! ২০০০ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ির আমলে আসন পুনর্বিন্যাস পিছনে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। কারণ, আমরাও ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলাম। ১৯৭৬ সালেও নেপথ্য কারণ সেই একই ছিল।’ গণতন্ত্র বিপন্ন বলে গোটা দেশে যখন বিরোধীরা আওয়াজ তুলছে, তখন যোশির বক্তব্য, ‘গণতন্ত্রই হল সরকার পরিচালনার সর্বোত্তম রূপ। তবে তার জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ হতে হয়। সরকারকে জবাবদিহি করতে হয়। স্বচ্ছ থাকতে হয় আমলাতন্ত্রকে। আস্থা না থাকলে ভালো জিনিসও মানুষ গ্রহণ করবে না। প্রতিবাদের আবহ তৈরি হলে তার সমাধান করতে হয়। লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে পড়লে কাজ হয় না।’

Advertisement

লাঠি হাতে দাঁড়ানোর অর্থ যে জেন জি আন্দোলনের উপর দমন-পীড়নের অভিযোগ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ যোশি পরিষ্কার বলেছেন, ‘জেন জি ক্ষুব্ধ কেন? কারণ আপনারা চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু কোথায় চাকরি? আমাদের দেশকে বিপথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ এই মন্তব্যের প্রসঙ্গ অবশ্য দেশের উন্নয়ন এবং পরিবেশরক্ষা। হিমালয়ে ‘অল ওয়েদার রোড’ নিয়ে মোদি সরকার যতই প্রচারের ঢাক পেটাক, সেই প্রকল্প যে পরিবেশের জন্য মোটেই সুবিধাজনক নয়, তা কোনো ভণিতা না করেই স্পষ্ট করেছেন যোশি। বলেছেন, ‘আমি সর্বোচ্চ স্তরে খোঁজ করেছি। আমাকে বলা হয়েছে, ওই রাস্তা সেনাবাহিনীর প্রয়োজনে নয়। আমি একথা বলছি না যে, উন্নয়ন উচিত নয়। আমার বক্তব্য, উন্নয়ন সুসংগত হওয়া উচিত এবং পরিবেশের দিকটাও বিবেচনা করা দরকার। সম্প্রতি বদ্রীনাথ মন্দিরে যেভাবে ডিসকোর ধাঁচে অনুষ্ঠান হয়েছে, তা আমাদের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের পরিপন্থী।’ বিরোধীদের বক্তব্য, যোশির একথা বলা সাজে। কারণ, রামমন্দির আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। তাই অযোধ্যায় প্রণামি চুরি নিয়েও সরব হয়েছেন যোশি। তাঁর সাফ কথা, ‘ট্রাস্ট কে তৈরি করেছিল? সরকার। তাই ট্রাস্টে যা হচ্ছে তা সরকারের দায়িত্ব।’
সমালোচনার সুর আরও চড়িয়ে যোশি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, দেশ পথভ্রষ্ট। কিন্তু ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমাদের দেশ যখনই তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখনই নিজেকে ফিরিয়ে এনেছে সঠিক পথে। আমরা বরাবরই আমাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। এবারও সেটাই হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ