নয়াদিল্লি: ‘সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তাই এসআইআর।’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে যখন গোটা দেশ তোলপাড়, এভাবেই আক্রমণ ধেয়ে এল বিজেপির খাস অন্দরমহল থেকে। কারণ, এই বিস্ফোরক মন্তব্য বাজপেয়ি জমানার গুরুত্বপূর্ণ মুখ ও মন্ত্রী মুরলী মনোহর যোশির। এখানেই শেষ নয়। জেন জি আন্দোলন, বেকারত্ব, কিংবা রামমন্দিরে প্রণামি চুরি... সব ইস্যুতেই চাঁছাছোলা ভাষায় মোদি সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলে দিয়েছেন বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘একচ্ছত্র ক্ষমতা লাভে’র পর লালকৃষ্ণ আদবানির মতো যোশিরও ঠাঁই হয়েছে ‘মার্গদর্শক’ ক্যাটিগরিতে। অর্থাৎ, দলের কাজকর্ম থেকে অবসর এবং পরামর্শদাতা হিসাবে ‘মাথার উপর বসে থাকা’। কিন্তু রাজনীতির দরবারে তাঁর এক একটি মন্তব্য এখনও তোলপাড় ফেলে দেয়। এবারও সেটাই হয়েছে। ‘দ্য হিন্দু’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ বলেছেন, ‘সব সরকারই ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। এটাই কঠিন বাস্তব।’ আর ক্ষমতা দখলের চেষ্টার নামই যে এসআইআর, সেটাও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়েছেন তিনি। সঙ্গে বলেছেন, ‘ডিলিমিটেশন ইস্যুও তো তাই! ২০০০ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ির আমলে আসন পুনর্বিন্যাস পিছনে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। কারণ, আমরাও ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলাম। ১৯৭৬ সালেও নেপথ্য কারণ সেই একই ছিল।’ গণতন্ত্র বিপন্ন বলে গোটা দেশে যখন বিরোধীরা আওয়াজ তুলছে, তখন যোশির বক্তব্য, ‘গণতন্ত্রই হল সরকার পরিচালনার সর্বোত্তম রূপ। তবে তার জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ হতে হয়। সরকারকে জবাবদিহি করতে হয়। স্বচ্ছ থাকতে হয় আমলাতন্ত্রকে। আস্থা না থাকলে ভালো জিনিসও মানুষ গ্রহণ করবে না। প্রতিবাদের আবহ তৈরি হলে তার সমাধান করতে হয়। লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে পড়লে কাজ হয় না।’


