


সংবাদদাতা, মানকর: আদিবাসী মহিলাদের স্বনির্ভরতার স্বপ্ন নিয়ে তৃণমূল আমলে কাঁকসার বনকাটির দেউলে ‘ডে সেন্টার’ তৈরি হয়েছিল। অনেকেই আশা করেছিলেন শালপাতা দিয়ে তৈরি থালা, বাটি বানিয়ে বিক্রি হবে নিজেদের এলাকাতেই। মহাজনকে আর কম টাকায় সেসব জিনিস বিক্রি করতে হবে না। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণ হয়নি। আজ, বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথমবার দুর্গাপুর আসছেন। স্থানীয়দের আশা, জঙ্গলমহল এলাকার এই সমস্যা নিশ্চয় তাঁর নজরে আনা হবে। আশায় বুক বাঁধছে আদিবাসী সমাজ।
স্থানীয়রা বলেন, এই গড় জঙ্গলে তৎকালীন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে দেউল ডে সেন্টারের উদ্বোধন করেছিলেন। প্রতিশ্রুতি ছিল, এই কেন্দ্রকে ঘিরেই গড়ে উঠবে শালপাতার ক্লাস্টার। স্থানীয়রা ভেবেছিলেন, এই সেন্টার চালু হলে কর্মসংস্থান বাড়বে। স্বনির্ভর হবেন জঙ্গলমহলের কয়েক হাজার মানুষ। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে পেরোলেও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। ফলে ডে সেন্টারটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। উৎপাদন নেই। বিপণনের ব্যবস্থাও নেই। ফলে আগের মতোই আদিবাসী মহিলারা জঙ্গল থেকে শালপাতা সংগ্রহ করে হাতেই তৈরি করছেন থালা-বাটি। কখনও তা বহু দূরে গিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। কখনও স্বল্প দামে মহাজনের হাতে তুলে দিতে হচ্ছে।
বনকাটি এলাকার বাসিন্দা সুমি টুডু, লক্ষ্মী হেমব্রমরা বলেন, এখানে যেটা করা হয়েছিল, সেটার কোনো কাজই হল না। আমাদের কষ্ট কমেনি। জঙ্গল থেকে শালপাতা তুলে থালা, বাটি তৈরি করি। পরে দুর্গাপুর, ১১ মাইল, পানাগড়, বুদবুদ সহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিক্রি করতে হয়। যদি এখানে বিক্রির ব্যবস্থা হত, তাহলে আমাদের অনেক সুবিধা হত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটের কয়েক মাস আগে দুর্গাপুরে তৎকালীন বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদাও এই সেন্টার খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও পূরণ হয়নি। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী আসার খবর শুনে আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সিপিএম নেতা অলোক ভট্টাচার্য বলেন, তৃণমূল জমানায় এই রকম প্রচুর সেন্টার বন্ধ হয়েছে। তাছাড়া আদিবাসীদের হস্টেলগুলিও বন্ধের মুখে। এই সরকারের আদিবাসীদের শিক্ষার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিজেপি নেতা অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এটা খুবই ভাল প্রকল্প ছিল। কিন্তু তৃণমূলের দুর্নীতির জন্য প্রকল্পের এই দুরবস্থা। এখন শালপাতার ব্যবহার বেড়েছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মানুষের কাছে পৌঁছালে সবাই উপকৃত হবেন। আমাদের সরকার এই জনমুখী প্রকল্পকে অবশ্যই বাস্তবায়ন করবে।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আদিবাসী মহিলাদের উন্নয়নের জন্য তৈরি করা কাঁকসার দেউলে ডে সেন্টার।