


ব্রতীন দাস, শিলিগুড়ি: কাটমানি ও সিন্ডিকেটরাজ চলবে না। উত্তরবঙ্গ সফরে এসে অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। বুধবার মিনি সচিবালয় উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর সাফ বার্তা, সরকারি প্রকল্পের কাজে কোথাও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠলে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। সেইসঙ্গে কোথাও সিন্ডিকেটরাজের অভিযোগ পেলে তা বন্ধে যাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সে ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে উত্তরের সামগ্রিক উন্নয়ন সহ নানা ইস্যুতে আলোচনা হলেও দুর্নীতি-মুক্ত প্রশাসনের উপরই জোর দেন শুভেন্দু। বৈঠকে উপস্থিত আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফেরানোই তাঁর লক্ষ্য বলে এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেক্ষেত্রে প্রশাসনের কারও বিরুদ্ধে যদি অনিয়মে মদতের অভিযোগ ওঠে, তাঁকেও কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
সূত্রের খবর, তৃণমূল জমানায় উত্তরবঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোথায়, কী দুর্নীতি হয়েছে, তা খুঁজে বের করে দ্রুত তদন্ত শুরুর জন্য এদিন প্রশাসনকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। শিলিগুড়ি পুরসভার কাজকর্মে ব্যাপক অনিয়মের হদিশ মিলেছে বলে এদিন বৈঠকে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এনিয়ে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে শিলিগুড়িতে এসে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু।
দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, ‘এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি প্রকল্পের কাজে কোনোরকম কাটমানি, সিন্ডিকেটরাজ চলবে না। বালিপাচার, গোরুপাচার সহ যত বেআইনি কারবার এতদিন চলে এসেছে, সব বন্ধ করতে হবে। মাদকচক্রের বিরুদ্ধে নিতে হবে কড়া পদক্ষেপ। এ ব্যাপারে পুলিশ-প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি নিতে বলেছেন তিনি। পাশাপাশি তৃণমূল জমানায় যেসব দুর্নীতি হয়েছে, প্রতিটির তদন্ত করতে হবে। শিলিগুড়ি পুরসভাতেও বড়সড় দুর্নীতি হয়েছে। এসজেডিএ’র দুর্নীতি নিয়েও ফাইল খুলবে। পাহাড়ে জিটিএ দুর্নীতি নিয়ে আমার কাছেও অনেক তথ্য রয়েছে। সব মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেব।’
কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও কালিম্পং—এই পাঁচ জেলা নিয়ে এদিন উত্তরকন্যায় বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি জানিয়ে দেন, বিধায়ক-সাংসদদের সঙ্গে নিয়ে সমন্বয়ের ভিত্তিতে উন্নয়নের কাজ করতে হবে। সামনেই বর্ষার মরশুম। ফলে বিপর্যয় মোকাবিলায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর হাল ফেরানোর কথা বলেন। রাজ্যের নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট না মেলায় রেল সহ কেন্দ্রের যেসব পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ এতদিন আটকে ছিল, তা দ্রুত শুরু করতে প্রশাসনকে এনওসি দেওয়ার ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে বলেন। জানিয়ে দেন, সীমান্ত এলাকায় উন্নয়নে জোর দিতে হবে। অসমের মডেলে উত্তরের চা বাগানের উন্নয়নের কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী, এমনটাই দাবি শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষের। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে শিলিগুড়িকে পৃথক প্রশাসনিক জেলা করার দাবি জানান মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মন। একইসঙ্গে নকশালবাড়ি, খড়িবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়া থানাকে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের অধীনে আনার দাবি জানান তিনি।