


শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: ভুয়ো দলিল দিয়ে রেজিস্ট্রি করা প্রায় আড়াই কোটির সম্পত্তি কব্জা করার ঘটনায় তৃণমূল নেতা চঞ্চল খাঁড়া ও প্রদীপ দে-র বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। এরফলে আরও বিপাকে পড়লেন এই মুহূর্তে পুলিশ হেপাজতে থাকা তমলুক পুরসভার কাউন্সিলার তথা তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি চঞ্চল। একইসঙ্গে তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা সভাধিপতি ঘনিষ্ঠ নন্দকুমারের নেতা প্রদীপের গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। গোটা ঘটনায় তমলুক শহরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
গত ১৬মে সন্ধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে তমলুক থানায় এফআইআর করেছেন জেলা সদরের ধারিন্দার বাসিন্দা অশেষকুমার খাঁড়ার স্ত্রী ছবিরানি খাঁড়া। তাঁর অভিযোগ, তাঁর প্রয়াত মা পুষ্পরানি সামন্তের নামে তমলুক শহরের হাসপাতাল মোড়ে সাড়ে চার ডেসিমল জমি ও তার উপর তিনতলা বাড়ি আছে। বহুমূল্য ওই সম্পত্তি ভুয়ো দলিল দিয়ে রেজিস্ট্রি হয়। তারপর হাত বদল হয়ে তা চঞ্চল খাঁড়া ও প্রদীপ দে কব্জা করেন। ভূমিদপ্তর এনিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেছে। ২০২৩সালে ওই জমির মালিকানা তাঁর প্রয়াত মা পুষ্পরানিদেবীর অনুকূলে ফেরানো হয়। জাল দলিলে রেজিস্ট্রির ঘটনায় ২০২৩সালে ১৪ডিসেম্বর তমলুকের ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার অফিসার তমলুক থানায় এফআইআর করেন। এতকিছুর পরও চঞ্চল ও প্রদীপ হাসপাতাল মোড়ে ওই জমি ও বাড়ি জবরদখল করে রেখেছেন। প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর চঞ্চল ১৫মে গ্রেপ্তার হন। তারপর সাহস পেয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেছেন ছবিরানিদেবী।
তমলুক শহরের হাসপাতাল মোড় সংলগ্ন ১০০২নম্বর প্লটে সাড়ে চার শতক জমির উপর তিনতলা বাড়ি রয়েছে। নন্দকুমার ব্লকের ঠেকুয়াচকের বাসিন্দা পুষ্পরানি সামন্ত ওই জমির মালিক। সেই জমি ভুয়ো দলিলে রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ ওঠে ওই গ্রামেরই বাসিন্দা গোবিন্দ করণের বিরুদ্ধে। ২০০৪সালে গোবিন্দ করণ ভুয়ো দলিলে ওই জমি রাজভবন সংলগ্ন অ্যাডিশনাল রেজিস্ট্রার অব অ্যাসুরেন্স-৩ অফিসে রেজিস্ট্রি করে নেন। তারপর গোবিন্দ সেই জমি তমলুক শহরের ধারাবল্লভপুরে তাঁর মেয়ে আরতি মাইতিকে দানপত্র করেন। আরতির কাছ থেকে ওই জমি কেনেন চঞ্চল খাঁড়া ও প্রদীপ দে। ভূমিদপ্তর তদন্ত শেষে জমির মালিকানা পুষ্পরানিদেবীর অনুকূলে ফেরানোর পরও দখল ছাড়েননি চঞ্চল ও প্রদীপ। পুষ্পরানিদেবী মারা গিয়েছেন। তাঁর ছেলে সমীরকুমার সামন্ত বর্তমানে নিউটাউনে থাকেন। তিনিই প্রথম অভিযোগ করেছিলেন, ভুয়ো ডিডের মাধ্যমে তাঁদের জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে। এনিয়ে ভূমিদপ্তরে অভিযোগ করেন। শুনানিতে দেখা যায়, সমীরবাবুর অভিযোগ সঠিক। জমির মালিকানা পুষ্পরানিদেবীর নামে থাকা সত্ত্বেও তা ছিল চঞ্চল ও প্রদীপের নিয়ন্ত্রণে। সেই জমি ফিরে পেতে থানায় এফআইআর করেছেন ছবিরানি খাঁড়া। তিনি চঞ্চল, প্রদীপ ছাড়াও গোবিন্দ করণ ও তাঁর মেয়ে আরতি মাইতির নামেও এফআইআর করেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। চঞ্চল এখন পুলিশ হেপাজতে। তাঁকে ওই কেসে যুক্ত করা হচ্ছে।
ছবিরানিদেবী বলেন, মায়ের অবর্তমানে উত্তরাধিকার সূত্রে ওই জমির মালিক আমরা ভাইবোনেরা। কিন্তু, চঞ্চল খাঁড়া ও প্রদীপ দে দখলদারি ছাড়ছেন না। প্রদীপ দে বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই জমি কিনেছিলাম। এনিয়ে থানায় এফআইআর হয়েছে বলে জেনেছি। আইনি পথে মোকাবিলা হবে।