


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আজ বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হয়ে শুভেন্দুর এই প্রথম শিল্পাঞ্চল সফরের দিকে তাকিয়ে বণিকমহল। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একগুচ্ছ প্রত্যাশা রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপতিদের। তাঁদের দাবি, আগে কোনো শিল্প বা ফ্যাক্টরি স্থাপন করলে সরকারের পক্ষ থেকে ইনসেনটিভ দেওয়া হতো। সেই সুবিধা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। শিল্পপতিরা রাজ্যে বিনিয়োগ না করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় কারণ। তাঁদের দ্বিতীয় প্রত্যাশা, শিল্পাঞ্চলে বন্ধ কারখানার জমিগুলি নতুন শিল্প গড়ার জন্য দেওয়া হোক। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিল্পাঞ্চলে দাঁড়িয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বার্তা দিক। চাইছেন রানিগঞ্জ, আসানসোল, দুর্গাপুরের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বিজেপি সরকারের একটি সিদ্ধান্তকে ইতিমধ্যেই স্বাগত জানিয়েছেন। তৃণমূল সরকারের আমলে থাকা ল্যান্ড সিলিং তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে একজন ব্যবসায়ী একলপ্তে অনেকটা জমি অধিগ্রহণ করতে পারবেন। সরকারের জমি-নীতির ক্ষেত্রে যা অন্তরায় ছিল। এভাবেই ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের প্রত্যাশার পারদ চড়েছে শুভেন্দুর দক্ষিণবঙ্গের সফর ঘিরে।
রানিগঞ্জের বর্ষীয়ান শিল্পপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ খৈতান বলেন, ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে শিল্প গড়লে সরকার যে ইনসেনটিভ দিত বিগত সরকার তা তুলে দিয়েছে। রাজ্যে শিল্প না হওয়ার পেছনে এই সিদ্ধান্ত অনেকাংশে দায়ী। আমরা চাইব, পুনরায় ইনসেনটিভ স্কিম চালু করুক নতুন রাজ্য সরকার।
দুর্গাপুর স্মল ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রতন আগারওয়াল বলেন, বন্ধ কারখানার জমিগুলি নতুন উদ্যোগপতিদের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স সহ বিভিন্ন সরকারি ছাড়পত্র পেতে হয়রানি কমাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী যেন এই বিষয়গুলির উপর বাড়তি নজর দেন।
বিগত সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে থাকতেন সেই অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়িক সংগঠনের কর্তাব্যক্তিরা এখনও পর্যন্ত যা সিদ্ধান্ত রয়েছে, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে তাঁরা থাকছেন না। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন পূর্ব-পশ্চিম বর্ধমান বা বীরভূম বাঁকুড়া পুরুলিয়ার জেলার জেলা প্রশাসনের কর্তারা, জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা পাশাপাশি বিডিও এবং ওসিআইসিরা। এছাড়াও এই পাঁচ জেলার নবনির্বাচিত বিধায়কদের ডাকা হয়েছে। ডাকা হয়েছে এই এলাকার এমপিদেরও। শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা একটি পোট্রেট মুখ্যমন্ত্রীকে উপহার দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক ঘিরে দুর্গাপুর জুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কলকাতা থেকে বিশেষ বিমানে অন্ডাল বিমানবন্দর আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই সড়কপথে দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেবেন। দুর্গাপুরের ডিএমসি মোড় থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা তাঁকে বরণ করবেন। বিজেপির দাবি, সেখান থেকে প্রেক্ষাগৃহ পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা থাকবেন। দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রায় ৩০ হাজার কর্মী-সমর্থক মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন।