নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কেন দেওয়া হবে আজীবন রক্ষাকবচ? এই প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হওয়ায় মোদি সরকারকে জবাবদিহির নোটিস ইস্যু করল শীর্ষ আদালত। নির্বাচন কমিশনেরও এ ব্যাপারে কী বলার আছে, তাও জানাতে চাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ভোট চুরির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার হটাও আন্দোলনের খবর করতে গিয়ে মহিলা সাংবাদিকদের একাংশকে পুলিশি হেনস্তার অভিযোগ ওঠায় সর্বোচ্চ আদালত ক্ষুব্ধ।
এ ব্যাপারে আগামী বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে দিল্লি পুলিশের বড় কর্তাদের সশরীরে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দিল দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চ। জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে প্রতিবাদে উত্তাল দিল্লি সামাল দিতে পুলিশ ব্যর্থ। আদালতের নির্দেশও মানেনি বলেই অভিযোগ। এদিন সেই মামলার বিস্তারিত শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিচারপতি ভি মোহনার জ্বর হওয়ায় শরীর ভালো নেই বলেই জানান। তাই মামলাটি আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালে সংসদে পাশ হয়ে আইনে পরিণত হওয়া দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং দুই কমিশনারের রক্ষাকবচ রয়েছে। আজীবন। আইনের ১৬ ধারার বৈধতা নিয়ে সওয়াল করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিএআর)। এদিন সেই মামলার শুনানিতেই কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের জবাব চেয়েছে শীর্ষ আদালত। এডিআরের পক্ষে আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন বলেন, ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইনের ১৬ নম্বর ধারাকে অসাংবিধানিক, অবৈধ ঘোষণা করা হোক। এটি সংবিধানের ১৪ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী। তাছাড়া সংসদে এই বিলটি যখন পাশ হয়েছিল, সেই সময় বিরোধী সাংসদের সিংহভাগকেই সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে সরকার জোর করে এই বিল পাশ করিয়ে আইন তৈরি করেছে।



