Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ইরান ইস্যুতে চরম সংঘাতে রাশিয়া-আমেরিকা

ইরান ইস্যুতে এবার রাশিয়া ও আমেরিকার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খামেনেই সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরতদের সাহায্য পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরান ইস্যুতে চরম সংঘাতে রাশিয়া-আমেরিকা
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০১
Prefer us on Google

তেহরান: ইরান ইস্যুতে এবার রাশিয়া ও আমেরিকার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খামেনেই সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরতদের সাহায্য পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই বিধ্বংসী পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। এরই মধ্যে অশান্ত ইরানে এখনও পর্যন্ত দু’হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন এক আধিকারিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আধিকারিক বলেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকর্মী এবং বিক্ষোভকারী মিলিয়ে এই বিপুল মৃত্যুর পিছনে রয়েছে জঙ্গিরা। দু’সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে ইরানে। মঙ্গলবারই প্রথম মৃত্যুর সংখ্যা জানাল প্রশাসন। তবে কতজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে, তা খোলসা করেননি তিনি।তবে তারই মধ্যে এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতবাহী বার্তা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, ‘দেশভক্ত ইরানবাসী, প্রতিবাদ বজায় রাখুন— নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলির দখল নিন! খুনি ও হেনস্তাকারীদের নাম মনে গেঁথে রাখুন। তাদের বড় মূল্য চোকাতে হবে। প্রতিবাদকারীদের এই হত্যালীলা না থামা পর্যন্ত ইরানীয় আধিকারিকদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করছি। সাহায্য আসছে। মেক ইরান গ্রেট এগেইন।’ তাহলে কি অবশেষে ইরানে সামরিক অভিযানের পথেই হাঁটছে আমেরিকা। ট্রাম্পের বার্তায় জল্পনা তুঙ্গে। ট্রাম্পের বার্তার পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে রাশিয়া। রুশ বিদেশ মন্ত্রকের তরফে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের উপর হামলার হুমকি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। আমেরিকাকে এর বিধ্বংসী পরিণতির জন্য সচেতন থাকতে হবে। তেহরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপকে ধ্বংসাত্মক বহিরাগত হস্তক্ষেপ বলে চিহ্নিত করেছে রুশ বিদেশ মন্ত্রক।

Advertisement

১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পর ইরানে কায়েম রয়েছে ধর্মীয় সরকার। ৪৬ বছরে এতবড় বিক্ষোভ দেখেনি দেশ। তবে এই বিক্ষোভের পিছনে ইজরায়েল এবং আমেরিকার ইন্ধন দেখছে সরকার। তাদের মতে, এই দুই দেশের মদতপুষ্ট জঙ্গিরা এখন বিক্ষোভকে ‘হাইজ্যাক’ করে নিয়েছে। 
এরমধ্যেই বিক্ষোভকারীদের প্রতি নরম মনোভাব দেখাতে শুরু করেছে প্রশাসন। তিনদিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার থেকে স্থানীয়দের জন্য বিদেশে ফোন করার আংশিক ছাড়পত্র মিলেছে। তেহরানের অনেকেই এপির সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন। তবে দুবাইস্থিত এপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ওই নাম্বারগুলিতে কল ব্যাক করতে পারেননি তাঁরা। এসএমএস পরিষেবা এখনও বন্ধ রয়েছে। সরকার অনুমোদিত ওয়েবসাইটগুলি ব্যবহারের অনুমোদন মিলেছে। গত চারদিন ধরে বহির্বিশ্বের সঙ্গে প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল তেহরান। ফোন কলের মাধ্যমেই সেই দেশের চিত্র সামনে এসেছে। অনেকেই জানিয়েছেন, সেন্ট্রাল তেহরানে বিপুল সেনা মজুত রয়েছে। হেলমেট পরে রাস্তায় টহল দিচ্ছেন অ্যান্টি রায়ট পুলিশের আধিকারিকরা। লাঠি, শটগান এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিয়ে বিক্ষোভ থামাতে হাজির তাঁরা। বিক্ষোভ থামাতে একই রকম তৎপর রেভেলিউশনারি গার্ডের বাসিজ ফোর্স। সাদা পোশাকে জনগণের মধ্যে মিশে রয়েছেন নিরাপত্তা আধিকারিকরাও। দোকান-বাজার খুলে গিয়েছে। তবে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, সব কিছু স্বাভাবিক প্রমাণ করতে তাঁদের দোকান খুলে রাখতে বাধ্য করছে প্রশাসন। 
এই অবস্থায় সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে হাটে-বাজারে। মাহমুদ নামে এক মুদির দোকানদার বলেন, ‘ক্রেতারা এসে ট্রাম্পের সেনা অভিযান নিয়ে কথা বলছেন। তবে আমার মনে হয়, ট্রাম্প বা অন্যদের ইরানের মানুষের ভালো-মন্দ নিয়ে কোনও আগ্রহ রয়েছে।’ রেজা নামে এক ট্যাক্সিচালক বলেন, ‘যুবকরা ভালোর আশা ছেড়ে দিয়েছে। তবে তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।’ 
কোন অঙ্কে ইরান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে? মার্কিন হস্তক্ষেপেই কি মিলবে সমাধান সূত্র? এ প্রশ্ন এখন সর্বত্র। কয়েকদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে ইরানের কথা হয়েছে। মঙ্গলবার ইরান সেই দাবির সত্যতা মেনে নিল। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগাছি জানিয়েছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভ শুরুর আগে থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে। এখনও আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে ওয়াশিংটনের দেওয়া সমাধানসূত্র বা হুমকি মেনে নেওয়া যায় না।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ