নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বীরভূমের পাথর ও বালি মাফিয়া টুলু মণ্ডলের টাকা উদ্ধারের ঘটনা প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে রাজ্যের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য। এ নিয়ে এদিন নবান্নের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে পূর্বতন সরকার এবং তার শীর্ষ মহলকে কার্যত তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি, শুধুমাত্র বীরভূমে পাথর বালির চোরাকারবারের জেরে আগের সরকারের আমলে ১৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ করলেন। একই সঙ্গে এই ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’ পূর্বতন সরকারের শীর্ষ মহলের ‘সাপোর্ট’ ছাড়া হওয়া সম্ভব নয় বলেও এদিন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘একটা আইটেমে একটা জেলায় অন্তত ১০০০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি গিয়েছে। অর্থাৎ গত ১৫ বছর যারা সরকার চালিয়েছেন শুধু একটা জেলা থেকে একটা আইটেমের উপরেই ১৫ হাজার কোটি টাকা রেভিনিউ লস করিয়েছেন। এই টাকা আদায় হলে তা দিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন করতে পারতেন, বহু বেকারকে চাকরি দিতে পারতেন—সেই সুযোগ নষ্ট করা হয়েছে। তাই মূল যে ‘লাভার্থী’ তাকেও আমরা খুঁজে বের করার জন্য যা যা করার এবং যতদূর যাওয়ার আমরা যাব।’ এর রেশ ধরে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী, ‘সরকারের সাপোর্ট ছাড়া এমন অর্গানাইজড ক্রাইম হতে পারে না। যিনি লিড করেছেন—রেসপন্সিবিলিটি গোজ টু হার অলসো।’
এদিন গত দু-মাসে রাজ্যের রাজস্ব ১২ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ব্যাপারে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রীর পাশে ছিলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। আর্থিক বছরের শেষে এই বৃদ্ধি ২০ শতাংশ হবে বলেও আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু। মূলত ‘লিকেজ’ বা রাজস্ব ফাঁকি আটকেই রাজ্যের কোষাগারে বেশি অর্থ জমা পড়েছে বলেই মুখ্যমন্ত্রীর দাবি। কিন্তু, পূর্বতন সরকারের আমলে রাজস্ব ফাঁকির দায় কার? এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের জড়িত থাকার কথা বলেও, মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি, ‘এতে রেজিস্ট্রি অফিস, মোটর ভেহিকেলস, লোকাল পুলিশ, লোকাল পঞ্চায়েত, মিনারেলস কর্পোরেশন, ল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট যুক্ত আছে। কিন্তু ‘হায়েস্ট লেভেল’ থেকে ‘মিস্টার মণ্ডল ইজ আওয়ার ম্যান’ বলে নির্দেশ না গেলে সবাই চোখ বন্ধ করে রাখত না। তাই আধিকারিকদের দোষ দিয়ে লাভ কী? তাও বলছি, ওঁদেরও কারও কোনো ভূমিকা থাকলে যা অ্যাকশন নেওয়ার আমরা নেব। ওঁদেরকেও ছাড় দিচ্ছি না।’
টাকা উদ্ধার প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই পাথর-বালি বাবদ রাজস্ব আদায়ের ফারাকটাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, আগের সরকারের আমলে ১০০ কোটি টাকা সরকারের ঘরে জমা পড়ত আর ১১০০ কোটি টাকা বেরিয়ে যেত, যা এবার আসতে শুরু করেছে।