Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেলের কাছে বকেয়া প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা

রেলের কাছে বকেয়া প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পরিষেবার ক্ষেত্রে খামতি নেই। জল সরবরাহ থেকে পরিচ্ছন্নতা, স্ট্রিটলাইট, সবদিকেই খেয়াল রাখে পুরসভা। কিন্তু, পরিষেবা কর বাবদ কোনও অর্থ মিলছে না রেলের কাছ থেকে। রামপুরহাট পুরসভার তরফে জানা গিয়েছে, রেলের তরফে ১৯৯৫সালে শেষবারের মতো কর জমা দেওয়া হয়েছিল। তারপর ২৯বছর কেটে গেলেও কর বাবদ এক টাকাও জমা পড়েনি রেলের তরফে। ফলে বকেয়া প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ছুঁতে চলেছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে শহরের প্রধান ডাকঘরের কাছ থেকেও মিলছে না পুরকর। 

Advertisement

পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত বলেন, অস্থায়ী কর্মীদের বেতন ও শহরের উন্নয়নের কাজে বিপুল টাকা প্রয়োজন। কিন্তু রেল ও ডাক বিভাগকে বারবার চিঠি দিয়ে তাগাদা করা হলেও বকেয়া কর মেটানো হচ্ছে না। কয়েক মাস আগে আরও একটি চিঠি পাঠিয়ে যত শীঘ্র সম্ভব বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও উত্তর মেলেনি।
রামপুরহাট শহরের প্রায় অর্ধেক অংশজুড়ে রেলের জায়গা। পুরসভার ১, ৪, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে রেলের প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে। তারমধ্যে যেমন কোয়ার্টার আছে, তেমনই রাস্তাঘাট, নর্দমা রয়েছে। রেল তাদের কোয়ার্টারগুলিতে জল সরবরাহ করে ঠিকই। কিন্তু একটিও রাস্তায় পয়েন্ট নেই। প্ল্যাটফর্মের বাইরেও যাত্রীদের জন্য পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থা নেই। পুরসভার জল পান করেন হাজার হাজার যাত্রী। তেমনই যাত্রীদের ফেলে যাওয়া খাবারের প্যাকেট, জলের বোতলে রাস্তাঘাট নোংরা ও নিকাশি নালা বু঩জে আসে। সেগুলি নিয়মিত সাফাই করতে হয় পুরসভাকে। অন্যদিকে, রয়েছে পথবাতি। পুরসভার রাস্তা ব্যবহার করেই যাত্রীরা রামপুরহাট জংশন যাওয়া আসা করেন। প্ল্যাটফর্মের বাইরে নেই কোনও শৌচাগার। পুর এলাকায় থাকা শৌচাগারগুলি ব্যবহার করেন যাত্রীরা। এসবের জন্য তিন মাস অন্তর প্রায় দু’লক্ষ টাকা করে কর দেওয়ার কথা রেলের। কিন্তু গত ২৯বছর ধরে সেই কর দিচ্ছে না রেল। ফলে জমতে জমতে বকেয়া করের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭লক্ষ ৬৫ হাজার ৬০৩ টাকা। শহরের প্রাণকেন্দ্র পাঁচামাথা মোড়ে প্রধান ডাকঘরটি রয়েছে। তাদের তরফেও জমা দেওয়া হচ্ছে না কর। পুরসভার দাবি, তিন মাস অন্তর ডাকঘরের তরফে পুরসভায় পরিষেবা কর বাবদ ২৬ হাজার ১০০টাকা করে জমা দেওয়ার কথা। ২০বছর ধরে কর না দেওয়ায় বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ৯৯ হাজার ৫১৫ টাকা। চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সারা বছর রেল ও ডাকঘরকে নানা ধরনের পরিষেবা দিই। ডাকঘরের কাগজপত্র সহ নোংরা ফেলার কোনও জায়গা নেই। সেগুলি রাস্তায় অথবা নর্দমায় ফেলা হচ্ছে। পুরসভার তরফ থেকে সেগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে। কিন্তু এই পরিষেবার বিনিময়ে যে কর আমাদের প্রাপ্য তা দীর্ঘদিন মেলেনি। চিঠি দিলেও তার উত্তরটুকুও দেওয়া হয় না। একটা বড় অঙ্কের টাকা পুরসভার তহবিলে দীর্ঘদিন ধরে জমা পড়ছে না। সম্পত্তি করও জমা দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুর পরিষেবার খরচ বাড়ছে। বিষয়টি রাজ্য পুরদপ্তরে জানিয়েছি। 
এব্যাপারে রামপুরহাট স্টেশনের ম্যানেজার হাদিউজ্জামান বলেন, এবিষয়ে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ নেবে। অন্যদিকে জেলা অ্যাসিট্যান্ট পোস্টাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট কুশল মাহালি বলেন, এব্যাপারে কিছু বলার অধিকার আমার নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এগুলো দেখে। পুরসভার পক্ষ থেকে অবশ্য সাফ জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই রেল ও ডাকঘর কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে হেয়ারিংয়ে ডাকা হবে। তারপরও কর না মিললে পরিষেবা দেওয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ