নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: এ রাজ্যে সরকার কাজের ব্যবস্থা করতে না পারায় শ্রমিকরা বিজেপি শাসিত রাজ্যে যান বলে পদ্ম শিবিরের লোকজন তৃণমূলকে প্রায়ই আক্রমণ করে। তবে বাঁকুড়ায় উল্টো চিত্র চোখে পড়েছে। ডবল ইঞ্জিন উত্তরপ্রদেশ থেকে ভাগ্নেকে নিয়ে রুজির টানে জঙ্গলমহলের জেলায় ডেরা বেঁধেছেন রাজু কলাকার। বছর পঁয়তাল্লিশের রাজু ও তাঁর ভাগ্নে বহুরূপী সেজে জেলাবাসীর মনোরঞ্জন করেন। তাতে দু’জনের ভালো রোজগার হয়। লালমাটির জেলায় দিন গুজরানের পর বেঁচে যাওয়া অর্থ বাড়িতে পাঠান। সেই টাকায় তাঁদের সংসার চলে। অন্যান্যবার রাজু একাই আসেন। এবার শরীর কিছুটা খারাপ থাকায় সঙ্গে ভাগ্নেকেও নিয়ে এসেছেন।
সোমবার বাঁকুড়া শহরের মাচানতলার গোলপার্ক মার্কেটের দোকানে দোকানে জোকার সেজে অঙ্গভঙ্গী করছিলেন রাজু। বহুরূপী সাজা নিয়ে প্রশ্ন করতেই গড়গড় করে হিন্দিতে নিজের কথা বলে চলেন ওই ব্যক্তি। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরে তাঁদের বাড়ি। জৌনপুর শহরের তুলনায় বাঁকুড়া অনেক শান্ত জায়গা। দোকান বা বাড়িতে বহুরূপী সেজে গেলে এখানকার মানুষজন ফিরিয়ে দেয় না। নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য করে। এর আগেও একাধিকবার বাঁকুড়ায় এসেছেন রাজু। এবার বাঁকুড়া শহরের ইদগাহ মহল্লায় বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন। সেখান থেকে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় বহুরূপী সেজে মানুষকে আনন্দ দিচ্ছেন। আপাতত একমাস বাঁকুড়ায় থাকবেন। পরে অন্য কোনও জেলায় গিয়ে ডেরা বাঁধবেন।
আলোর উৎসব দীপাবলিতে সারা দেশ আনন্দে মেতে উঠেছে। এই সময়ে পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে ভিন রাজ্যে থাকতে কেমন লাগে? প্রশ্ন শুনেই রাজুর চোখের পাতা ভিজে গেল। ধরা গলায় তিনি বললেন, উৎসবে বাড়ি ছেড়ে দূরে থাকতে কেই বা চায় বলুন। নিজের শহরে কাজ থাকলে কি আর এত দূরে এসে পড়ে থাকতাম? পরিবারের সদস্যরাও বুঝতে পারেন। আমি টাকা না পাঠালে তারা খেতে পাবে না। সন্তানরা দেওয়ালিতে আনন্দ করছে শুনে কিছুটা ভালো লাগে। মনকে সান্ত্বনা দিই। তবে যে ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে মানুষের কোনও কষ্ট নেই বলে প্রচার করা হয়? উত্তরে রাজুর ভাগ্নে বলেন, দূর থেকে সরষে ফুল ঘন লাগে। অনেক লম্বাচওড়া কথাও বলা যায়। কিন্তু যাঁরা ডবল ইঞ্জিনের রাজ্যে থাকেন, তাঁরাই প্রকৃত সত্যটা উপলব্ধি করতে পারেন।
বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা গৌতম কর্মকার, মৃদুল দাস বলেন, আমরা রাজুকে আগেও নানা সাজে শহরের দরজায় দরজায় ঘুরতে দেখেছি। শরৎচন্দ্রের শ্রীনাথ বহুরূপীর মতোই সে বিভিন্ন দিনে ভিন্ন ভিন্ন ‘অবতারে’ ডেরা থেকে সেজে বের হয়। তারপর শহর ও সংলগ্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়।