Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিজের রাজ্যে কাজ নেই, বেলুন নিয়ে মেদিনীপুরে রাজস্থানের বিক্রেতারা

বিজেপির বহুল প্রচারিত ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলির ছোট ব্যবসায়ীরা পুজোর মরশুমে বাংলাকেই বেছে নিচ্ছেন ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে।

নিজের রাজ্যে কাজ নেই, বেলুন নিয়ে মেদিনীপুরে রাজস্থানের বিক্রেতারা
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বিজেপির বহুল প্রচারিত ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলির ছোট ব্যবসায়ীরা পুজোর মরশুমে বাংলাকেই বেছে নিচ্ছেন ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে। এবছর রাজস্থান থেকে একদল ব্যবসায়ী এসেছেন বেলুন বিক্রি করতে। তাঁরা শালবনী, গড়বেতা সহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বলুন বিক্রি করছেন। বাংলায় কেন, প্রশ্ন করায় তাঁরা বলছেন, আমাদের রাজ্যে ধান্দা নেই। তাই এত দূর আসতে হয়েছে। এখানে বিক্রি ভালোই হচ্ছে। ফেস্টিভ্যাল এলে বিক্রি আরও বাড়বে। এই বেলুন বিক্রির টাকা দিয়েই সংসার চলে।

Advertisement

রাজস্থানের বাসিন্দা গোপালি রানির বলেন, বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেলুন বিক্রি করছি। রঙ বেরঙের বেলুন দেখতে অনেক মানুষ আসছেন। অনেকে বেলুন কিনেও নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা মোট ১০ জন এসেছি। শিশুরাই মূলত বেলুনের খদ্দের। প্রসঙ্গত, পুজোর মরশুমে গোটা রাজ্যে কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। পশ্চিম মেদিনীপুরের মানুষও পুজোয় আনন্দে মেতে উঠবেন। সেই কথা মাথায় রেখে রাজস্থান রাজ্যের ছোট ব্যবসায়ীরা এখানে আসছেন। জানা গিয়েছে, বেলুন ব্যবসায়ীদের পরিবার দিনমজুরের কাজের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া অনেকে চাষ করেন। কিন্তু কাজের অভাবে বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। তাই কয়েকমাস আগেই তাঁরা ফেরি করতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। এক বেলুন ব্যবসায়ীর কথায়, রাজস্থানে পর্যটন শিল্প আছে ঠিকই। কিন্তু সেই রাজ্যে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তাই অনেকে এরাজ্যে এসে ছোট ছোট ব্যবসা করছেন। সারা দিনে ৫০টির কাছাকাছি বেলুন বিক্রি হচ্ছে। এই রাজ্যে ব্যবসা হচ্ছে শান্তিতেই।
এনিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না তৃণমূল। জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ডাবল ইঞ্জিনের কি অবস্থা তা মানুষ জানেন। উত্তরপ্রদেশে থেকেও বহু মানুষ ব্যবসার জন্য এখানে আসছেন। আসলে ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই। কী করে সংসার চালাবে মানুষ। বাংলায় শান্তি আছে। তাই মানুষ বাংলাকে বেছে নিচ্ছেন। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, বাংলার কত মানুষ বাইরের রাজ্যে কাজ করতে যায়, তার হিসেব আছে কি? এই রাজ্যে তোলাবাজি ছাড়া আর কিছু নেই। সরকারি চাকরি চলে যাচ্ছে মানুষের। অপরদিকে নেতাদের সম্পত্তির পরিমাণ বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ