সংবাদদাতা, রানাঘাট: রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই সরকারি চাকরির নিয়োগের আশায় যেন নতুন করে চাকরির আশায় বুক বেধেছে যুব সমাজ। সেই ছবি ধরা পড়ল শান্তিপুর কলেজে। দীর্ঘদিন ধরে স্নাতকোত্তরের সার্টিফিকেট তোলা হয়নি। এবার নিয়োগের আশায় সেই সার্টিফিকেট তোলার হিড়িক পড়েছে বেশ কয়েকদিন ধরে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, বেশ কয়েকদিন ধরেই প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের লক্ষ্য করা যাচ্ছে কলেজে। দু’দিন আগেই প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন স্নাতকোত্তর সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য কলেজে যান। ওই আবেদনকারীদের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সার্টিফিকেট সংগ্রহকারী ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বেশ ভালই বলে দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষের।
কলেজে আসা কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী জানান,আগের তৃণমূল সরকারের আমলে যা কিছুই নিয়োগের পরীক্ষা হতো পরবর্তীতে দুর্নীতির কারণে তা মামলার চক্করে পড়ে আটকে যেত। ফলে একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নতুন সরকার আসার পর যেভাবে নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার চিন্তাভাবনা করছে তাতে আমরা আশাবাদী। ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েতে নিয়োগের রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর পর কলেজে গিয়ে স্নাতকোত্তরের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করলাম। পাশ থেকে আরেক শিক্ষার্থী বললেন, পাশাপাশি যুবশক্তি প্রকল্পের আবেদন করতেও সার্টিফিকেটটা প্রয়োজন।
নতুন সরকারের ঘোষিত যুবশক্তি প্রকল্পের ঘোষণাও কলেজে প্রাক্তনীদের সার্টিফিকেট নেওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে কলেজ পাস আবেদনকারী ছাত্রদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে এবং সরকারি ফর্মে আবেদন জানাতে স্নাতকোত্তর সার্টিফিকেট জরুরি একটি নথি হিসেবে কাজ করছে।
এই বিষয়ে শান্তিপুর কলেজের অধ্যক্ষ ড: সঞ্জীব কুমার পাখিরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখছি অনেক পুরানো ব্যাচের ছাত্রছাত্রীরা কলেজে আসছেন। যারা ২০২০ কিংবা ২০২১ সালে পাশ করেছেন। তাঁরাও এতদিন পর সার্টিফিকেট নিতে কলেজে হাজির হচ্ছেন। রাজ্যে নতুন সরকার আসায় নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হবে এবং চাকরি-বাকরির নতুন দরজা খুলবে এই আশা থেকেই প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি যুবশক্তি প্রকল্পের আবেদন জমা দেওয়াও এর একটা কারণ হতে পারে।