Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেলেনি সরকারি সাহায্য, ইনসাস ধরা মাওবাদী নেত্রী শোভা এখন দিনমজুর

মাওবাদী নেত্রী শোভা মুণ্ডা ১৫ বছর জেলে কাটিয়ে বাড়ি ফিরেও সরকারি সাহায্য পাননি। এখন দিনমজুরের কাজ করছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

মেলেনি সরকারি সাহায্য, ইনসাস ধরা মাওবাদী নেত্রী শোভা এখন দিনমজুর
  • ২৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: দীর্ঘ ১৫ বছর কেটে গিয়েছে জেলে। বাড়ি ফিরেও পার এক বছর। মাওবাদী প্যাকেজ থেকে বঞ্চিত শোভা মুণ্ডা। মেলেনি কোনো সরকারি চাকরি বা সাহায্য। শোভার এখন দিন কাটে দিন মজুরের কাজ করে।

Advertisement

বেলপাহাড়ী এলাকার মাজুগোড়া গ্রামের বাসিন্দা শোভা। একদা এই মাওবাদী নেত্রীর নামে কাঁপত গোটা জঙ্গলমহল। পরিবারের দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াইয়ে না পেরে মাত্র ১২ বছর বয়সে ঘর ছাড়েন চন্দনা সিং।মাওবাদী নেতা মদন মাহাতোর হাত ধরে যোগ দেন মাওবাদী স্কোয়াডে। দলে তাঁর নাম হয় শোভা মুণ্ডা। পরে সেই দলে থাকা রাজেশ মুণ্ডার সঙ্গে বিয়ে হয় শোভার। রাজেশ এখনও বহরমপুর জেলে বিচারাধীন বন্দি। 
সময়টা ২০০৯ সাল। ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ কাণ্ডে নাম জড়ায় শোভার। ২০১০ সালে চাকুলিয়া থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। ঝাড়গ্রাম আদালতেও তার বিরুদ্ধে বিচারাধীন ৮টি মামলা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে মেদিনীপুর জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফেরেন। এখন রোজ সকাল হলেই দিনমজুরের কাজে বেরিয়ে পড়েন। সেই রোজগারে চলছে জীবনযাপন। ছোট্ট একটি মাটির বাড়ি শোভার আস্থানা। এখনও রেশন কার্ড,ভোটার কার্ড নেই।ফলে রেশন সামগ্রী সহ অন্য কোনো সরকারি সাহায্যে তিনি পান না। এদিন বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে স্মৃতিচারণ করছিলেন শোভা। বলছিলেন, ‘২০০৪-’০৫ সাল নাগাদ স্থানীয় নেতা মদন মাহাতোর হাত ধরে তিনি মাওবাদীদের দলে যোগ দিই। তখন খুব ছোট। ভালো-মন্দ বিচার করার মস্তিস্ক আমার ছিল না। বাড়িতে অভাব অনটন। বাবা কাঠ বিক্রি করে চাল নিয়ে এলে তবে বাড়িতে রান্না হতো। চার বছর মাওবাদীদের দলে থেকেছি। তারপর গ্রেপ্তার হই। স্বামী রাজেশ একই দলেই থাকতেন। ২০০৯ সালে পুলিশ তাঁকেও গ্রেফতার করে। ওরসঙ্গে  ফোনে মাঝেমধ্যে কথা হয়। এর আগে সরকারের কাছে অনেকবার বলেছি। বড়বাবুরা বলেছিলেন, একটা কাজেরব্যবস্থা করে দেবেন। কথা রাখেননি কেউই। এখন সরকার বদল হয়েছে। লোকজনের মুখে শুনছি আমাদের নাকি আর কিছুই হবে না। আশা তো করছি, এত বছর জেল খেটেছি।একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিলে খুবই তো ভালো হতো। আমাদের আর কিছু নেই। ছোট্ট ঘরে আমার, মায়ের থাকতে অসুবিধা হচ্ছে।’ পাশে দাঁড়িয়ে তার মা লক্ষ্মী সিং বলেন, ‘১২ বছর বয়সেই ও ঘর ছেড়ে চলে যায়। তারপরে আমরা কিছুই জানতে পারিনি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ