


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এই প্রথম। কাশ্মীরের প্রায় শেষ প্রান্ত পর্যন্ত টুরিস্ট প্যাকেজের তোড়জোড় শুরু করছে রেল। এবার বারামুলা পর্যন্ত টুরিস্ট স্পেশাল ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি শুরু করছে রেলমন্ত্রকের আওতাধীন সংস্থা ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড টুরিজম কর্পোরেশন (আইআরসিটিসি)। গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় অসংখ্য সাধারণ পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। বিগত দু’মাসে ধীরে ধীরে কাশ্মীরমুখী পর্যটনে জোয়ার আসছে ঠিকই। কিন্তু সাধারণ মানুষের আতঙ্ক পুরোপুরি এখনও কাটেনি। এই পরিস্থিতি পহেলগাঁও-পরবর্তী সময়ে আরও বেশি করে কাশ্মীর পর্যটনে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র। আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। নির্ভাবনায় ঘুরে বেড়ান। সাধারণ পর্যটকদের উদ্দেশে এই বার্তা দিতেই মরিয়া হয়েছে মোদি সরকার। সেইমতোই পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে আইআরসিটিসিকে। সরকারি সূত্রেই এই খবর জানানো হয়েছে।
আইআরসিটিসির এক শীর্ষ কর্তা ‘বর্তমান’কে জানিয়েছেন, প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে। পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। দিনক্ষণ যদিও এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে যা কোনওদিন ঘটেনি, এবার সম্ভবত সেটিই ঘটতে চলেছে। কাশ্মীরের প্রায় শেষ প্রান্ত পর্যন্ত টুরিস্ট প্যাকেজের ব্যবস্থা করছে আইআরসিটিসি। সম্প্রতি উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুলা রেলওয়ে লিঙ্ক প্রজেক্টের (ইউএসবিআরএল) উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চালু হয়ে সেই রেল প্রকল্পের উপর আস্থা রেখেই বিশেষ পর্যটনের কথা চিন্তাভাবনা শুরু করেছে আইআরসিটিসি।
রেল সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, আইআরসিটিসির বিভিন্ন টুর প্যাকেজের ক্ষেত্রে জম্মু-কাশ্মীর খুব একটা ‘আনকমন’ নয়। মাঝেমধ্যেই সেই টুরের আয়োজন করে থাকে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড টুরিজম কর্পোরেশন। তবে সেই টুরের অন্যতম প্রধান অংশ জুড়েই থাকে মূলত কাটরায় মাতা শ্রী বৈষ্ণোদেবীর মন্দির, কিংবা শ্রীনগর, গুলমার্গ, সোনমার্গের মতো পর্যটনস্থল। আইআরসিটিসির ওই শীর্ষ কর্তার দাবি, প্রধানত এইসব ‘কমন’ জায়গাতেই ঘুরপাক খাওয়া হয়েছে বরাবর। কিন্তু বারামুলা পর্যন্ত ভারত গৌরব স্পেশাল ট্রেন চালিয়ে পর্যটক নিয়ে যাওয়া হলে তা কার্যত ইতিহাস তৈরি করবে।