ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: সড়ক পরিবহণে ভারতের মুকুটে নয়া পালক। মঙ্গলবার সম্পূর্ণ হল এশিয়ার দীর্ঘতম সুড়ঙ্গ জোজিলা টানেলের ‘ব্রেক থ্রু’ প্রক্রিয়া। অর্থাৎ সুড়ঙ্গের দুই খোলা মুখ পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত হল। সোজা কথায়, একমুখ থেকে অন্যমুখে এবার যাওয়া যাবে। এদিন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গাদকারি রিমোটের বোতাম টিপে সুড়ঙ্গ পথের শেষ পাথর ভাঙেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা, লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনয় কুমার সাক্সেনা।
সড়কপথে শ্রীনগর থেকে লেহ যাওয়ার রাস্তা প্রবল তুষারপাতের জেরে বছরের প্রায় ৬ মাসই বন্ধ থাকে। সেসময় দেশের বাকি অংশের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় লাদাখ। ফলে সীমান্তে সেনা ও রসদ পাঠানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। কার্গিল যুদ্ধের সময় এর ফায়দা তুলতে চেয়েছিল পাকিস্তান। সমস্যা সমাধানেই সাড়ে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ঘোড়ার নালের আকারের এই সুড়ঙ্গপথের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে ১১ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই টানেল জম্মু-কাশ্মীরের বালতাল থেকে লাদাখের মীনামার্গ পর্যন্ত বিস্তৃত। কাজ সম্পূর্ণ হলে টানেলটি পেরতে সময় লাগবে মাত্র ১৫ মিনিট। এখন এই অংশটুকু পেরতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। ফলে আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সীমান্তে রসদ, সেনাবাহিনী পৌঁছাতে পারবে। আগামী বছর শেষে দিকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার এই টানেলের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই সুড়ঙ্গপথ নির্মাণের কাজ খুব সহজ ছিল না।
বছরের প্রায় ১০০ দিন এই অংশের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে যায়। কখনো কখনো সেই পারদ নেমে যায় হিমাঙ্কের ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে। সেসব অগ্রাহ্য করেই নির্মাণকাজ চালিয়ে গিয়েছেন প্রায় ১২০০ ইঞ্জিনিয়ার-শ্রমিক। পাশাপাশি টানেল তৈরির সময় গত পাঁচ বছরে ৫টিরও বেশি বড়োসড়ো ধসের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে এমনই এক ধসে টানেলের ভিতরে আটকে পড়েন ১৭২ জন। পাশাপাশি তুষারপাতের জেরেও বারবার বিঘ্ন ঘটেছে কাজে। ভূপ্রাকৃতিকভাবেও হিমালয়ের এই অংশে সুড়ঙ্গ তৈরি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সাড়ে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলে ৬৭ প্রকারের পাথর মিলেছে। ফলে বারবার সুড়ঙ্গ তৈরির পদ্ধতিতে পরিবর্তন করতে হয়েছে।
মঙ্গলবার ‘ব্রেক থ্রু’ প্রক্রিয়ার অনুষ্ঠানের অংশ নিয়ে এই টানেলকে গেম চেঞ্জিং বলে মন্তব্য করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বিনয় কুমার সাক্সেনা। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের জোজিলা টানেলের ব্রেক থ্রু লাদাখের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। লাদাখের সীমান্ত অঞ্চলগুলিতে ভারতের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গাদকারিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আলো জ্বলেছে জোজিলা টানেলে। মঙ্গলবার এএফপির তোলা ছবি।