নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী বিদেশ থেকে ফিরলেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল হবে বলেই জানা গিয়েছে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দল কিংবা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মতো জেন-জি’রা যতই চাপ সৃষ্টি করুক না কেন, নিট কাণ্ডের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ‘ইস্তফা’ দেবেন না। তবে শিক্ষামন্ত্রক থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে বলেই একপ্রকার নিশ্চিত। এতে সাপও মরল, আবার লাঠিও ভাঙল না। সেই জায়গায় নির্মলা সীতারামনকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেই খবর। সেক্ষেত্রে নির্মলাকে হয় অর্থমন্ত্রক থেকে সরানো হবে, নয়ত দুই দায়িত্বই দেওয়া হবে।
চলতি মাসের ১৫-১৭ ফ্রান্সে জি-সেভেন বৈঠক। সেখান থেকে দেশে ফিরে হবে মন্ত্রিসভার রদবদল। তৃতীয় দফায় ক্ষমতা বজায় রাখার পর্বে এবারই প্রথম রদবদল। কেন না একজন মন্ত্রীর কাঁধে একাধিক মন্ত্রকের দায়িত্ব রয়েছে। তাছাড়া সামনেই উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, গুজরাত, গোয়ার মতো রাজ্যে ভোট। তাই সেইসব রাজ্যের প্রতিনিধিদের মন্ত্রী করে বার্তা দেওয়া হবে। সেই মতো অমিত শাহ ঘনিষ্ঠ উত্তরাখণ্ডের সাংসদ অনিল বালুনিকে তথ্য-সম্প্রচারমন্ত্রী করার কথা শোনা যাচ্ছে। তিনি একসময় সাংবাদিক ছিলেন।
বর্তমান তথ্য-সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাঁধে রেল, তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের দায়িত্ব রয়েছে। তাই তাঁর ভার কিছুটা লাঘব করা হতে পারে। একইভাবে পীযূষ গোয়েলকে বাণিজ্য মন্ত্রক থেকে সরিয়ে অর্থমন্ত্রকে আনা হতে পারে বলে জোর জল্পনা। পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীকে সরিয়ে দেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরীকে বিজেপি সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে দলের সভাপতি করেছে। সামনের বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তাই তাঁকে সেখানেই মনোনিবেশ করতে বলা হয়েছে। একইভাবে সড়ক পরিবহণের রাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রকে দিল্লি বিজেপির সভাপতি করা হয়েছে। তাই তাঁকেও মন্ত্রিসভা থেকে সরাবেন মোদি।
তবে এরই মধ্যে বাড়ছে কৌতুহল। পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক জয়ে প্রথমবার ক্ষমতায় আসায় রাজ্য বিজেপির কাউকে কি কোনো পুরস্কার দেবেন না নরেন্দ্র মোদি? সেক্ষেত্রে কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে, তা নিয়ে বঙ্গ বিজেপির সাংসদের মধ্যে চলছে লাগাতার চর্চা।
এদিকে, বিক্ষুব্ধ তৃণমূলিদের বিজেপির কাছাকাছি টানার বিষয়ে নিয়ে দলের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বঙ্গ বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যর মধ্যে মতান্তর শুরু হয়েছে বলেই দলের অভ্যন্তরে জল্পনা।
শমীকবাবুর মত, কয়েকদিন আগেই যাদের বিরুদ্ধে লড়ে এত বড় জনসমর্থন পেয়েছে বিজেপি, সেই তাদেরই তাড়াহুড়ো করে দলের দিকে টানলে আম জনতাই নিন্দে করবে। আবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চাইছেন, এখনই সময়। ছিন্নভিন্ন করে দাও তৃণমূলকে। মোদির মন্ত্রে, এহি সময়/সহি সময়। তাই রাজনৈতিক মহলের মতে, শমীককে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করে রাজ্যে নিজের কর্তৃত্ব আরও জোরদার করতে চাইছেন শুভেন্দুবাবু। যদিও শমীকবাবু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হতে চান না। তাঁর পছন্দ বঙ্গ বিজেপির সভাপতিই।