


নয়াদিল্লি: নেই পানীয় জল। মাঠের ফসলও মাঠে শুকোচ্ছে। গ্রীষ্মের দাবদাহে শুকিয়ে কাঠ পাকিস্তান। তীব্র জলসঙ্কটে ইসলামাবাদের মাথায় বাজ। সূত্রের খবর, প্রবল চাপের মুখে এবার নতজানু শাহবাজ শরিফের সরকার। ভারতের কাছে ‘জল-ভিক্ষা’ করে চার-চারটি চিঠি পাঠিয়েছে পাকিস্তান। তাদের কাতর আর্জি, সিন্ধু জলচুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুক নয়াদিল্লি। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সন্ত্রাস আর বাণিজ্য একসঙ্গে চলতে পারে না। রক্ত ও জল একসঙ্গে বইবে না। পাকিস্তানের একের পর এক চিঠি সত্ত্বেও নয়াদিল্লির সেই কঠোর অবস্থানে বিন্দুমাত্র বদল আসছে না বলেই খবর।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সিংহভাগই পর্যটক। ওই হামলার পরই দিল্লিতে বৈঠকে বসে নিরাপত্তা বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি। সেই বৈঠক থেকেই সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সীমান্তপারের সন্ত্রাস বন্ধে পাকিস্তান যতদিন না বিশ্বাসযোগ্য ও সদর্থক ব্যবস্থা নিচ্ছে, ততদিন সিন্ধু নদের জলবণ্টন সংক্রান্ত এই চুক্তি বাতিলই থাকবে। তার জেরে পাকিস্তান যে রীতিমতো বেকায়দায় পড়েছে, তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট তাদের সেনেটর সইদ আলি জাফরের কথায়। মে মাসে তীব্র গরমে প্রবল জলকষ্টের মুখে পড়ে তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘এই সমস্যার আশু সমাধান চাই। নয়তো আমরা না খেতে পেয়ে মরব। আমাদের প্রয়োজনীয় জলের তিন-চতুর্থাংশই আসে দেশের বাইরে থেকে। সিন্ধু অববাহিকা হল আমাদের জীবনরেখা। ১০ জনের মধ্যে ন’জনের বেঁচে থাকা নির্ভর করে সিন্ধু অববাহিকার জলের উপর। প্রায় ৯০ শতাংশ ফসল এর উপর নির্ভরশীল। আমাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জলাধারও এখানে রয়েছে। এ যেন এক জলবোমা! এই বোমা আমাদের নিষ্ক্রিয় করতেই হবে।’
ভারতের এই ‘জলবোমা’র মুখে পড়ে নিজের দেশেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তাঁর উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত যাতে আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হয়, সেজন্য ইতিমধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে দরবার করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। তারই মধ্যে এবার সিন্ধু জলচুক্তির পুনর্বহাল চেয়ে দিল্লির কাছে চারটি চিঠি পাঠানোর খবর সামনে চলে এল। সরকারি সূত্রে খবর, জলের জন্য কাতর আর্জি জানিয়ে পাকিস্তান প্রথম চিঠিটি পাঠায় অপারেশন সিন্দুর চলাকালীনই। বাকি তিনটি চিঠি এসেছে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর। সরকারি সূত্রে খবর, এই চারটি চিঠিই লিখেছেন পাকিস্তানের জলসম্পদ মন্ত্রকের সচিব সইদ আলি মোর্তাজা। ভারতের জলশক্তি মন্ত্রককে সেগুলি পাঠানো হয়। পরে জলশক্তি মন্ত্রক তা পাঠায় বিদেশ মন্ত্রকে।
১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জলচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এই চুক্তির বিভিন্ন বিধিতে সংশোধন চায় ভারত। জলবায়ু পরিবর্তন সহ বিভিন্ন কারণে পরিকাঠামোগত আধুনিকীকরণের প্রয়োজন রয়েছে। সে জন্য গত দু’বছর ধরে একাধিকবার ইসলামাবাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চেয়েছে নয়াদিল্লি। কিন্তু পাকিস্তান সেই প্রচেষ্টায় প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এবার পহেলগাঁও হামলার পর ভারত সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করে দেওয়ায় পাল্টা বিপাকে ইসলামাবাদ।