• প্রচণ্ড গরম। রাস্তায়, বাসে, অফিসে, বাড়িতে এখন এটাই সকলের চেনা সংলাপ, আলোচনার বিষয়। মাঝে খানিক বৃষ্টি হলেও সারাক্ষণ আর্দ্র একটা আবহাওয়া ঘিরে থাকছে। ক্যালেন্ডারের হিসেবে ঘোর বর্ষা আসতে এখনও কয়েক দিন বাকি। এই আবহাওয়ায় শরীর ভালো রাখতে হবে। অভ্যন্তরীণ দিক থেকে তো বটেই। পাশাপাশি বাইরে থেকেও ত্বক, চুল ভালো রাখা জরুরি। তা কীভাবে সম্ভব? প্রথমেই জেনে নিন, গরমের মূল সমস্যা কী কী? এর মধ্যে কোন সমস্যায় আপনি ভুক্তভোগী? সেটা জানা থাকলে সমাধান সহজ হবে।
• এই আবহাওয়ায় ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যায়।
• ব্রণর সমস্যা বাড়ে।
• হিট র্যাশের সমস্যা তৈরি হয়।
• শরীরে বিভিন্ন জায়গায় ছোটো ছোটো লাল ফুসকুড়ি বা ঘামাচি হয়।
• যাদের শুষ্ক ত্বক তাদের গরমে পিএইচ ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যায়।
সমাধান
গরমে সুস্থ থাকতে গেলে কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে। শরীরকে সবসময় আর্দ্র রাখতে হবে। প্রচুর জল খাওয়া জরুরি। ঠান্ডা জাতীয় তরল খেতে হবে। সহজপাচ্য খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। যাতে হজমের কোনো সমস্যা না হয়। এই অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো ঠিক না থাকলে বাইরে যাই করুন, সেটা ভালো হবে না।
ডায়েট
লাউয়ের শরবত, ডাবের জল প্রতিদিন খান। অথবা অ্যালোভেরা, কাঁচা হলুদ, আমলকী মিশিয়ে জুস বানিয়ে খান। সায়ন্তন বললেন, ‘এসময় সিবাকথর্ন জুস খেতে পারেন। মূলত লাদাখে এই ফল পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বহুবার এর প্রচার করেছেন। এর মধ্যে ভিটামিন সি, ওমেগা সিক্স, সেভেন, নাইন রয়েছে। এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। বাইরে প্রচণ্ড গরম। শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে বাইরের তাপমাত্রার তফাতের কারণে শরীর খারাপ হতে পারে। সেগুলোও নিয়ন্ত্রণ করবে।’
বাইরে বেরলে কী করবেন?
বাড়ি থেকে বাইরে বেরতে হলে অবশ্যই ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন। এমনকি বাড়িতেও হালকা সুতির পোশাক পরুন। সায়ন্তনের পরামর্শ, এসময় সানস্ক্রিন না মেখে বেরবেন না। এসপিএফ ৩০-৫০-র সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। এর উপর একটা সানস্ক্রিন পাউডার পাফ করে বেরতে পারেন। এতে নীচে সানস্ক্রিনটা ত্বকে বসে যায়। আর পাউডার ২-৩ ঘণ্টা অন্তর রিঅ্যাপ্লাই করলে অনেকক্ষণ ত্বকে সানস্ক্রিন থাকবে। বাড়ি ফিরে ত্বক পরিষ্কার করে যে কোনো ঘরোয়া ক্লিনজার ব্যবহার করুন।
ত্বকের ঘরোয়া রূপচর্চা
গরমে ত্বক এবং চুলের যত্নে ঘরোয়া উপকরণ ব্যবহার করুন।
• বেসন, শসার রস, আলুর রস মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে ত্বকে অ্যাপ্লাই করুন।
• ত্বক শুষ্ক হলে এর মধ্যে একটু কফি পাউডার, দই বা দুধ মিশিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। বাজারচলতি কোনো সালফেট ফ্রি ফেসওয়াশ বা বডিওয়াশ দিয়েও মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। এরপর কিছুক্ষণ ত্বকে আর কিছু অ্যাপ্লাই করবেন না। ত্বকেরও বিশ্রাম দরকার। সব সময়ই কিছু না কিছু ত্বকের উপর চাপানো থাকলে ত্বক শ্বাস নিতে পারে না। সেখান থেকেও সমস্যা দেখা দেয়। হালকা মিস্ট স্প্রে করে ছেড়ে দিন।
• এই মিস্টও বাড়িতে বানাতে পারেন। কীভাবে? সাধারণ জলের মধ্যে শসা কুচি করে কেটে, কর্পূর, লবঙ্গ, পুদিনা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে এটা ছেঁকে ১ লিটার জলের মধ্যে মিশিয়ে রেখে দিন। এই মিস্ট মুখে, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্প্রে করতে পারেন। এটা অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করবে। ত্বককে মোলায়েম করবে। বাইরে থেকে এলে ত্বক স্পর্শকাতর হয়ে যায়। সেটা থেকেও রক্ষা করবে।
• আমের খোসায় যে পাল্প লেগে থাকে তার সঙ্গে অর্ধেক চামচ কফি পাউডার, অর্ধেক চামচ গুঁড়ো দুধ, এক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে মুখে, গলায়, হাতে লাগিয়ে রাখুন। পাঁচ মিনিট মাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এটা ডি-ট্যানিং ফেস প্যাকের কাজ করবে।
• রাতে হালকা নাইট ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে হবে। যার মধ্যে হালকা হায়েরুলনিক অ্যাসিড রয়েছে। ভারী কোনো এসেনশিয়াল অয়েল ছাড়া নাইট ক্রিম ব্যবহার করুন। ভালো মানের অ্যালোভেরা জেলও মাখতে পারেন। অয়েল ফ্রি নাইটক্রিম ত্বককে পুষ্টি দেবে। রাতে খুব কম জিনিস ত্বকে লাগান।
• বাইরে থেকে এসে হঠাৎ করে র্যাশ হয়ে গেলে ক্যালামাইন লোশন বা প্যাক ব্যবহার করুন। বাড়িতে ল্যাক্টোক্যালামাইনের সঙ্গে চন্দন পাউডার, তার সঙ্গে লবঙ্গ তেল মিশিয়ে ক্যালামাইন প্যাক লাগান। সঙ্গে সঙ্গে হিট র্যাশ কমে যাবে।
চুলের যত্ন
গরমের সময় প্রতিদিন শ্যাম্পু করুন। কারণ চুলের মধ্যে ঘাম জমে। তার মধ্যে ধুলো আটকে মাথার তালু অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। এখানেও ঘরোয়া উপকরণ দিয়ে রূপচর্চা করতে পারেন।
• নিমপাতা, মেথি, কারিপাতা, জবাফুলের পাপড়ি ফুটিয়ে তৈরি সলিউশন স্নানের পর এক মগ জলে ঢেলে দিন। অথবা এটা স্প্রে করে দু’ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে নিন। তাতে সংক্রমণ চলে যায়। অনেকটা সময় হেলমেট পরে থাকেন অনেকে। এই সলিউশন তাঁদের জন্যও ভালো।
• সালফেট, প্যারাবেন ফ্রি শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
• আমলা, জবা দিয়ে তৈরি শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। চুল কিছুক্ষণ বাদে বাদে ঠান্ডা হওয়ায় শুকিয়ে নিন। মাথা খোলা থাকলে চুলের গোড়া মজবুত থাকবে। অনেকক্ষণ ঘেমে থাকলে সেটা কিছু দিয়ে চেপে দিলে চুল পড়ার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।