কোচি, ৩০ মার্চ: বড়পর্দায় মুক্তির পর থেকেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে মোহনলালের ‘এল ২: এমপুরান’। গত বৃহস্পতিবার বড়পর্দায় মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। তারপরেই মোহনলালের এই সিনেমার বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ। যদিও এই সিনেমাকে কেন্দ্র করে দুই ভাগে বিভক্ত গেরুয়া শিবির। সঙ্ঘ আপত্তি জানালেও মোহনলালের সিনেমার পাশেই দাঁড়িয়েছে কেরলের বিজেপির একাংশ নেতা। এদিকে ‘এল ২: এমপুরান’ সিনেমার কয়েকটি দৃশ্য নিয়ে আপত্তি থাকায় সেগুলি বাদ দিচ্ছেন নির্মাতারা। এই সিনেমাতে ২০০২ গুজরাত হিংসার প্রসঙ্গ, দক্ষিণপন্থী রাজনীতি নিয়ে কিছু বক্তব্য রয়েছে যাতে আপত্তি রয়েছে সেন্সর বোর্ডের। তাই সেরকম ১৭টি দৃশ্য বাদ দিচ্ছে নির্মাতারা। এই বিষয়ে ‘এল ২: এমপুরান’-এর প্রযোজক গোকুলাম গোপালান জানিয়েছেন, ‘আগেই সেন্সর বোর্ড ছাড়পত্র দিয়েছিল।
তারপরেই মুক্তি পায় সিনেমাটি। কিন্তু এখন কয়েকটি দৃশ্যে কাঁচি চালাতে হবে। কারণ আমরা চাই না কারোর ভাবাবেগে আঘাত আনতে। তাই সিনেমার পরিচালক তথা অভিনেতা পৃথ্বীরাজ সুকুমারণ রাজি হয়েছেন নির্দিষ্ট কিছু দৃশ্যে কাঁচি চালাতে।’ আপাতত কোনও দৃশ্য বাদ না দিয়েই প্রেক্ষাগৃহে চলছে সিনেমাটি। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে ‘আপত্তিকর’ দৃশ্যগুলি আর থাকবে না। সেগুলি বাদ দিয়েই প্রেক্ষাগৃহে চলবে ‘এল ২: এমপুরান’। মহিলাদের উপর অত্যাচারের কিছু দৃশ্য, হিংসার ঘটনাগুলি বাদ দেওয়া হবে সিনেমা থেকে। এমনকী সিনেমার খল চরিত্রের নাম বদল করে, তাঁর কিছু সংলাপ মৌন করে দেওয়া হবে। এমনটাই জানিয়েছে ‘এল ২: এমপুরান’-এর প্রযোজক। এই সিনেমায় খলনায়কের চরিত্রটির নাম বাবা বজরঙ্গি। সেই নামই পাল্টে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মোহনলালের ‘লুসিফার’ ট্রিলজির এটি দ্বিতীয় সিনেমা। যাকে কেন্দ্র করে উন্মাদনা ছিল সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে। তাই ‘এল ২: এমপুরান’ মুক্তির দু’দিনের মধ্যেই ব্যাপক আয় করেছে বক্স অফিসে। প্রথম মালয়ালাম সিনেমা হিসেবে মাত্র দু’দিনেই ৮৬ কোটি টাকা আয় করেছে ‘এল ২: এমপুরান’। সঙ্ঘের তীব্র আপত্তি থাকলেও কেরলে এই সিনেমার বিরুদ্ধে কোনও প্রচার করেনি বিজেপি।
এই বিষয়ে কেরলের বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর জানিয়েছেন, ‘সিনেমাটি দেখতে যাব ভেবেছিলাম। কিন্তু পরে গোটা বিষয়টি শুনে হতাশ হলাম। তাই আর সিনেমাটি দেখব না।’ কংগ্রেস ও সিপিএমের অভিযোগ সঙ্ঘের তীব্র আপত্তি রয়েছে বলেই ‘এল ২: এমপুরান’ সিনেমার একাধিক দৃশ্যের উপর কাঁচি চালাতে হল। এটা বাক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই গেরুয়া শিবিরের একাংশের তরফে এই সিনেমার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক প্রচার শুরু করা হয়েছে। কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে মোহনলাল, সিনেমার পরিচালক ও অভিনেতা পৃথ্বীরাজ সুকুমারণকেও। যদিও এই বিতর্কের মাঝে ক্ষমা চেয়েছেন অভিনেতা মোহনলাল।