নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সঙ্ঘের দরবারে গিয়েও কি বরফ গলল না? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাগপুর সফরের ঠিক পরদিনই শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী) মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত যে দাবি করেছেন, তাতে এই জল্পনাই জোরদার হচ্ছে। তাঁর সাফ কথা, ‘নরেন্দ্র মোদি সেপ্টেম্বর মাসের পর আর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না।’ কেন? সঞ্জয় রাউতের সপাট জবাব, ‘সেপ্টেম্বরেই নরেন্দ্র মোদির বয়স ৭৫ হয়ে যাচ্ছে। নিজের তৈরি করা অঘোষিত নিয়মের জালেই জড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। এবার অন্য কেউ তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন।’
সোমবার রাজ্যসভার এই এমপি বলেছেন, ‘১০ বছরে একবারও নাগপুরে আরএসএস দপ্তরে যাওয়ার সময় হল না মোদির। তাহলে এ বছরই কেন? কারণ, আরএসএস থেকে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার সূত্রপাত হয়েছিল। সঙ্ঘই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে। তাই তিনি হয়তো অবসরের আবেদনপত্র জমা দিতেই নাগপুরে গিয়েছিলেন।’
শিবসেনা এবং বিজেপির জোটযাত্রা শুরু নয়ের দশকে। বালাসাহেব থ্যাকারে এবং লালকৃষ্ণ আদবানির যৌথ উদ্যোগে ওই মৈত্রী প্রতিষ্ঠিত হয়। বহু উত্থান পতনেও সেই জোটে ফাটল ধরেনি। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর ‘অসম্মানিত’ শিবসেনা জোট সম্পর্ক ছিন্ন করে। ২০১৯ সালের বিধানসভা ভোটের পর। দীর্ঘ পথচলার কারণে মহারাষ্ট্রে বিজেপি, শিবসেনা এবং আরএসএসের মিলিত রসায়ন সব সময়ই ছিল ঘনিষ্ঠ। আর তাই শিবসেনা কিন্তু সঙ্ঘের অন্দরের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে বিলক্ষণ অবগত। তার প্রমাণই মিলেছে এদিন সঞ্জয় রাউতের মন্তব্যে। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কাছে নিশ্চিত খবর আছে, আরএসএস এখন প্রধানমন্ত্রী পদে বদল চাইছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের পর আর মোদিকে ওই পদে রাখতে নারাজ তারা।’ এখানেই শেষ নয়। তাঁর দাবি, ‘মোদির উত্তরসূরি, অর্থাৎ পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী মহারাষ্ট্র থেকেই হবেন।’ রাউতের এই মন্তব্যটি আরও বেশি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কারণ, এরকম একটি গুঞ্জন বাতাসে ভাসিয়ে দেওয়ার পিছনে শিবসেনার মূল লক্ষ্য হল, বিজেপির মধ্যেও চরম সংশয় ছড়িয়ে দেওয়া। অঘোষিত বার্তা দেওয়া, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সঙ্ঘের পছন্দের লোক অমিত শাহ নন। তাহলে কে? মহারাষ্ট্র থেকে বাছাই করতে গেলে নিশ্চিতভাবে নাম আসে নীতিন গাদকারি এবং দেবেন্দ্র ফড়নবিশের। দু’জনই আরএসএসের ঘনিষ্ঠ। উপরন্তু ফড়নবিশ নাগপুরের বিধায়ক। গাদকারি নাগপুরের এমপি। সঞ্জয় রাউতের এই বিস্ফোরক মন্তব্য যে বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে তার প্রমাণ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের প্রতিক্রিয়া। এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে বিস্তারিত বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। ওই মন্তব্যকে নস্যাৎ করে বলেছেন, ‘আমাদের নেতা নরেন্দ্র মোদি। আগামী দিনেও তিনিই থাকছেন। ২০২৯ সালেও আমরা তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী চাই। সুতরাং শিবসেনার এই মন্তব্য রাজনৈতিক জলঘোলা করার প্রয়াস। এর মধ্যে বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই।’
অমিত শাহ বিজেপি সভাপতি হয়েছেন। জগৎপ্রকাশ নাড্ডাও। কোনও সময়ই এই নামগুলি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আরএসএস সদর দপ্তরে যেতে হয়নি মোদিকে। আলোচনা হলেও সেটা আড়ালেই থেকেছে। সুতরাং এবার সর্বভারতীয় সভাপতি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যই হঠাৎ মোদিকে নাগপুর যেতে হয়েছে, এটা রাজনৈতিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য নয়। সেই কারণেই প্রশ্ন ও জল্পনা থামছে না যে, মোদির সফরের প্রকৃত কারণ কী? সেপ্টেম্বর মাসের আগে সত্যিই কোনও বড়সড় নাটকীয় রাজনীতির অবতারণা হতে চলেছে?