সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: বিদ্রোহী তৃণমূলের (এনসিপিআই) ২০। উদ্ধবপন্থী শিবসেনার ছ’জন। আম আদমি পার্টির সাত। বাংলার তিন তৃণমূলিকে রাজ্যসভায় নিজেদের রঙে জিতিয়ে আনার পরেও পার করা যাচ্ছে না ‘স্পেশাল মেজরিটি’র সংখ্যা। অথচ ডিলিমিটেশন বিলের সঙ্গে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করে মহিলা সংরক্ষণ আইন (নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম) কার্যকর করতে সংবিধান সংশোধনে সেটাই প্রয়োজন। লাগাতার ‘অপারেশন লোটাস’ও সেই স্বস্তির সংখ্যা দিতে পারল না মোদি সরকারকে। উপরন্তু বেঁকে বসল দক্ষিণের দল ডিএমকে’ও। ফল? আপাতত ‘সাধে’র ১৩১তম সংবিধান সংশোধন এবং ডিলিমিটেশন বিল আনার উদ্যোগ স্থগিত রাখছেন মোদি।
তামিলনাড়ু বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর কংগ্রেসের সঙ্গে ডিএমকের সম্পর্কে ছেদ পড়েছে। তাতেই আশার আলো দেখেছিল বিজেপি। কিন্তু আসন পুনর্বিন্যাস বিলের (ডিলিমিটেশন) ব্যাপারে বিরোধীদের সঙ্গেই সহমত কানিমোঝি, তিরুচি শিবারা। তাঁদের দেওয়া শর্তের চাপে দিশাহারা মোদি-শাহ। সরকারকে তাঁরা বলে দিয়েছেন, প্রত্যেক রাজ্যে ৫০ শতাংশ করে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে দাবি, ১৯৭১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার যে আসন সংখ্যা স্থির রয়েছে, সেটি আরো ২৫ বছর রাখতে হবে। ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তি চলবে না। তাই হতোদ্যম মোদি-শাহ। এবং আপাতত ডিলিমিটেশন এবং সংবিধান সংশোধন বিল ঠান্ডাঘরে। সরকার মুখে যতই দাবি করুক, সংবিধান সংশোধন বিল পাশে প্রয়োজনীয় সাংসদ সংখ্যা আছে, বাস্তবটা অন্য। লোকসভায় ডিএমকের রয়েছে ২২ সাংসদ। রাজ্যসভায় আট। কিন্তু তাঁরা সমর্থন করুন বা বিলে পাশের সময় ওয়াক আউট, কোনোভাবেই স্পেশাল মেজরিটির সংখ্যা পার হচ্ছে না। স্পেশাল মেজরিটি হল, সভার মোট আসন সংখ্যার মধ্যে গরিষ্ঠতা। সঙ্গে বিল পাশের সময় সভায় উপস্থিত সদস্য সংখ্যার ভোটদানে কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন। যদি সেদিন সভায় সব সাংসদ হাজির থাকেন, তাহলে অঙ্কটি লোকসভার ক্ষেত্রে দাঁড়াবে ৩৬০। আর রাজ্যসভায় ১৬৪। এই সংখ্যাই নেই সরকারের। লোকসভায় এনডিএর শক্তি ৩২৪। ডিএমকে সমর্থন করলেও হচ্ছে ৩৪৬। অর্থাৎ কম পড়ছে ১৪ ভোট। ডিএমকে ওয়াক আউট করলেও দুই-তৃতীয়াংশের জন্য দরকার ৩৪৫। সেক্ষেত্রেও কম পড়ছে ২১। একইভাবে রাজ্যসভায় এনডিএর সাংসদ সংখ্যা ১৫৮। সেখানেও কম পড়ছে ৬ জন। তাই গত ১৭ এপ্রিল বিশেষ অধিবেশনে যা হাল হয়েছিল, তার পুনঃপ্রদর্শন আর চাইছেন না মোদি। আপাতত হাল ছাড়ছেন। ভাবা যাবে নভেম্বর মাসে।
এরই মধ্যে অবশ্য আগামী সপ্তাহে অমিত শাহ পাশ করাতে চান ফরেন কনট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট (এফসিআরএ) বিল। চলতি বছরের ২৫ মার্চ লোকসভায় পেশ হয়ে পড়ে রয়েছে এই বিল। সেটিই আগামী বুধবার, ১২ আগস্ট লোকসভায় পাশ করাতে চান শাহ। এবং ১৩ আগস্ট রাজ্যসভায়। তবে ওই বিল পাশেও প্রবল বিরোধিতা হবে জানিয়ে দিয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর প্রশ্ন, ‘আরএসএসের রেজিস্ট্রেশন কেন নেই? মোদি-শাহ জবাব দিন।’ বিরোধীদের দাবি, অমিত শাহকে সভায় এসে জবাব দিতে হবে ছাত্র-যুব আন্দোলনে গুলি, পেলেট গান চালানোর অর্ডার কে দিয়েছিল? না হলে বিরোধীদের বিক্ষোভ চলবেই। সেই মতো শুক্রবারও ওয়েলে নেমে হয়েছে বিক্ষোভ। স্লোগান উঠেছে, ‘অমিত শাহ সদন মে আও। সদন মে আ কে জবাব দো।’ তা দেখে কিরেন রিজিজু একপ্রকার হুমকির সুরে বলেন, ‘যে অমিত শাহর নামে জঙ্গিরা কেঁপে যায়, তাঁকে আপনারা বলছেন সভায় এসে জবাব দিতে? তিনি সভায় এলে আপনাদের মুখে কিন্তু কথা সরবে না।’ রিজিজুর এই হুমকিতে বিরোধীরা পালটা সরব হন। অস্বস্তি এড়াতে তড়িঘড়ি সারাদিনের জন্য সভা মুলতুবি করে দেওয়া হয়।