Bartaman Logo
৮ আগস্ট, ২০২৬

নিটের প্রশ্ন ফাঁস শীর্ষস্তর থেকেই, সিবিআইয়ের কাঠগড়ায় এনটিএ

সরষের মধ্যেই ভূত! শেষলগ্নে নয়, বরং রীতিমতো পরিকল্পনা করেই পরীক্ষার বহু আগে ফাঁস হয়েছে ২০২৬ সালের নিট (ইউজি)-এর প্রশ্নপত্র।

নিটের প্রশ্ন ফাঁস শীর্ষস্তর থেকেই, সিবিআইয়ের কাঠগড়ায় এনটিএ
  • ৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: সরষের মধ্যেই ভূত! শেষলগ্নে নয়, বরং রীতিমতো পরিকল্পনা করেই পরীক্ষার বহু আগে ফাঁস হয়েছে ২০২৬ সালের নিট (ইউজি)-এর প্রশ্নপত্র। ‘পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে’ রাজ্যে রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা চক্রের কাছে প্রশ্ন পৌঁছে গিয়েছে খোদ ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র শীর্ষস্তর থেকেই। এবং এই প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন এনটিএ’রই তিন সাবজেক্ট এক্সপার্ট। অর্থাৎ, প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা। বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে, দালাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। পরীক্ষার বহু আগেই তা পৌঁছে গিয়েছে প্রার্থীদের কাছে। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে পেশ করা চার্জশিটে এই দাবিই করেছে সিবিআই। চার্জশিটে নাম রয়েছে মোট ১৩ অভিযুক্তের। তাঁদের মধ্যে তিনজন এনটিএ নিযুক্ত সাবজেক্ট এক্সপার্ট—বটানি-জুলজির বিশেষজ্ঞ মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে, কেমিস্ট্রির প্রহ্লাদ বিঠ্ঠলরাও কুলকার্নি ও ফিজিক্সের এক্সপার্ট মনীষা সঞ্জয় হাভালদার। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, ছাপাখানা থেকে প্রশ্নপত্র চুরির মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি! গোটাটাই লিক হয়েছে প্রস্তুতি পর্বে। হাতে লেখা নোট, মৌখিক ডিকটেশন ও ফোটোগ্রাফের মাধ্যমে। সিবিআইয়ের দাবি, এভাবেই লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পাচার হয়ে গিয়েছে নিটের প্রশ্ন।

Advertisement

চার্জশিটে সিবিআই বলেছে, ৩ মে ছিল নিট পরীক্ষা (পরে তা বাতিল হয়)। আর এপ্রিলে পুনেতে নিজেদের বাসভবনে ‘স্পেশাল রিভিশন সেশন’-এর আয়োজন করেছিলেন এনটিএ নিযুক্ত কেমিস্ট্রি এক্সপার্ট কুলকার্নি ও বায়োলজির মান্ধারে। সেই ‘স্পেশাল রিভিশন সেশনে’ অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের তাঁরা সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন, মাল্টিপল চয়েস অপশন ও তার সঠিক উত্তরগুলি বলে দেন। পড়ুয়ারা সেই প্রশ্ন-উত্তর লিখে নিয়েছিলেন নোটবুকে। ফিজিক্সের প্রশ্ন আবার ছড়িয়েছিল ভিন্নভাবে। হাভালদার পুনের এক কোচিং শিক্ষক তেজস হর্ষদকুমার শাহকে প্রশ্নগুলি মুখে মুখে বলতেন। শাহ সেগুলি লিখে নিতেন। পরবর্তীকালে সেই ‘হাতে লেখা’ প্রশ্নগুলির ছবি তোলা হয়। শাহ প্রশ্নের সেই ছবি পাঠিয়ে দেন মহারাষ্ট্রের লাতুরে ‘রেণুকা কেরিয়ার সেন্টার’-এর ডিরেক্টর অধ্যাপক শিবরাজ মোটেগাওঁকরের কাছে। হাভালদারের ফোনে শাহের নাম সেভ করা ছিল ‘গড’ বলে।
তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, কুলকার্নি এবং মান্ধারে পুনের মধ্যস্থতাকারী শিশু বিশেষজ্ঞ মনোজ ভগবানরাও শিরুরের সঙ্গে মিলে কিছু স্পেশাল সেশনের আয়োজন করেন। সেখানকার বাছাই করা বেশ কিছু পরীক্ষার্থীকে লাতুরের সিদ্ধিবিনায়ক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সিবিআই চার্জশিট মোতাবেক, ৩ মে চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসার আগে হাসপাতালের ওই সেশনেই ফাঁস হওয়া প্রশ্নব্যাংক ও তার উত্তর মুখস্থ করানো হয়েছিল ওই প্রার্থীদের। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ শিরুরের পরিবারের এক সদস্যের বাড়ি থেকে নগদ ৫ লক্ষ টাকাও উদ্ধার করেছে সিবিআই। ফাঁস হওয়া প্রশ্নগুলো শেষ পর্যন্ত দালাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মহারাষ্ট্রের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন রাজ্যে এই প্রশ্নগুলি পাঠানোর জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়। নাসিকের বাসিন্দা শুভম খৈরনারের যোগাযোগ গড়ে ওঠে গুরুগ্রামের যশ যাদবের সঙ্গে। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন সেটগুলিকে পিডিএফ ফাইলে রূপান্তর করে টেলিগ্রামের মাধ্যমে যাদবের কাছে পাঠানো হয়। এরপর যাদব ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে টেলিগ্রামের মাধ্যমে জয়পুরের মঙ্গিলাল বিওয়াল নামে একজনকে পিডিএফগুলি ফরোয়ার্ড করেন। বিওয়াল তার প্রিন্টআউট করে পৌঁছে দেয় পরিবারের নিট পরীক্ষার্থীদের। সেখান থেকে তা চলে যায় স্থানীয় কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট টিউটরদের কাছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ