Bartaman Logo
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দিনে উত্তর ২৪ পরগনা, রাতে সাতক্ষীরা! উদ্বেগে বাসিন্দারা, সীমান্তের গ্রাম কৈজুরিতে নতুন করে কাঁটাতারের দাগ

সীমান্তের রাস্তা ধরে এগলেই কৈজুরি। রাস্তার এক পাশে বসতবাড়ি। অন্য পাশে চাষের জমি। জমির আল ধরে চোখ চলে যায় অনেক দূর।

দিনে উত্তর ২৪ পরগনা, রাতে সাতক্ষীরা! উদ্বেগে বাসিন্দারা, সীমান্তের গ্রাম কৈজুরিতে নতুন করে কাঁটাতারের দাগ
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: সীমান্তের রাস্তা ধরে এগলেই কৈজুরি। রাস্তার এক পাশে বসতবাড়ি। অন্য পাশে চাষের জমি। জমির আল ধরে চোখ চলে যায় অনেক দূর। সামনে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা। মাঝখানে এখনও ফাঁকা জমি-জলাশয়। নেই কাঁটাতারের বেড়া। তবে সেই ফাঁকা জমিতেই শুরু হয়েছে মাপজোক। জমির উপর নতুন করে টানা হয়েছে সীমান্তের দাগ। আর ওই দাগ কাটা হয়েছে কোথাও জমির আল বরাবর। কোথাও বাড়ির একেবারে গা ঘেঁষে। কোথাও আবার উঠোন থেকে কয়েক হাত দূরে। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে সেই দাগ দেখছেন বাসিন্দারা। কেউ বাড়ির দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে হিসাব করছেন, কাঁটাতার উঠলে কোনটা এদিকে থাকবে, আর কোনটা চলে যাবে ওদিকে। স্বরূপনগরের কৈজুরি সীমান্তে এই ছবি এখন পরিচিত। 

Advertisement

কাঁটাতারের বেড়া প্রসঙ্গে স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১০০টি বাড়ি ও তাদের জমি নতুন ফেন্সিংয়ের আওতায় পড়বে। সেই থেকেই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ— রাতের অন্ধকারে বেড়ার ওপারে থাকা বাড়ি বা জমিতে কোনো সমস্যা হলে কীভাবে সামাল দেও য়া যাবে? এই ভয় থেকেই এলাকায় এখন একটা কথা ঘুরছে— দিনে উত্তর ২৪ পরগনা হলেও, রাতে যেন সাতক্ষীরার বাসিন্দা হতে চলেছি। অবশ্য নাগরিকত্ব বদলের কথা নয়। সীমান্তের বেড়া বাড়ি-জমির অবস্থানকে কীভাবে বদলে দেবে, সেই আশঙ্কার কথা বলছেন স্থানীয়রা। সীমান্তের কাছেই রয়েছে দোবিলা প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ১০০। পাশেই খেলার মাঠ। সকাল হলে পড়ুয়ারা আসে। বিকাল হলেই মাঠে ছেলেমেয়েদের ভিড়। প্রস্তাবিত ফেন্সিংয়ের মধ্যে স্কুল ও মাঠ পড়বে বলেই স্থানীয়দের আশঙ্কা। ফলে কাঁটাতারের বেড়া উঠলে স্কুলের ভবিষ্যৎ কী হবে, মাঠে যাতায়াতই হবে কী করে, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গ্রামের ভিতরে যত এগনো যায়, ততই চোখে পড়ে মার্কিংয়ের চিহ্ন। কৈজুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শান্তিলতা তরফদারের বাড়ির একাংশ প্রস্তাবিত সীমারেখার ওপারে পড়ছে। তবে, এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি প্রধান। তবে, তাঁর ছেলে শুভঙ্কর তরফদার বলেছেন, ২০১৮ সালের মাপজোক অনুযায়ী কাজ হলে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু এখন নতুন করে মাপজোক হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। মনোজ প্রামাণিকের জমিতেও হয়েছে মার্কিং। তাঁর কথায়, এই জমিতে চাষাবাদ করি। বাড়িও রয়েছে। কাঁটাতারের বেড়া হলে কতটা জমি থাকবে, কতটা যাবে, এখনও বুঝতে পারছি না। ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু টাকা হাতে পাইনি। শুকদেব প্রামাণিকের বাড়ির কাছেও পড়েছে সেই দাগ। তাঁর বক্তব্য, বাপ-ঠাকুরদার সময় থেকে এখানে আছি। আগামী দিনে কী হবে, বুঝতে পারছি না। বাড়ি বা জমির অংশ যদি কাঁটাতারের ওপারে চলে যায়, তখন রাতে সেখানে কোনো সমস্যা হলে আমরা কীভাবে যাব? কাঁটাতারের ওপারে বাড়ি থাকলে সন্ধ্যা ৬টার আগেই আমাদের বাড়ি চলে যেতে হবে। কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে মুশকিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত জিরো পয়েন্টের জন্য ৪৫০ ফুট এবং রাস্তার জন্য প্রায় ১৫০ ফুট জায়গা রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০০ ফুট এলাকা সীমান্ত নিরাপত্তার কাজে নেওয়া হবে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ