সন্তানের কাছে মাতৃঋণ আজীবনের। নিজের মাকে নিয়ে কতই না গল্প জড়িয়ে আছে জীবনের নানা বাঁকে। কিন্তু মায়েদের কথা আলাদা করে বলা হয় কই? বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা লিখছেন তাঁদের মায়ের কথা। এই পর্বে অভিনেত্রী মোহনা মাইতি।
সন্তানের কাছে মাতৃঋণ আজীবনের। নিজের মাকে নিয়ে কতই না গল্প জড়িয়ে আছে জীবনের নানা বাঁকে। কিন্তু মায়েদের কথা আলাদা করে বলা হয় কই? বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা লিখছেন তাঁদের মায়ের কথা। এই পর্বে অভিনেত্রী মোহনা মাইতি।
• মা মানে আমার কাছে শান্তি। মা যেখানে, সেটাই আমার কাছে বাড়ি, শান্তির বাড়ি। সেটা বাড়ির বাইরে হলেও, মা সঙ্গে থাকলে, বাড়ির মতোই শান্তি পাই। আমার মায়ের নাম অসীমা মাইতি। মায়ের ভালোবাসাতেও তাই কোনো সীমা পরিসীমা কখনো দেখিনি, অগাধ ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন।
আমি বড়ো হয়েছি মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে। ছোটোবেলা থেকেই মাকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে দেখেছি। যেমন মায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেক, সেই সূত্রে মা স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পেলেও, নির্দ্বিধায় আমার জন্য সেটা ছেড়ে দেন। যাতে আমাকে ভালোভাবে মানুষ করতে পারেন। সময় যত এগিয়েছে, তত মাকে আরও অনেক সুযোগ হাতছাড়া করতে দেখেছি, শুধুমাত্র আমাকে বড়ো করার জন্য। মায়ের ইচ্ছে, স্বপ্নও সবটা আমায় ঘিরে। তবে মা কিন্তু আমায় কখনোই কোনো কিছুই চাপিয়ে দেননি। পড়াশোনায় ভালো ছিলাম বলেই আমার আইএএস হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেখান থেকে যখন অভিনয় ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখলাম, সেখানেও আমি সমানভাবে মাকে পাশে পেয়েছি।
আমার যে কোনো সিদ্ধান্তে বরাবর শক্ত কাঠামোর মতো দাঁড়িয়েছেন মা। সব মায়ের মতো আমার মাও শাসন করেন। তবে মায়ের আমাকে বুঝিয়ে বলাটাই বেশি, ঠিক বন্ধুর মতো। আমার মনখারাপের সঙ্গীও সেই মা। কীভাবে যে কিছু না বলতেই বুঝে যায় সবটা, এমনকি মনখারাপের কারণটাও ঠিক ধরতে পেরে যায়, এই জন্যই হয়তো মা। একদিকে এই মানুষটা আমার কাছে ঈশ্বরের মতো। আবার মা আমার জীবনের সেই বন্ধু, যার সঙ্গে মন খুলে শুরু থেকে শেষ সবটা আলোচনা করি। আবার মাঝে মাঝে তো দু’জনই দু’জনের যুক্তি নিয়ে বসে থাকি। ফলে মা-মেয়ের তুমুল ঝগড়াও হয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার সবটা মিটিয়ে নিই।
মানুষকে কীভাবে সম্মান জানাতে হয়, সেটা মায়ের থেকেই শেখা। আসলে মা নিজেই এতটা মাটির মানুষ। আমি জানি না কতটা মায়ের মতো হতে পেরেছি, তবে প্রতি মুহূর্তে চেষ্টা করি। সারা জীবন যেন মায়ের সব গুণগুলোই আমার মধ্যে আরও বাড়তে থাকে। তবে মায়ের একটা জিনিসে আমার বড়ো আপত্তি। কোনো কিছুই আমার থেকে মা নিতে চান না। জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকীতে যদি হঠাৎ না জানিয়ে কোনো উপহার দিই, তাহলেই একমাত্র ছাড়। মেয়ের কষ্টে উপার্জিত টাকার যেন কোনো অপচয় না হয়, মা সেদিকেই খেয়াল রাখেন। যেদিন আমার উপার্জনে মাকে ঘড়ি কিনে দিয়েছিলাম, মায়ের চোখে জল দেখেছিলাম, বুঝেছিলাম মায়ের স্বপ্নের হয়তো একটা ধাপ এগতে পেরেছি। মায়ের মুখের ওই হাসিটা দেখার জন্য আমি আরও অনেক ভালো ভালো কাজ করে যেতে চাই। সব মুশকিল-আসানের সূত্র আমার মা যেন সারা জীবন সুস্থ থাকেন।