নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেষ টাকা এসেছিল গত আগস্টে। তারপর থেকে জলস্বপ্ন প্রকল্পের (জলজীবন মিশন) একটি টাকাও দেয়নি মোদি সরকার। কেন্দ্রীয় বাজেটে ২০২৮ পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য নতুন অর্থবর্ষে টাকা আসবে বলে ভেবেছিল রাজ্য। তারপরেও পেরতে চলেছে দু’মাস। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে টাকা দেওয়ার নামই নেই। এই পরিস্থিতিতে প্রকল্পের আর্থিক রাজ্যকেই বোঝা বইতে হচ্ছে। টাকা না দিলেও চোখ রাঙানি বন্ধ নেই নয়াদিল্লির। পশ্চিমবঙ্গের ছয় জেলায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে মোদি সরকার। নেতৃত্বে থাকবেন একজন করে নোডাল অফিসার।
কেন্দ্রীয় দল পাঠানোর ব্যাপারে বুধবার কেন্দ্র সব রাজ্যকেই চিঠি দিয়েছে। তাতে জানানো হয়েছে, দেশজুড়ে ২৯টি রাজ্যের ১৩৫টি জেলায় ১৮৩টি স্কিমের পরির্দশনে যাবেন ৯৯ জন নোডাল অফিসারের নেতৃত্বে ওই দলগুলি। চিঠি এসেছে বাংলার জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরেও। তাতে জানানো হয়েছে, এরাজ্যের ছয় জেলার একটি করে স্কিম (বাড়ি বাড়ি জল সরবরাহের প্রকল্প) পরিদর্শনে করবে এই বিশেষ দল। এই জেলাগুলি হল—মালদহ, নদীয়া, বাঁকুড়া, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পুরুলিয়া। কিন্তু তারা কবে আসবে এবং কোন জেলায় কবে যাবে তা আজ, বুধবার রাজ্যগুলির সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে ঠিক হবে। কাজের গুণমানের পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল খোঁজ নেবে, এই প্রকল্পে অকারণে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে কি না। তবে পশ্চিমবঙ্গে এমন ঘটনার সম্ভাবনা নেই বলেই দাবি রাজ্যের। কারণ, কেন্দ্রের নির্ধারিত খরচের তুলনায় অনেক কম খরচে সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে বাংলায়। ফলে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের কাছে রাজ্যের বকেয়া দ্রুততার সঙ্গে মেটানোর দাবি তোলা হবে।
সেক্ষেত্রে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের কাছে রাজ্যের তরফে বকেয়া অর্থ দ্রুত মেটানোর কথা বলা হবে। কারণ, এই প্রকল্পের ৫০ শতাংশ টাকা দেয় কেন্দ্র। গত অর্থবর্ষে সামান্য টাকা দেওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে রেখেছে কেন্দ্র। ২০২৪-২৫-এ কেন্দ্রের অংশের ৫,০৪৯ কোটির মধ্যে মাত্র ২,৫২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে মোদি সরকার। তবে বাংলার মানুষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ সুনিশ্চিত করতে রাজ্যের কোষাগার থেকে সেই ঘাটতি মিটিয়ে কাজ চালু রাখার চেষ্টা করা হয়েছে নবান্নের তরফে। শুধুমাত্র গত অর্থবর্ষেই প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফে। সাধারণত কেন্দ্র টাকা দিলে তার অংশের সমতুল্য অর্থ বরাদ্দ করতে হয় রাজ্যকে। তবে এই ক্ষেত্রে কেন্দ্রে টাকা না দেওয়ায় গত অর্থবর্ষ জুড়ে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ করেছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে নবান্নে। তারপরই রাজ্য অর্থদপ্তর পিএইচই’র জানতে চেয়েছে—কেন্দ্র টাকা না দিলে কাজ চালাতে সামগ্রিকভাবে কত টাকা প্রয়োজন। শীঘ্রই এই তথ্য নবান্নে পাঠানো হবে। কাজে গতি আনতে আপাতত এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা চাওয়া হতে পারে।