Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

মমতার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প: ৫০০ কোটি খরচ রাজ্যবাসীর ক্যান্সারের চিকিৎসাতেই

রাজ্যে বর্তমানে ৩২ হাজারেরও বেশি ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা চলছে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ব্রেস্ট ক্যান্সারের।

মমতার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প: ৫০০ কোটি খরচ রাজ্যবাসীর ক্যান্সারের চিকিৎসাতেই
  • ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে বর্তমানে ৩২ হাজারেরও বেশি ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা চলছে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ব্রেস্ট ক্যান্সারের। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হেড এন্ড নেক ক্যান্সার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে চিকিৎসা পাওয়া ক্যান্সার রোগীদের ৬০ শতাংশই মহিলা। বাকি ৪০ শতাংশ পুরুষ। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। এক সময় গরিব পরিবারের কারও ক্যান্সার ধরা পড়ার অর্থ ছিল মরার আগেই ধনেপ্রাণে মারা যাওয়া। রাজ্যের সেই পরিস্থিতি আমূল বদলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যসাথী চালু হওয়ার পর নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ নির্দ্বিধায় রাজ্যের এক নম্বর সরকারি বা বেসরকারি ক্যান্সার হাসপাতালে নিখরচায় চিকিৎসা করাতে পারছেন।

Advertisement

কী কী ধরনের চিকিৎসা করাতে পারছেন স্বাস্থ্যসাথীর ক্যান্সার রোগীরা? দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অঙ্কো সার্জারি করা যাচ্ছে। এমনকী, ক্যান্সারের ওষুধের খরচও দিয়ে দেওয়া হয় রোগীকে। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা বাজেটের এই স্বাস্থ্য প্রকল্পের ৬ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হচ্ছে শুধু ক্যান্সার কেয়ারে।
খরচের অঙ্ক বিচার করলে ক্যান্সার ও হার্টের অসুখ সংক্রান্ত চিকিৎসায় স্বাস্থ্যসাথীর খরচ হচ্ছে সবথেকে বেশি। দু’ক্ষেত্রেই রাজ্যের খরচ হচ্ছে ১ থেকে দেড় কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাজারহাটের একটি নামকরা ক্যান্সার হাসপাতাল টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসাথী রোগীর চিকিৎসা করছে। মাসে প্রায় ৭-৮ কোটি টাকার চিকিৎসা করছে তারা। রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান বা শিশুমঙ্গল হাসপাতালও প্রচুর স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা করছে। এছাড়া হার্টের চিকিৎসা বাইপাস সার্জারি, ভালভ প্রতিস্থাপন, অ্যাঞ্জিওগ্রাম ও তারপর অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি সহ প্রচলিত সব ধরনের চিকিৎসা চলছে স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে। ক্যান্সার এবং হার্টের চিকিৎসার পরই টাকার অঙ্কে সবথেকে বেশি চিকিৎসা হচ্ছে অপারেশনের রোগীদের।  যেমন, ল্যাপকলি বা ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতিতে গলব্লাডার স্টোনের অপারেশন অথবা কোলেসিসটেকটমি, হার্নিয়া, অ্যাপেনন্ডিক্স সহ ছোট-মাঝারি, বহুক্ষেত্রে মেজর সার্জারিও হচ্ছে স্বাস্থ্যসাথীতে। শহরের একটি নামকরা প্রাইভেট হাসপাতালে হার্ট প্রতিস্থাপনও হয়েছে স্বাস্থ্যসাথীর টাকায়। একদিনেই প্রায় ৭০-৮০ লক্ষ টাকার অস্ত্রোপচার হচ্ছে এই প্রকল্পে। দিনে ২২০০ করে ২৬ লক্ষ টাকার চিকিৎসা পাচ্ছেন ডায়ালিসিস রোগী। 
প্রশ্ন জাগতেই পারে, একটা-দুটো বড় প্রাইভেট হাসপাতালেই বোধহয় চিকিৎসা পাচ্ছেন স্বাস্থ্যসাথী রোগীরা! প্রকল্পের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ঘটনা তা নয়। এই প্রকল্পের আওতায় এনএবিএইচ শংসাপত্র প্রাপ্ত মাঝারি ও বড় প্রাইভেট হাসপাতাল রয়েছে প্রায় ৪০টি। তা বাদে অন্যান্য হাসপাতালের সংখ্যা প্রায় ২৫০০। খরচের বিচারে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার এই স্বাস্থ্য প্রকল্পের ৩১ শতাংশ অর্থ খরচ হচ্ছে ওই ৪০টি হাসপাতালে পরিষেবা দিতে। আর ৬৯ শতাংশ অর্থ ব্যয় হচ্ছে বাকি ২৫০০ হাসপাতালে রাজ্যের মানুষের চিকিৎসায়।

সম্পর্কিত সংবাদ