Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যেন কাটা না পড়ে, ডিএমদের স্পষ্ট বার্তা মমতার

বিহারের পরে বাংলা। ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) চালু করতে জোর কদমে তোড়জোড় শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।

কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যেন কাটা না পড়ে, ডিএমদের স্পষ্ট বার্তা মমতার
  • ১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিহারের পরে বাংলা। ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) চালু করতে জোর কদমে তোড়জোড় শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার নবান্নে জরুরি ভিত্তিতে তলব করা হয় সকল জেলাশাসকদের। মুলত ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’, বিপর্যয় মোকাবিলা এবং পরিষেবা প্রদান নিয়ে পর্যালোচনা ও প্রস্তুতির জন্য ডেকে পাঠান মুখ্যসচিব। তেরো তলায় তাঁর কনফারেন্স রুমেই দুপুর ১টা নাগাদ শুরু হয় বৈঠক। বৈঠক চলাকালীন জেলাশাসকদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তৃণমূলস্তর পর্যন্ত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে,  মানুষের ভোটাধিকার খর্ব হওয়া ঠেকাতে সজাগ থাকার বার্তা দেন বলেই সূত্রের খবর। রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকে তিনি গেরুয়া শিবিরের চোখ রাঙানিকে তোয়াক্কা না করে নির্ভীক হয়ে কাজ করার কথা বলেছেন বলেই জানা গিয়েছে।

Advertisement

ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পরে রাজ্যের আধিকারিকদের সম্পূর্ণ ভাবে নির্বাচনের কমিশনের নির্দেশ মেনেই কাজ করতে হয়। তবে তার আগে ও পরে তাঁরা কাজ করেন রাজ্য সরকারের জন্য। বীরভূমের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে রাজ্যের আধিকারিকদের বিষয়টি স্পষ্ট বার্তায় জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকেও এই বিষয়টি জেলাশাসকদের ফের একবার করে স্মরণ করিয়ে করে দেওয়া হয়েছে। ‘আগে ভোট আসুক,তার পরে তো কমিশনের জন্য কাজ করার ব্যাপার’—এই মর্মেই তাঁদের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিরোধী রাজ্যগুলিতে এক শ্রেণির আধিকারিকদের ‘নানা ভাবে ভয় দেখিয়ে বা প্রভাবিত’  করে নির্বাচনী ফায়দা তুলতে চেষ্টা করে গেরুয়া শিবির। ২০২৬-এর ভোটের আগে বাংলাতেও এই কৌশল কাজে লাগানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলেই তাঁদের ধারণা। আর সেই কারণেই এখন থেকে জেলাশাসকদের মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক করে দিলেন বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। 
সেই সঙ্গে এসআইআর’এ একজন যোগ্য ভোটারেরও যাতে নাম বাদ না যায়, তা সুনিশ্চিত করতেও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, কেউ মারা গেলে বা অন্যান্য ন্যায্য কারণে যদি কারও নাম বাদ যায়, তাহলে কিছু বলার নেই। তবে যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁদের ক্ষেত্রে যেন একাধিকবার প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি মিলিয়ে দেখে নেওয়া হয়। তা না করে যেন কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়া না হয়। ভোটার তালিকা সংশোধনী সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্য নবান্নকে না জানিয়ে রাজ্যের এক হাজার আধিকারিককে দিল্লি পাঠানো নিয়ে এদিনও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তা এড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিক যাঁরা ফিরে আসতে চাইবেন, তাঁদের জন্য রেশন দেওয়া থেকে শুরু করে সমস্ত রকম ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বিএসএফ সীমান্তে গেরুয়া শিবিরের হয়ে কাজ করে বলে একাধিকবার আক্রমণ করেছেন মমতা। সীমান্ত এলাকায় যাতে বিশেষভাবে নজর রাখা হয়, সে নির্দেশ তিনি দিয়েছেন বলেও খবর। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শেষ করাটা বাধ্যতামূলক বলে আধিকারিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ