Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পাহাড়ে মধ্যস্থতাকারীর দপ্তর চালুর নির্দেশে ক্ষুব্ধ মমতার চিঠি মোদিকে, পিএমওর আর্জি উড়িয়ে বিজ্ঞপ্তি শাহের মন্ত্রকের

ভোট আসতেই ফের গোর্খাল্যান্ডের জিগির তুলতে শুরু করেছে কেন্দ্র। অর্থাৎ, গেরুয়া শিবিরের বঙ্গভঙ্গের ব্লুপ্রিন্টকে রূপ দিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অমিত শাহের দপ্তর।

পাহাড়ে মধ্যস্থতাকারীর দপ্তর চালুর  নির্দেশে ক্ষুব্ধ মমতার চিঠি মোদিকে, পিএমওর আর্জি উড়িয়ে বিজ্ঞপ্তি শাহের মন্ত্রকের
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোট আসতেই ফের গোর্খাল্যান্ডের জিগির তুলতে শুরু করেছে কেন্দ্র। অর্থাৎ, গেরুয়া শিবিরের বঙ্গভঙ্গের ব্লুপ্রিন্টকে রূপ দিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অমিত শাহের দপ্তর। আর সেই কারণেই দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই পাহাড়-ডুয়ার্সের মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে সরব হন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি পেয়ে বিষয়টি অমিত শাহকেই দেখার জন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (পিএমও) তরফে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। কিন্তু, পিএমওর নির্দেশকেও তোয়াক্কা না করে দার্জিলিংয়ে কাজ শুরু করে দিল মধ্যস্থতাকারীর দপ্তর। এই মর্মে ১০ নভেম্বর একটি নির্দেশিকাও জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজ্যের সম্মতি ছাড়াই অসাংবিধানিকভাবে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। ফের সোমবার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন তিনি। পিএমওর হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশিকা জারির বিষয়টির উল্লেখ করা হয়েছে মমতার চিঠিতে। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, ‘কেন্দ্রের এই অযাচিত পদক্ষেপ শুধু অসাংবিধানিকই নয়, রাজনৈতিক কারণে পাহাড়-ডুয়ার্সের শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার লক্ষ্যেও গৃহীত।’

Advertisement

প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ ব্যাচের আইপিএস অফিসার, প্রাক্তন ডেপুটি জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা পঙ্কজকুমার সিংকে পাহাড়-ডুয়ার্সের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি বা মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গতমাসে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিবাদ চিঠি লেখেন মুখ্যমন্ত্রী। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পাহাড়ে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০০৯ সালে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের আবহে একই পদক্ষেপ করা হয়। সেবার প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিজয় মদনকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করে তৎকালীন ইউপিএ সরকার।
কিন্তু মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ কেন অসাংবিধানিক? সোমবারের চিঠিতে তা পরিষ্কার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ‘পাহাড়-ডুয়ার্সের যে-সমস্ত কাজ রাজ্যের আইনে নিয়ন্ত্রিত হয়, সেই একই ক্ষেত্রের জন্য মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হল! এতে রাজ্যের ক্ষমতা খর্ব হয়েছে। একইসঙ্গে গুরুতরভাবে আহত হয়েছে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো।’ ফলে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত তাঁর সরকার মেনে নিচ্ছে না বলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিনের চিঠিতে সাফ জানিয়েছেন। ওইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্ত বাতিলেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ