Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মুকুন্দপুরে ‘রেভ পার্টি’! কিশোরীকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণে ধৃত ধনী পরিবারের নাবালক

‘রেভ পার্টি’। ন’জন নাবালক-নাবালিকা। মাদক এবং ধর্ষণ। এই অভিঘাতেই খবরের শিরোনামে চলে এল পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকার মুকুন্দপুর।

মুকুন্দপুরে ‘রেভ পার্টি’! কিশোরীকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণে ধৃত ধনী পরিবারের নাবালক
  • ২৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘রেভ পার্টি’। ন’জন নাবালক-নাবালিকা। মাদক এবং ধর্ষণ। এই অভিঘাতেই খবরের শিরোনামে চলে এল পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকার মুকুন্দপুর। এই ঘটনায় পকসো ও ধর্ষণ আইনে কেস রুজু করে ধনী পরিবারের এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিণী একই ইংরাজি মাধ্যম স্কুলের সহপাঠী। এই দু’জন ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন ‘কমন ফ্রেন্ড’কে সঙ্গে নিয়েই একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিল তারা। সেখানেই এক বন্ধুর প্রস্তাব ছিল ‘রেভ পার্টি’র। প্রস্তাবে রাজি হয় সকলেই। গ্রুপে থাকা দুই নাবালিকা আসতে রাজি হয় ‘বয়ফ্রেন্ড’রা আসছে বলেই। তারিখ, ১৮ জুলাই। কিন্তু হবে কোথায়? এক বন্ধু অনলাইনে মুকুন্দপুরে একটি ফ্ল্যাট বুক করে সারাদিনের জন্য। বেলা একটা থেকে হাজির হতে শুরু করে সকলে। সব মিলিয়ে পার্টিতে এসে পৌঁছায় সাত নাবালক ও দুই নাবালিকা। অনলাইনেই অর্ডার হয় মদ ও মাদক। কোল্ড ড্রিঙ্কের মধ্যে মদ মিশিয়ে সকলকে দিচ্ছিল এক বন্ধু। সঙ্গে চলছিল মাদক সেবন ও  নাচগান। অতিরিক্ত নেশায় বেহুঁশ হয়ে পড়ে এক নাবালিকা। তাকে পাশের ঘরে নিয়ে যান বয়ফ্রেন্ড। চেষ্টা হয় কিশোরীকে সুস্থ করে তোলার। বাকিরা তখনও মদ ও মাদকের উপর ছিল। বিকাল ৪টে নাগাদ অন্য নাবালিকা তার বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে বেরোয়। তাদের সঙ্গে বেরিয়ে আসে পার্টিতে উপস্থিত দুই কিশোরও। চারজন একটি অ্যাপ ক্যাবে ওঠে। দু’জন নেমে যায় রাসবিহারীতে। গাড়িতে থাকা নাবালিকা ও তার বয়ফ্রেন্ড যায় একটি পাবে। পাবে যাওয়া কিশোরী ও তাঁর বয়ফ্রেন্ড কয়েক ঘণ্টা পর আবার ফেরে মুকুন্দপুরের পার্টিতে। 
ওই নাবালিকা অভিযোগে উল্লেখ করেছে, তখনই তাকে জোর করে আবার মদ ও মাদক খাওয়ানো হয়। এতে সে বেহুঁশ হয়ে পড়ে। রাত ৮টা নাগাদ তাকে ধর্ষণ করে বয়সে ছোটো এক বন্ধুই। এমনকি আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিয়ো পর্যন্ত করে রাখে। পরে কিশোরী স্বাভাবিক হলে অ্যাপ ক্যাব ধরে ফিরে যায় গল্ফগ্রিনের বাড়িতে। পরিবারের লোকজন জানতে চাইলে সে খুলে বলে পুরো ঘটনা। গল্ফগ্রিন থানায় অভিযোগ হলেও ঘটনা পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকায় হওয়ায় জিরো এফআইআর করে তাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই ভিত্তিতে পূর্ব যাদবপুর থানা কেস রুজু করে।
তদন্তে নেমে পুলিশ ওই নাবালিকার সঙ্গে কথা বলে পার্টির বিষয়ে জানতে পারে। সেখানে আসা একজন বাদে সকলেই পরিচিত ছিল বলে জানায় নির্যাতিতা। নাবালিকার দাবি, অভিযুক্ত ওই নাবালকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল। বড়লোক পরিবারের সন্তান। সেই তাকে ধর্ষণ ও যৌন হেনস্তা করেছে। এরপরই তাকে ধরে পুলিশ। পার্টিতে উপস্থিত প্রত্যেকের কাছেই ঘটনা সম্পর্কে জানতে চান তদন্তকারী অফিসাররা। তাঁরা জেনেছেন, এই গ্রুপের রেভ পার্টি এবারই প্রথম নয়। আগেও করেছে। ওই কিশোরীকে যৌন হেনস্তাই যে টার্গেট ছিল, তা উঠে এসেছে তদন্তে। নাবালিকার গোপন জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে। যে অনলাইন সাইট থেকে মাদক এসেছিল, তার তথ্য জোগাড় করেছেন তদন্তকারীরা। ‘পার্টি ড্রাগ’ আনা হয়েছিল বলেই জেনেছেন তাঁরা। মোবাইলের সূত্র ধরে মাদক কারবারিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ