নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চুরি যাওয়া বাইক উদ্ধার হচ্ছে। কিন্তু ধরা পড়ছে না চোরাই মাল কেনাবেচায় জড়িত চক্রের পান্ডারা। এই সুযোগে অনায়াসে তাদের কাছে আবার পৌঁছে যাচ্ছে চোরাই বাইক। বাইক চুরির তদন্তে শিকড় পর্যন্ত না যাওয়ায় বন্ধ হচ্ছে না এই অপরাধ। চোরাই বাইকের ‘রিসিভাররা’ ধরা না পড়ায় অসন্তুষ্ট লালবাজার। শুধু অপরাধীই নয়, চোরাই বাইক কেনাবেচার কারবারে জড়িতদের ধরার উপর গোয়েন্দা বিভাগকে জোর দিতে বলেছেন খোদ পুলিশ কমিশনার।
কলকাতা পুলিশ এলাকায় বিগত তিনমাসে একাধিক বাইক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পার্কিং লট থেকে চুরি গিয়েছে দুচাকার গাড়ি। ধরা পড়েছে বাইক চুরির ঘটনায় অভিযুক্তরা। উদ্ধার হয়েছে ১২টির বেশি বাইক। কিন্তু আধিকারিকদের নজরে এসেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই চোরাই বাইক কিনছে যে চক্র, সেটি ধরা পড়ছে না। চোরাই বাইক কেনাবেচায় জড়িত ব্যক্তিরা যেখানে এগুলি রাখছে সেখান থেকে পাওয়া যাচ্ছে দুচাকার এই যান। তদন্তের এই ফাঁক নিয়ে অসন্তুষ্ট লালবাজারের কর্তারা। শনিবার কলকাতা পুলিশের ক্রাইম কনফারেন্সেও এই বিষয়টি উঠে এসেছে। খোদ পুলিশ কমিশনার লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের অফিসারদের বলেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। শুধু চুরিতে জড়িত ব্যক্তি গ্রেপ্তার ও বাইক উদ্ধার করলেই চলবে না। এগুলি যে চক্র কিনছে তাদের ধরার উপর জোর দিতে হবে। পুলিশি তল্লাশির পর তারা ডেরা পাল্টে বেআইনি কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের কাছেই বাইকের নম্বর প্লেট বদল হচ্ছে। জাল নম্বর প্লেট, রং বদলে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে অন্য জেলায়। এমনকি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত চলে যাচ্ছে। অনেক সময় বাইকের ইঞ্জিন নম্বর ও চেসিস নম্বর তুলে দেওয়া হচ্ছে। যাতে চুরির বাইক ধরা না যায়। এই বাইক নিয়ে অপরাধ হলে সেক্ষেত্রে অপরাধের কিনারা করতে গিয়ে তদন্তকারীদের যে কালঘাম ছুটবেন তা বুঝছেন কর্তারা। সূত্রের খবর, চোরাই বাইক কেনাবেচায় জড়িতদের সঙ্গে পুলিশের একাংশের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাই অনেক ক্ষেত্রেই পার পেয়ে যাচ্ছে। সেই কারণে রিসিভারদের ধরে বাইক চুরি চক্রের কোমর ভাঙার উপর জোর দিতে নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার।