নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খাস কলকাতায় বাড়ছে বাল্যবিবাহ। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন লালবাজার। পুলিশি নজরদারির অভাবই একারণে দায়ী। কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ-পূর্ব ও ভাঙড় ডিভিশনের বিভিন্ন এলাকায় বাল্যবিবাহের হার সবচেয়ে বেশি বলে খবর। একথা কানে আসতেই কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। একইসঙ্গে মানুষকে সচেতন করার উপরেও জোর দিতে বলা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলছেন, বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। এ নিয়ে এতদিন পুলিশের ঢিলেঢালা মনোভাব থাকলেও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সক্রিয় হয়েছে কলকাতা পুলিশের সব থানা। জানা গিয়েছে, বাল্যবিবাহ নিয়ে থানাগুলির কাছে কোনো তথ্যই এতদিন ছিল না। এমনকি নাবালিকার বিয়ে হয়েছে, এই অভিযোগ পেলেও সেভাবে গুরুত্ব দিত না থানাগুলি। যে কারণে নাবালিকা উদ্ধারের হার খুব কম। বিয়ের পর কতজন কিশোরী এলাকা থেকে চলে গিয়েছে বা আর ফিরে আসেনি, এই তথ্যও পুলিশের কাছে নেই। তৃণমূল আমলে বাল্যবিবাহের প্রবণতা ব্যাপক হারে বেড়েছিল। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ায় লালবাজারের গুঁতোয় ঘুম ভেঙেছে থানাগুলির। গত কয়েক বছরে থানা এলাকায় কতগুলি এমন ঘটনা ঘটেছে, সেই তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ-পূর্ব ডিভিশনের তিলজলা, তপসিয়া, কড়েয়া এলাকায় বাল্যবিবাহের হার বেশি। একইভাবে ভাঙড় ডিভিশনের উত্তর কাশীপুর, বিজয়গঞ্জ বাজার সহ বিভিন্ন থানা এলাকায় এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এই দুই ডিভিশনে গত এক-দেড় বছরে ১০০ জনেরও বেশি কিশোরীর বিয়ে হয়েছে। তাদের সিংহভাগেরই আর খোঁজ নেই। হয় তারা বিয়ের পর অন্যত্র চলে গিয়েছে, নাহয় পাচার হয়ে গিয়েছে।
গত শনিবার বিষয়টি কলকাতা পুলিশের মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে উঠলে সিপি তাঁর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। সেখানেই দুই ডিভিশনের চিত্র স্পষ্ট হয়। বাল্যবিবাহের পিছনে আর্থ-সামাজিক কারণ ও সচেতনতার অভাবকে চিহ্নিত করেছেন আধিকারিকরা। সিপি প্রতিটি থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন, কোথাও বাল্যবিবাহ হচ্ছে কি না, সেব্যাপারে নিয়মিত খোঁজখবর নিতে হবে। কোনো ঘটনা ঘটলে বা নজরে এলে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করতে হবে থানাকে। প্রয়োজনে অভিভাবকদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। লালবাজারে তরফে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই যেসব বিয়ে হয়েছে, সেই দম্পতিদের সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করবে থানাগুলি। যাতে অন্তত কিছু নাবালিকাকে উদ্ধার করা যায়।
পাশাপাশি প্রতিটি থানা এলাকায় বিশেষত দক্ষিণ-পূর্ব ও ভাঙড় ডিভিশনে বিশেষ সচেতনতামূলক প্রচারের উপর জোর দিতে বলেছে লালবাজার। এলাকায় গিয়ে অভিভাবক ও নাবালিকাদের বোঝাতে হবে, কেন আঠারো অনূর্ধ্ব মেয়েদের বিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বাল্যবিবাহ হলে কী কী শারীরিক সমস্যা হতে পারে, তাও ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। এই ধরনের বিয়ে আইনত অপরাধ।