Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অগ্নিমূল্য বাজারদরেই আজ লক্ষ্মী আরাধনা

রোববার সকালের হাতিবাগান বাজার। বিক্রেতাদের হাঁকডাক, ক্রেতাদের দর কষাকষিতে গমগম করছে চারপাশ। এদিনের ভিড় আর পাঁচটা রবিবারের চেয়েও কিছুটা বেশি।

অগ্নিমূল্য বাজারদরেই আজ লক্ষ্মী আরাধনা
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রোববার সকালের হাতিবাগান বাজার। বিক্রেতাদের হাঁকডাক, ক্রেতাদের দর কষাকষিতে গমগম করছে চারপাশ। এদিনের ভিড় আর পাঁচটা রবিবারের চেয়েও কিছুটা বেশি। কারণ, আজ সোমবার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো—ধনসম্পদের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর আরাধনা করবে বাঙালি গৃহস্থ। সেই বাজারে কানে এল ক্রেতা-বিক্রেতার কথোপকথন। ‘বৌদি, আপেল কিন্তু ২০০ টাকার কমে দিতে পারব না।’ দাম শুনে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় পাইকপাড়ার গৃহবধূ নূপুর সরকারের। বললেন, ‘এই তো ক’দিন আগে ১৫০ টাকা করে নিলাম। এক ধাক্কায় ৫০ টাকা বেড়ে গেল!’ অগত্যা ওই দামেই এক কেজি আপেল নিলেন নূপুরদেবী। লক্ষ্মীপুজোর বাজারে এটি কোনও খণ্ডচিত্র নয়। অগ্নিমূল্য বাজারদর নিয়ে মনে কিঞ্চিৎ অসন্তোষ রেখেই এবার কেনাকাটা সারছে বাঙালি। বিক্রেতারা অবশ্য জানাচ্ছেন, ফলের দাম অনেকটা চড়লেও বেগুন, ফুলকপি, শসা বাদ দিয়ে অন্যান্য সবজির দর খুব বেশি বাড়েনি। 

Advertisement

এদিন শ্যামবাজার, শোভাবাজার, বাগবাজার, হাতিবাগান, মানিকতলা, আশুবাবুর বাজারে ঢুঁ দিয়ে দেখা গেল, শাঁকালু বিকোচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। ন্যাসপাতি ১৫০ টাকা, বেদানা ২৫০ টাকা, পেয়ারা ১২০ টাকা, আনারস প্রতি পিস ৮০ টাকা, মৌসুম্বি দু’তিন পিস ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাতাবি লেবু প্রতি পিসের দাম পড়ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। ঘটের ছোট ডাব একটির দাম ৫০-৬০ টাকা। লক্ষ্মীপুজোয় পদ্মের চাহিদা তুঙ্গে ওঠে। প্রতি পিস পদ্মফুল খুচরো বাজারে বিক্রি হয়েছে ২০-২৫ টাকায়। আজ তা ৩০-৩৫ টাকা হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারাই। কুচোফুল ২৫-৩০ টাকার কমে দিতেই চাইছেন না তাঁরা। 
সবজির বাজারদর অবশ্য গত কয়েকদিনের তুলনায় খুব একটা বাড়েনি। ব্যতিক্রম পটল, ফুলকপি এবং বেগুন। শ্যামবাজারে পুজোর বাজার সেরে এপিসি রোডের বাসিন্দা সুলতা নন্দী বলেন, ‘ফলের দাম তো আকাশছোঁয়া। সবজির দর না বাড়লেও চড়া। কিন্তু পুজোর প্রসাদ, খিচুড়ি ভোগ সবই তো করতে হবে। তাই আয়োজনে একটু কাটছাঁট করতে হল।’ লক্ষ্মীর সরাতে পুজো হয় বাগমারির তপতী মজুমদারের  বাড়িতে। মানিকতলা বাজারে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, ‘এবার বড় সাইজের সরা কিনেছি। কিন্তু ভোগের জোগাড় করতে গিয়ে দাম শুনে ছ্যাঁকা লাগছে।’ দক্ষিণ কলকাতার বাজারগুলিতে ফল-ফুল-সবজির দাম আরও চড়া! এক-একটি ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। এক কেজি বেগুন বা পটল ১০০ টাকার কমে পাওয়া যায়নি। যদুবাবু বাজারে সকাল থেকে ভিড়। সেখানে দাঁড়িয়ে ভবানীপুরের কৌশিক মিত্র বলছিলেন, ‘ফুলকপি না হলে কি খিচুড়ি জমে? কিন্তু একদিনের মধ্যে ১৫-২০ টাকা দাম বেড়ে গেলে কী করা যাবে!’ আর বিক্রেতারা বিরস বদনে বলছেন, ‘দাম তো সত্যিই বেড়েছে। ফলে বিক্রিও কমেছে। বেশি দামে আমাদের ফায়দা নেই।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ