পোলাও
পোলাও
উপকরণ: বাসমতী চাল ৩ কাপ, ড্রাই ফ্রুটস কুচি ৩ টেবিল চামচ (কাজুবাদাম, কিশমিশ, আখরোট, কাঠবাদাম), ঘি ২ টেবিল চামচ, গরমমশলা গুঁড়ো, তেজপাতা সামান্য, মিঠা আতর অল্প।
প্রণালী: চাল ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিতে হবে। কড়াইতে ঘি গরম করে ড্রাই ফ্রুটস ভেজে তুলে নিন। ২টো তেজপাতা দিয়ে একটু ভেজে চাল দিয়ে ৩ মিনিট ভেজে নিন। স্বাদমতো নুন ও চিনি দিয়ে ভাজা ড্রাই ফ্রুটস দিয়ে দিন। ৫ কাপ জল দিয়ে নেড়ে ফুটতে দিন। ভালো করে ফুটে উঠলে ঢাকা দিয়ে গ্যাস বন্ধ করে ২০ মিনিট রাখতে হবে। ২০ মিনিট পর ঢাকা খুলে গ্যাস মাঝারি আঁচে রেখে ১ মিনিট হালকা হাতে নেড়ে গরমমশলার গুঁড়ো আর মিঠা আতর ছড়িয়ে নামিয়ে নিতে হবে। এই পোলাও একটু মিষ্টি স্বাদের হয়।
ফুলকপি আলুর ডালনা
উপকরণ: ফুলকপি ১টা মাঝারি আকারের, চন্দ্রমুখী আলু ২টো বড় সাইজের, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, টম্যাটো বাটা ১টা, জিরে গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ, ধনে গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ, হলুদ, লঙ্কা গুঁড়ো, নুন ও চিনি, গরমমশলার গুঁড়ো, ঘি ২ টেবিল চামচ, সাদা তেল ১ টেবিল চামচ, ফোড়নের জন্য: জিরে, তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, গোটা গরমমশলা।
প্রণালী: ফুলকপি কেটে নুন জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। আলুর খোসা ছাড়িয়ে বড় আকারের ডুমো করে কেটে ধুয়ে রাখতে হবে। একটি বোলের মধ্যে জিরের গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, হলুদ, লঙ্কা গুঁড়ো নিয়ে জলে গুলে একটা পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। কড়াইতে তেল ও ঘি গরম করে ফুলকপি আর আলু আলাদা করে ভেজে তুলে নিন। ওই তেলে ফোড়ন দিয়ে একটু ভেজে আদা আর টম্যাটো বাটা নিয়ে কষিয়ে নিন। মশলার পেস্টটা দিয়ে ১ মিনিট কষিয়ে আলু আর ফুলকপি দিয়ে ভালো করে কষিয়ে ৩ কাপ গরম জল আর স্বাদমতো নুন, চিনি দিন। নেড়ে ঢাকা দিয়ে রান্না হতে দিন। ভালো করে ফুটে সব সিদ্ধ হলে ঢাকা খুলে ঘি আর গরমমশলার গুঁড়ো ছড়িয়ে নামিয়ে নিতে হবে।
ছানার পায়েস
উপকরণ: ছানা ২০০ গ্রাম, দুধ ২ লিটার, ড্রাই ফ্রুটস কুচি ১ টেবিল চামচ, কেশর ১ চিমটে, চিনি স্বাদ মতো।
প্রণালী: কড়াইতে দুধের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে জ্বাল দিন। তা জ্বাল দিয়ে অর্ধেক করে নিন। ইতিমধ্যে ছানা ধুয়ে জল ঝরিয়ে ঝুরঝুরে করে নিন। দুধের মধ্যে তা দিয়ে ফোটাতে থাকুন। এর মধ্যে ড্রাই ফ্রুটস আর কেশর দিয়ে ফুটিয়ে বেশ ঘন করে নিন। নামিয়ে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।
মনীষা দত্ত
পুর ভরা নিরামিষ
স্টাফড আলু
উপকরণ: আলু ৪টে, ছানা ২০০ গ্রাম, তেল ১ কাপ, আদা ১ ইঞ্চি, লঙ্কা ২টো, বাদাম ২ চামচ, কিশমিশ ২ চামচ, জিরে গুঁড়ো ১ চামচ, ধনে গুঁড়ো ১ চামচ, হলুদ ১ চামচ, ধনেপাতা কিছুটা, নুন চিনি স্বাদ মতো।
প্রণালী: আলুর খোসা ছাড়িয়ে আলু কুরিয়ে নিতে হবে। আলুগুলো আধসেদ্ধ করে নিতে হবে। তারপর ওই আলুগুলো তেলে ভেজে নিতে হবে। পুর করার জন্য তেল গরম করে জিরে ফোড়ন দিন। তাতে কোরানো আলু, ছানা, সব মশলা, নুন, চিনি দিয়ে ভেজে নিতে হবে। নামানোর আগে বাদাম কিশমিশ আর ধনেপাতা দিয়ে দিন। পুর ঠান্ডা হলে আলুর ভিতর ভরে দিন। পরিবেশন করার আগে একটু গরম করে তারপর পরিবেশন করুন স্টাফড আলু।
স্টাফড ক্যাপসিকাম
উপকরণ: ক্যাপসিকাম ৪টে, সয়াবিন ৩ প্যাকেট, ছোলা ৪ চামচ, বাদাম ৩ চামচ, কিশমিশ ৩ চামচ, ভাজা মশলা ৪ চামচ (গোটা জিরে, ধনে, গরমমশলা শুকনো খোলায় ভেজে গুঁড়ো করা) নুন, চিনি স্বাদ মতো।
প্রণালী: ক্যাপসিকামের মুখ কেটে ভিতরের সব দানা বের করে নিন। ক্যাপসিকামে নুন মাখিয়ে ভেজে রাখতে হবে। সয়াবিন সিদ্ধ করে বেটে নিতে হবে। কড়াইতে তেল গরম হলে জিরে ফোড়ন দিয়ে সয়াবিন দিন। নুন, চিনি, হলুদ দিয়ে নাড়তে হবে। বাদাম, ছোলা দিয়ে নামানোর সময় ভাজা মশলা দিতে হবে। ঠান্ডা হলে ক্যাপসিকামের ভিতরে পুর ভরে দিতে হবে। উপর দিয়ে একটু ভাজা তিল ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।
স্টাফড পটোল
উপকরণ: পটোল ৪টে, ছোলার ডাল ২০০ গ্রাম, বাদাম ২ চামচ, কিশমিশ ২ চামচ, ভাজা মশলা ২ চামচ (গোটা জিরে, গোটা ধনে, গোটা গরমমশলা শুকনো খোলায় ভেজে গুঁড়ো করা), নুন স্বাদ মতো, চিনি ২ চামচ।
প্রণালী: পটোলের খোসা চেঁছে নিন। তার ভিতরের শাঁস বের করে নিন। তারপর পটোলের খোলে নুন-হলুদ মেখে ভেজে নিন। ডাল ভিজিয়ে রেখে তা পটোলের শাঁস, লঙ্কা, নুন, চিনি দিয়ে বেটে নিন। কড়াইতে তেল দিয়ে গোটা জিরে ফোড়ন দিন। তারপর ডালবাটার মিশ্রণ দিয়ে নাড়তে থাকুন। কড়াই থেকে তা ছেড়ে এলে বাদাম, কিশমিশ, ভাজা মশলা দিয়ে নেড়ে নামান। পুর ঠান্ডা হলে ভেজে রাখা পটোলের খোলায় ভরে দিন। পুর ভরার পর আবার অল্প ভেজে পরিবেশন করুন।
তনিমা বন্দ্যোপাধ্যায়
নারকেলি মিষ্টি
নারকেলের হালুয়া
উপকরণ: নারকেল কোরা ২ কাপ, মুগ ডাল ২ টেবিল চামচ, চালের গুঁড়ো ২ টেবিল চামচ, নারকেল কুচি ২ টেবিল চামচ, কাজু ২ টেবিল চামচ, গুড় ১ কাপ, এলাচ গুঁড়ো ১ চামচ, ঘি ৬ টেবিল চামচ, নুন ১ চিমটে (ঐচ্ছিক)।
প্রণালী: প্রথমে মুগডাল কড়াইতে রোস্ট করে গুঁড়ো করে নিতে হবে। মিক্সার গ্রাইন্ডারে ২ কাপ নারকেল কোরা, গুঁড়ো মুগ ডাল, চালের গুঁড়ো, গুড়, নুন ও এলাচ গুঁড়ো কাপ জল সহ পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। এবার প্যানে ২ টেবিল চামচ ঘি যোগ করে নারকেল কুচি ও কাজু ভেজে তুলে নিতে হবে। এরপর বাকি ঘি কড়াইতে দিয়ে নারকেলের মিশ্রণটা দিয়ে ক্রমাগত নেড়ে যেতে হবে। ৫-৭ মিনিট পরে বেশ একটা মণ্ডর আকার নিলে তাতে ভাজা কাজু ও নারকেল মিশিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
পদ্ম চিনি
উপকরণ: নারকেল কোরা ২ কাপ, চিনি ১ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, এলাচ গুঁড়ো ১ চামচ।
প্রণালী: প্রথমে একটি বড় পাত্রে নারকেল কোরা ও চিনি ভালো করে হাত দিয়ে মেখে নিন। এবার তা প্যানে দিতে হবে এবং ক্রমাগত নাড়িয়ে যেতে হবে। প্রথমে নারকেল থেকে জল বেরবে এবং তারপর ধীরে ধীরে শুকনো হতে থাকবে। একদম শুকনো ঝুরঝুরে হয়ে গেলে এলাচ গুঁড়ো মিশিয়ে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে। এবার মিশ্রণটি শিল নোড়ায় বেটে মিহি করে নিতে হবে। এবার এই মিশ্রণে ঘি মিশিয়ে ময়ানের মতো মাখতে হবে। যে কোনও ছাঁচে বা ছোট পাত্রে ময়ান দেওয়া মিশ্রণটি নিয়ে সঠিক আকারের পদ্ম চিনি বানিয়ে নিতে হবে। ৬-৭ ঘণ্টা রেখে দেওয়ার পর এটি বেশ শক্ত হয়ে যাবে। এরপর সেগুলো পরিবেশন করুন।
নারকেলের গোলাপি বরফি
উপকরণ: ডেসিকেটেড নারকেল (শুকনো নারকেল কোরা) ১ কাপ, ঘি ৩ টেবিল চামচ কনডেন্সড মিল্ক কাপ, বিটরুট জুস ২ টেবিল চামচ, গোলাপ এসেন্স চামচ, এলাচ গুঁড়ো চামচ। সাজানোর জন্য: রুপোলি তবক।
প্রণালী: প্রথমে প্যানে ঘি (২ টেবিল চামচ) দিয়ে তাতে ডেসিকেটেড নারকেল দিয়ে হালকা ভাজা ভাজা করে নিন। তার মধ্যে কনডেন্সড মিল্ক ও বিটের জুস দিয়ে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। সবটা মিশে মণ্ড তৈরি হবে। মণ্ডটি জমাট বাঁধতে শুরু করলে গোলাপ জল ও এলাচ গুঁড়ো মেশাতে হবে। একটি টাইট মণ্ড বানিয়ে নিন। এবার একটি থালায় ১ চামচ ঘি ব্রাশ করে তাতে মণ্ডটি ছড়িয়ে দিতে হবে। রুপোলি তবক মণ্ডের উপর দিয়ে পছন্দ মতো বরফির আকারে কেটে পরিবেশন করতে হবে।
নারকেলের কাঁচাগোল্লা
উপকরণ: জল ঝরানো ছানা ২ কাপ, ফ্রেশ নারকেল কোরা ১ কাপ, শুকনো বা ডেসিকেটেড নারকেল কাপ, গুঁড়ো দুধ কাপ, চিনি ৫ টেবিল চামচ।
প্রণালী: প্রথমে ছানা খুব ভালো করে হাতের তালুর সাহায্যে মেখে নিন। কোনও দানা ভাব যখন থাকবে না, তখন ছানা দুভাগে ভাগ করে নিন। একভাবে ৭০ শতাংশ ছানা রাখুন, অন্য ভাগে ৩০ শতাংশ। প্রথম ভাগের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে নিতে হবে। চিনি হাত দিয়ে খুব ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এবার মিক্সারে নারকেল মিহি করে পেস্ট করে নিন। ছানা ও চিনির মিশ্রণে তা মিশিয়ে দিন। ভালো করে হাতের সাহায্যে মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণ প্যানে দিয়ে ক্রমাগত নাড়াতে থাকুন। জল বেরিয়ে গেলে কাপ গুঁড়ো দুধের সঙ্গে তা মিশিয়ে নিতে হবে। নাড়তে নাড়তে মণ্ডর আকার তৈরি করতে হবে। মিশ্রণটি তারপর প্লেটে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে। এবার বাকি ৩০ ভাগ ছানার সঙ্গে মণ্ডটি খুব ভালো করে মেশাতে হবে। একদম মসৃণ হয়ে গেলে কাঁচাগোল্লার মতো বল বানিয়ে নিতে হবে। এবার একটি প্লেটে শুকনো নারকেল ও বাকি গুঁড়ো দুধ মিশিয়ে নিতে হবে। কাঁচাগোল্লাগুলোকে এই মিশ্রণে রোল করে পরিবেশন করুন।