


তেহরান: সাত সপ্তাহ অতিক্রান্ত। এখনও প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দেহ সমাহিত করেনি ইরান। নিরাপত্তা এবং যানবাহন সমস্যার জেরেই খামেনেইয়ের শেষকৃত্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এমনটাই দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এর। ‘ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসি’ নামে একটি সংস্থার অন্যতম প্রধান বেহনাম তালেবলুকে উদ্ধৃত করে ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’ জানিয়েছে, চলতি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানি প্রশাসন খামেনেইয়ের দেহ সমাহিত করতে ভয় পাচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘সত্যি কথা বলতে প্রশাসন এতটাই দুর্বল এবং ভীত যে এই নিয়ে অগ্রসর হতেই ভয় পাচ্ছে তারা।’ উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ বিমান হামলায় প্রাণ হারান আলি খামেনেই। এরপর থেকেই তাঁর দেহ কোনো অজ্ঞাত স্থানে রেখে দেওয়া হয়েছে। রুহোল্লা খোমেনেইয়ের হাত ধরে ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে কায়েম হয় আয়োতোল্লা শাসন। ১৯৮৯ সালে মৃত্যু হয় রুহোল্লার। সেবার তাঁর শেষকৃত্যে কয়েক লক্ষ মানুষের ভিড়ে ভেঙে পড়েছিল তেহরান। ২৭ বছরের ব্যবধানে কী অদ্ভুত বৈপরীত্য। এবার সব শুনশান। মনে রাখতে হবে, গত প্রায় এক বছর ধরে স্বাধিকার এবং প্রশাসনের দুর্নীতির অভিযোগে পথে নেমেছিল ইরানের বহু মানুষ। তালেবলুর মতে, প্রশাসন ভয় পাচ্ছে খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে প্রশাসন বিরোধী বিক্ষোভ আবার মাথাচাড়া দিতে পারে। তাছাড়া যানবাহন সমস্যাও খামেনেইয়ের এখনই শেষকৃত্যের অন্তরায় হয়ে উঠেছে। উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশাদ শহরেই খামেনেইয়ের জন্মস্থান। সেখানেই তাঁর শেষকৃত্যের কথা ভেবে রেখেছে প্রশাসন। এখানেই রয়েছে পবিত্র ইমাম রেজা মাজার। এই মাজারের সামনেই খামেনেইকে সমাহিত করা হবে বলে খবর। প্রথমে ঠিক হয়েছিল ৪ মার্চ থেকে তিনদিনের জন্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তবে যুদ্ধ বেধে যাওয়ায় সেখানে দেহ নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।