মানিলা: গরমের ছুটি কাটিয়ে সোমবারই খুলেছিল স্কুল। রুটিন মেনে স্কুলে হাজির হয় পড়ুয়া-শিক্ষকরা। নির্দিষ্ট সময় শুরু হয় প্রার্থনাও। আচমকা তীব্র শব্দে কাঁপল চারদিক। চোখের সামনে ধসে গেল আস্ত স্কুল। একইসময় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে কেউ দেখলেন ভেঙে পড়ছে শপিং মল। বহুতল, বড় গাছ, সবই ভাঙতে দেখলেন অনেকে। সকালের তীব্র ভূমিকম্পে কয়েক মিনিটের মধ্যে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হল দক্ষিণ ফিলিপিন্সের একাধিক বড় শহর। । সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩২ জন। গুরতর আহত ২০০ জনেরও বেশি।
এদিনের ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল দক্ষিণ ফিলিপিন্সের মিন্ডানাও উপকূল। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৮। যদিও দ্বীপদেশটির দাবি আরও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে, যার মাত্রা কমপক্ষে ৮.২। ভূমিকম্পের জেরে প্রায় এক মিটার উচ্চতার ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ে। তাতে ব্যাপক ক্ষতি হয় ওই অঞ্চলের ঘরবাড়িগুলির। এমনকি ফিলিপিন্স-ইন্দোনেশিয়া উপকূলে সুনামি সতর্কতাও জারি হয়। তবে দুপুরের মধ্যেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয় প্রশাসন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৩ জন সারাঙ্গানি প্রদেশে ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বন্দরনগরী জেনারেল স্যান্টসের। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এখানকার একাধিক বাড়ি-শপিং মল ভেঙে পড়েছে। ভূমিকম্পের ফলে একটি স্কুলবাড়ি ধসে গিয়েছে। যার ভিতরে কয়েকজন পড়ুয়া আটকে থাকার আশঙ্কা। ফিলিপিন্স ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির প্রধান টেরেসিতো বাকোলকোল জানিয়েছেন, ‘আফটারশকের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় ফেরার আগে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।’ ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণকাজ দ্রুত শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আগাম সতর্কতা হিসাবে স্যান্টোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। মালয়েশিয়ার সাবাহ প্রদেশ, ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপ, পালাউ এবং জাপানের দক্ষিণাঞ্চলেও ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েহে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর উপর অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপিন্সে বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প ও অগ্নুৎপাতপ্রবণ দেশ। তবে এদিনের ভূমিকম্পকে বিগত দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক বলেই দাবি করছে সে দেশের প্রশাসন।