দুবাই: ইরান-আমেরিকা সংঘর্ষের জেরে কার্যত স্তব্ধ হরমুজ প্রণালী। এই পরিস্থিতিতে এবার সৌদি আরবের বন্দর ব্যবহারকারী জাহাজগুলিতে হামলার হুঁশিয়ারি ইরান সমর্থিত হুথি জঙ্গিগোষ্ঠীর। বাব এল-মানদেব প্রণালী সহ লোহিত সাগরের বিস্তীর্ণ অংশে দাপট রয়েছে উত্তর ইয়েমেনের এই জঙ্গিগোষ্ঠীর। ফলে তাদের হুমকির জেরে মঙ্গলবার, ভারত ও চীনের মোট তিনটি তেলবাহী জাহাজকে অভিমুখ বদল করতে হয়েছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভবত সুয়েজ খাল-জিব্রালটর প্রণালী হয়ে আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাবে ট্যাংকারগুলি। ফলে সময় ও খরচ দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
চীনগামী জিং লং ইয়াং নামের ট্যাংকারটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২ মিলিয়ন লিটার জ্বালানি নিয়েছিল। জাহাজ চলাচলের তথ্য বলছে, সোমবার অভিমুখ বদলে সুয়েজ খালের দিকে যাত্রা শুরু করেছে ট্যাংকারটি। অন্যদিকে ভারতের বন্দরমুখী ট্যাংকার রোডোসে রয়েছে ৭ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। মঙ্গলবার সেই জাহাজটিও সুয়েজ খালের দিকে অভিমুখ বদল করেছে। একই পথ ধরেছে আমাজন নামে ভারতমুখী আর একটি জাহাজও।
নতুন করে সংঘাতের আবহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলার হয়েছে। এর মধ্যেই ইরানের নতুন একটি পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, পিকঅ্যাক্স পবর্তশ্রেণিতে ইরানের ওই নির্মীয়মাণ পারমাণবিক কেন্দ্রটিকেও নিশানা করা হবে। কুহ-এ কোলাং গাজ লা নামের এই পারমাণবিক কেন্দ্রটি রয়েছে নাতানজ পরমাণু কেন্দ্রের ২ কিলোমিটার দক্ষিণে। ২০২৫ সালের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় নাতানজে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। সেসময় অবস্থিত পিকঅ্যাক্সের পরমাণবিক কেন্দ্রটি অক্ষত ছিল।
২০২০ সালে পাহাড়ের গর্ভে এই পারমাণবিক কেন্দ্র তৈরি শুরু হয়েছিল। পিকঅ্যাক্সে যে হামলা চালানো যে কঠিন, তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন ট্রাম্প। ওভাল অফিসে একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ইরান সম্ভবত সেন্ট্রিফিউজগুলিকে এই কেন্দ্রের অত্যন্ত গভীরে নিয়ে গিয়েছে। সেখানে মার্কিন বোমা পৌঁছানো কঠিন। তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে আঘাত করব... সম্ভবত খুব তাড়াতাড়ি। ওরা (ইরান) কিছুই করতে পারবে না।’ পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকি, ‘হরমুজে কোনো জাহাজে ইরান হামলা চালালে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। প্রতিবার হামলার জবাবে একটি ব্রিজ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। তেহরানের কাছাকাছি এলাকাগুলিও রেহাই পাবে না।’