Bartaman Logo
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

‘ভুল শুধরে’ বদল পৃথিবীর মানচিত্রে, বাড়ছে আফ্রিকা, কমছে ইউরোপ-উত্তর আমেরিকা

প্রায় ৫০০ বছরের ‘ভুল’ ঠিক করতে অবশেষে বদলে যাচ্ছে গোটা পৃথিবীর মানচিত্র! ‘মার্কেটর প্রোজেকশনে’র পরিবর্তে এবার ব্যবহৃত হবে নির্ভুল ‘ইকুয়াল আর্থ’ পদ্ধতি।

‘ভুল শুধরে’ বদল পৃথিবীর মানচিত্রে, বাড়ছে আফ্রিকা, কমছে ইউরোপ-উত্তর আমেরিকা
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ওয়াশিংটন: প্রায় ৫০০ বছরের ‘ভুল’ ঠিক করতে অবশেষে বদলে যাচ্ছে গোটা পৃথিবীর মানচিত্র! ‘মার্কেটর প্রোজেকশনে’র পরিবর্তে এবার ব্যবহৃত হবে নির্ভুল ‘ইকুয়াল আর্থ’ পদ্ধতি। সেই নতুন মানচিত্রে বড়ো হয়েছে আফ্রিকা। কমেছে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের আয়তন। শুক্রবারই এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভা। ‘নির্ভুল’ মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে ভারত সহ ১৬৪টি দেশ। বিপক্ষে গিয়েছে শুধুমাত্র আমেরিকা। ভোটদানে বিরত থেকেছে ছ’টি সদস্য রাষ্ট্র। 

Advertisement

১৫৬৯ সালে ‘মার্কেটর প্রোজেকশন’ তৈরি করেন ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মার্কেটর। বিশেষজ্ঞদের দাবি, সংশ্লিষ্ট মানচিত্রে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি থাকা ভূখণ্ডকে অনেক বড়ো দেখানো হয়েছে। মহাদেশগুলির আসল আয়তন তাতে ধরা পড়েনি। মার্কেটরের মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ড ও আফ্রিকা প্রায় একই আয়তনের। অথচ বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়ো। এই ‘ভুল’ ঠিক করতেই তৈরি হয়েছে ‘ইকুয়াল আর্থ’। মার্কেটর আসলে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অঞ্চলের আকৃতি ও কোণের চিত্রায়ণে জোর দিয়েছিলেন। আর সেই কায়দায় ত্রিমাত্রিক গোলককে দ্বিমাত্রিক মানচিত্রে দেখাতে গিয়ে আয়তনের তুলনায় অনেকটাই বড়ো হয়ে যায় উত্তর গোলার্ধের মহাদেশগুলি (ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা)। বিষুবরেখার কাছে থাকা মহাদেশগুলি (আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা) ছোটো হয়ে যায়। ২০১৮ সালে এই ‘ভুল’ সংশোধনের কাজ শুরু করেন বোয়ান সাভরিচ সহ একদল মানচিত্রবিদ। তাঁদের তৈরি ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্রে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়ার আয়তনে বেশ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে এবিষয়ে সাভরিচ বলেছিলেন, ‘মহাদেশগুলির আপেক্ষিক ভূপৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল যতটা সম্ভব নির্ভুল রাখার চেষ্টা করেছে ইকুয়াল আর্থ। ঠিক গোলকে যেমন দেখা যায়, আয়তন তেমনই রাখা হয়েছে।’
শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘে ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ নামক প্রস্তাব পেশ করেছিল আফ্রিকার দেশ টোগো। সেদেশের বিদেশমন্ত্রী রবার্ট ডুসি বলেন, ‘মানচিত্র শিক্ষাকে পথ দেখায়। তাই কোনো মানচিত্র পৃথিবীর বিকৃত ছবি দেখালে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেই ভুলটাই চিরস্থায়ী হয়ে যায়।’ মানচিত্র বদলের প্রস্তাবে টোগোর পাশে দাঁড়ায় ফ্রান্সও। ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর দেশ জানিয়েছে, তারা মার্কেটর প্রজেকশন ব্যবহার করবে না। ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জঁ নোয়েল বারো বলেন, ‘আগের মানচিত্রে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীনকে আয়তনে অনেক বড়ো দেখাচ্ছে। আফ্রিকার সমান বড়ো হয়ে গিয়েছে গ্রিনল্যান্ড। মানচিত্র বদলালে তো আর বিশ্ব পালটে যাবে না। তবে একটি বিকৃত চিত্রকে ঠিক করা মানে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা।’ যদিও প্রস্তাবের একমাত্র বিরোধী ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচের বক্তব্য, ‘প্রকৃত সমস্যার পরিবর্তে ষোড়শ শতাব্দীর একটি মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক চলছে। এই ধরনের কাজের জন্য বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ