Bartaman Logo
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

নেপালে ১০ দিন পর সুড়ঙ্গের আঁধার থেকে প্রাণরক্ষা চীনের নাগরিকের, উদ্ধার মহিলাও

হড়পা বানে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর পেরিয়ে গিয়েছে ১০ দিন। নেপালে এখনো পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৩৪৪। নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার মানুষ। তবে হাল ছাড়তে নারাজ উদ্ধারকারীরা। শুক্রবারের পর শনিবার ফের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হল আরও দু’জনকে।

নেপালে ১০ দিন পর সুড়ঙ্গের আঁধার থেকে প্রাণরক্ষা চীনের নাগরিকের, উদ্ধার মহিলাও
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কাঠমান্ডু: হড়পা বানে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর পেরিয়ে গিয়েছে ১০ দিন। নেপালে এখনো পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৩৪৪। নিখোঁজ প্রায় ৫ হাজার মানুষ। তবে হাল ছাড়তে নারাজ উদ্ধারকারীরা। শুক্রবারের পর শনিবার ফের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হল আরও দু’জনকে। নেপালের ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একজন চীনা নাগরিককে। নুয়াকোটে নিজের বাড়িতে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক বৃদ্ধাকে। অন্যদিকে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নেপালের ত্রিশূলী বাজার এলাকায় আটকে থাকা ৫ বছরের শিশু সহ আরও তিন ভারতীয়কে। সবমিলিয়ে ১৬৯ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ২৭৫ জন ভারতীয়। 

Advertisement

শুক্রবারই ত্রিশূলী-৩ এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকে দুজনকে উদ্ধার করা হয়। তারপরেই নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আরও কয়েকজনের জীবিত থাকার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছিল। শনিবার নেপালি সেনা ও বিদেশি উদ্ধারকারীদের একটি দল সুড়ঙ্গের ২২৫ মিটার গভীর থেকে ওই চীনা নাগরিককে উদ্ধার করে। জানা গিয়েছে, নাম লু হাইতাও। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, ওই চীনা নাগরিকের কোনো আঘাত বা অসুস্থতা নেই। কেবল হাইপোথারমিয়ার সামান্য লক্ষণ দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে নূয়াকোট জেলার বেত্রাবতীতে একটি ৪ তলা বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক বৃদ্ধাকে। তার নাম চন্দ্রিকা শ্রেষ্ঠা(৬৪)। প্রশাসন সূত্রে খবর, বাড়ির উপরের তলায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধার খোঁজ মেলে। হড়পা বানে বয়ে আসা কাদা ও পাথরে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বাড়িটি। 
এদিকে নেপালি সেনা ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে সেদেশের সাধারণ মানুষও। এমনকি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বেঁচে ফেরাদেরও অনেকেই পরিজনদের খোঁজে যোগ দিয়েছে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম সুদীপ কুমার নিউপানে। ২৬ তারিখের হড়পা বানের সময় ভাই প্রদীপ ও জনক নামের এক সঙ্গীকে নিয়ে গ্রামবাসীদের সতর্ক করছিলেন সুদীপ। তখনই হড়পা বানে ভেসে যায় সুদীপ ও জনক। কোনোমতে পাহাড়ে উঠে রক্ষা পান সুদীপ। তবে ভাইকে হারানোর শোক কাটিয়ে ফের ময়দানে নেমে পড়েছেন তিনি। উদ্ধার হওয়ার মাত্র ২ দিনের মধ্যেই রসুয়ায় খাবার ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরনের কাজে যোগ দিয়েছেন সুদীপ।  সুচিত যোশী নামের অন্য এক যুবকও যোগ দিয়েছেন উদ্ধারকাজে। হড়পা বানে তাঁর স্ত্রী, কন্যা, বউদি, ভাইপো সহ আরও কয়েকজন নিখোঁজ। তবে তিনি আশা ছাড়েননি। বরং একাই তাঁদের খোঁজে নেমে পড়েন। এক যুবক ও  তাঁর ভাইপোকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করেন তিনি। এরপর স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে আটকে পড়া বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করেছেন সুচিত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ