ওয়াশিংটন: ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ থামাতে সম্প্রতি পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। তারই সুযোগ নিয়ে এবার ট্রাম্পের দেশে কাছে কার্যত ‘ভিক্ষা’ চাইল ইসলামাবাদ। ওয়াশিংটনের কাছে শাহবাজ শরিফ সরকার এক হাজার কোটি ডলারের দ্বিপাক্ষিক ‘এক্সচেঞ্জ স্টেবিলাইজেশন সাপোর্ট ফেসিলিটি’র আরজি জানিয়েছে। সেটির মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। মার্কিন কোষাগারের সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের কাছে এই আবেদন রেখেছেন পাক অর্থমন্ত্রী মহম্মদ আওরঙ্গজেব। চলতি সপ্তাহে এবিষয়ে দু’জনে বৈঠকও করেন। সেখানে দ্বিপাক্ষিক স্তরে আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুমোদিত হলে অর্থ সংকটে বিধ্বস্ত পাকিস্তানের অর্থনীতি অনেকটাই স্বস্তি পাবে। যদিও এখন পর্যন্ত এবিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি দুই দেশ।
ওয়াশিংটন-তেহরান ইস্যুতে মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ইসলামাবাদ। এরই হাত ধরে ওয়াশিংটন ও অন্যান্য অংশীদারদের থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার আশা করছে ভারতের এই পড়শি দেশ। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের (আইএমএফ) থেকে বারবার ঋণ পাওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে ধুঁকছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। এহেন অবস্থায় ১ হাজার কোট ডলারের সহায়তা পেলে আর্থিক চিন্তা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর জেরে ইসলামাবাদের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার শক্তিশালী হবে। পাক রুপির উপর চাপ কমবে। একইসঙ্গে বহুস্তরীয় অর্থয়ানের উপর নির্ভরতা কমে যাবে। কী এই এক্সচেঞ্জ স্টেবিলাইজেশন ফেসিলিটি? সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এটি মার্কিন কোষগোরের একটি বিরল আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা। ‘এক্সচেঞ্জ স্টেবিলাইজেশন ফান্ড’এর মাধ্যমে তা দেওয়া হয়। মূলত একটি দেশের বৈদেশিক অর্থভাণ্ডারকে সাহায্য করার লক্ষ্যেই এই সহায়তা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ডলার ফান্ডিং, মুদ্রা বিনিময় সহ একাধিক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশটির মুদ্রাকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০০২ সালে উরুগুয়েকে এই বিশেষ সহায়তা দিয়েছিল ওয়াশিংটন। গত বছর আর্জেন্তিনার জন্য একই পদক্ষেপ নিয়েছিল হোয়াইট হাউস।