নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ২০০১ সালে কলকাতা বইমেলার ২৫ বছরে কেন্দ্রে ছিল এনডিএ সরকার। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। সেবছর বইমেলার থিম কান্ট্রি হয়েছিল ভারত (ইন্ডিয়া)। ২০২৭ সালে কলকাতা বইমেলার ৫০ বছর। এবারও কেন্দ্রে এনডিএ সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০০১ সালের এবারও ৫০তম কলকাতা বইমেলার থিম কান্ট্রি হচ্ছে ভারত। বুধবার গিল্ড এবং উপদেষ্টা কমিটি যৌথভাবে এই থিম কান্ট্রি ঘোষণা করেছে। এই থিমের সঙ্গেই থাকবে বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর, স্বাধীনতার ৮০ বছর এবং বইমেলার ৫০ বছরের ইতিহাস ও বিষয়কে তুলে ধরা হবে। অন্যদিকে, বইমেলাকে ঘিরে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল গিল্ড ও উপদেষ্টা কমিটির। সেই দ্বন্দ্ব সরিয়ে এদিন গিল্ড-উপদেষ্টা কমিটি সল্টলেক বইমেলা প্রাঙ্গণে যৌথ মাঠ প্রদর্শন করেছে।
১৯৭৫ সালে গিল্ডের প্রতিষ্ঠা হয়। পরের বছর ১৯৭৬ সালের ৫ মার্চ কলকাতা বইমেলার সূচনা। পালাবদলের পর সরকারিভাবে বইমেলার আয়োজনের দায়িত্ব গিল্ডকে দেওয়া হলেও সহযোগিতায় রাখা হয়েছে আরও দুই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে। ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট এবং ইজেডসিসি। সেইসঙ্গে পরামর্শ প্রদানে তৈরি করা হয়েছে ২৪ জনের উপদেষ্টা কমিটি। সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে বইমেলায় স্টলের বিজ্ঞাপন নিয়ে গিল্ডের সঙ্গে উপদেষ্টা কমিটির ‘সংঘাত’ প্রকাশ্যে এসেছিল! প্রসঙ্গত, গত ১২ অক্টোবর গিল্ডের এজেএম এবং নির্বাচন ছিল। সেখানে প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে হারিয়ে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন সভাপতি সুধাংশুশেখর দে।
এদিন সকালে উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ বক্সি, গিল্ডের ত্রিদিববাবু, সুধাংশুবাবু ছাড়াও যুগ্ম সম্পাদক শুভঙ্কর দে-সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। গিল্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০১ সালে অটলবিহারী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন রেলমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরাট ভূমিকা নিয়েছিলেন অজিত পাঁজা। মুরলীমনোহর যোশির সঙ্গে দেখা করেন ত্রিদিববাবুরা। সেজে উঠেছিল ভারত থিম। ত্রিদিববাবু এবারও ২৫ বছরের বইমেলার মতো ৫০-এর বইমেলাতেও থিম ইন্ডিয়া তথা ভারত। প্রসেনজিৎবাবু বলেন, এবার বইমেলায় জাতীয়তাবাদী এবং সনাতনী বিষয় থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। তবে, উদ্বোধন করবেন অন্য কেউ। ৫০ বছরে আরও বেশি স্টল তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। সুধাংশুবাবু বলেন, এবার বইমেলার ৫০ বছর। তাই সকলে মিলে আমরা নেমে পড়েছি। আপামর বাঙালিও উৎসুক হয়ে রয়েছেন।



