নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছর দেড়েক ধরে কাজ চালিয়ে উল্টোডাঙা পাম্পিং স্টেশন থেকে বেঙ্গল কেমিক্যালস পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ নিকাশি পুরোপুরি পলিশূন্য (জিরো ডিসিল্টিং) করা হয়েছে। সেই কাজ কেমন হল, তা দেখতে বুধবার সেখানে যান কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে। তিনি নালার ভিতরে নেমে কাজ খতিয়ে দেখেন। পুরসভার নিকাশি বিভাগের কাজের প্রশংসাও করেছেন তিনি।
গত কয়েকটি বর্ষার মরশুমে দেখা গিয়েছে, ভারী বৃষ্টিতে উল্টোডাঙার হাডকো মোড়, বিধাননগর-উল্টোডাঙার মুখে প্রচুর জল জমছে। পাম্পিং স্টেশনের পাম্প চালিয়ে দ্রুত সেই জল নামানোর ব্যবস্থাও হয়। কিন্তু দেখা যায়, উল্টোডাঙা পাম্পিং স্টেশন থেকে যে ভূগর্ভস্থ নিকাশি সোজা ধাপা পাম্পিং স্টেশনে গিয়ে পড়েছে, সেই নালার ধারণক্ষমতা বেশ কমে গিয়েছে। এই নিকাশি উল্টোডাঙা, কাঁকুড়গাছি, মানিকতলা মেইন রোড, ই এম বাইপাস, সল্টলেকের একাংশসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জল বহন করে। এই পরিস্থিতিতে নালায় ডিসিল্টিং বা পলি তোলার সিদ্ধান্ত নেয় পুরসভা। সেই কাজ করতে গিয়ে নালার ভিতর থেকে কংক্রিটের আস্তরণ সরাতে কালঘাম ছুটে গিয়েছিল পুরকর্মীদের।
উল্টোডাঙা সংলগ্ন পাম্পিং স্টেশন থেকে সল্টলেক মোড় হয়ে ই এম বাইপাসের নীচ দিয়ে একটি বক্স ড্রেন (বড়ো নিকাশিনালা) চলে গিয়েছে বেঙ্গল কেমিক্যালস পর্যন্ত। পাশেই রয়েছে আরও একটি ইটের ভূগর্ভস্থ নিকাশি। সেটি ধাপা লকগেট পাম্পিং স্টেশন পর্যন্ত রয়েছে। এই দু’টি ড্রেন উল্টোডাঙা এলাকার একাধিক ওয়ার্ডসহ সল্টলেকের বেশ কিছু অঞ্চলের জল টানে। পুরসভার নিকাশি বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বহু বছর ধরে ভূগর্ভস্থ এই নিকাশিতে পলি জমছে। ফলে বৃষ্টির বাড়তি জল টানতে পারছে না। সেই ১৯৯০ সালে এটি তৈরির পর থেকে আর সেভাবে পলি তোলা হয়নি। তাই পুরসভা নিকাশি সম্পূর্ণ পলিমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। আপাতত উল্টোডাঙার সল্টলেক গেট থেকে বেঙ্গল কেমিক্যালস পর্যন্ত নিকাশির সংস্কার হয়েছে।
এদিন পুর-আধিকারিকরা প্রশাসককে জানান, ওই অঞ্চলে একাধিক বহুতল নির্মাণ হয়েছে। সেই নির্মাণের সময় পাইলিংয়ের তরল বা সিমেন্ট গোলা জল নিকাশির ভিতরে গিয়ে শক্ত হয়ে গিয়েছিল। সেগুলি ভাঙতেই বেগ পেতে হয়েছিল। নিকাশি থেকে বেরিয়ে আসে কংক্রিটের বড়ো বড়ো চাঙড়। সেই বিষয়টি স্মিতা পান্ডেকে জানান নিকাশি বিভাগের ডিজি শান্তনুকুমার ঘোষ। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্মিতা পান্ডে বলেন, ‘সব কাজ সরকার করতে পারে না। জনগণকেও দায়িত্ব নিতে হবে। এভাবে পাইলিংয়ের জল নিকাশিতে ঢুকিয়ে দিলে এরপর জরিমানা করা কবে।’ জানা গিয়েছে, এই কাজ করতে ৫.৫৭ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। প্রায় ২.১কিমি দীর্ঘ নালা পলিশূন্য করা হয়েছে। আর জমা জলের সমস্যা ভোগ করতে হবে না স্থানীয়দের, আশাবাদী পুর-কর্তৃপক্ষ।



