নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জেএমবি’র নয়া জঙ্গি সংগঠন ইমাম মাহমুদের কাফিলা’র (আইএমকে) বাংলাদেশের সদর দপ্তরে প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়ার কথা ছিল বজবজ থেকে ধৃত জেহাদি শেখ জুম্মান ও ডায়মন্ডহারবার থেকে ধৃত আবদুর রফির। পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গিয়েছিল তাদের। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য পাচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইও)। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আসা আইএমকে’র সদস্যদের ভারতীয় নথি তৈরি করে দিচ্ছিল ধরা পড়া জঙ্গিরা।
অসম পুলিশের এসটিএফের হাতে ধৃত আইএমকে জঙ্গিদের জেরা করে এনআইএ জানতে পারে, পশ্চিমবঙ্গে জাল ছড়িয়েছে এই সংগঠন। তার ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিনভর তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় চারজনকে। জঙ্গি সংগঠনের কাজে মদত দেওয়ার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে জেরা করা চলছে। ধৃত জঙ্গিদের জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, বাংলাদেশের এই জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদহ, নদীয়া এবং দুই ২৪ পরগনায় ছড়িয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের আইএমকে ক্যাডারদের সীমান্ত পার করিয়ে এরাজ্যে নিয়ে আসত জুম্মান। এরপর তাদের নরেন্দ্রপুরে নিয়ে গিয়ে জঙ্গি সংগঠনের প্রতি সহানুভূতিশালী এক ব্যক্তির বাড়িতে রাখত। সেখানেই তাদের নিয়মিত মিটিং হত। এই সমস্ত বাংলাদেশি জঙ্গিরা ভারতে ঢোকার পর আধার ও প্যানকার্ড বানিয়ে দিত জুম্মান ও রফি। অন্য জেলায় বাংলাদেশের আইএমকের যারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তাদেরও ভারতীয় নথি তৈরি হয়ে গিয়েছে বলে খবর। এখনও পর্যন্ত নয়জন বাংলাদেশি আইএমকে জঙ্গিকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। বাকিদের বিষয়ে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য জোগাড় চলছে। তদন্তে উঠে এসেছে ধরা পড়া জঙ্গিরা আইএমকের মাথাদের কথামতো বাংলাদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরজন্য প্রয়োজনীয় টাকাপয়সাও চলে এসেছিল সীমান্তের ওপার থেকে। দালালের মাধ্যমে তারা পাসপোর্ট তৈরি করে ফেলে। বাংলাদেশে তাদের হাতেকলমে বিস্ফোরক তৈরি শেখার কথা ছিল। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে কোথায় কোথায় জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের জন্য খারিজি মাদ্রাসা খুলতে হবে, সেই সংক্রান্ত নির্দেশ বাংলাদেশ থেকে চলে এসেছিল বলে খবর। ধৃত জঙ্গিরা জেরায় জানিয়েছে, তাদের কাছে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ঘুরে টাকা আসত। অল্প অল্প করে দফায় দফায় টাকা পাঠানো হত। যাতে তদন্তকারী এজেন্সির নজরে না পড়ে। যে সমস্ত অ্যাকাউন্টগুলি আইএমকে’র টাকা পাঠানোর কাজে ব্যবহার হয়েছে, সেগুলিকে চিহ্নত করা হয়েছে বলে খবর। এই সমস্ত অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছে।