নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করাচি-ঢাকা সরাসরি বিমান যোগাযোগ শুরু হওয়া মাত্রই জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবা এবং জয়েশ-ই-মহম্মদের এক ঝাঁক হ্যান্ডলার ও অপারেটর বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে খবর পেয়েছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। গত ৩১ জানুয়ারি ভোরে বিমান বাংলাদেশের যে ফ্লাইটটি ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ ঢাকার হজরত শাহ জালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছয়, তাতে কমপক্ষে ২৮ জন সন্দেহভাজন যাত্রী ছিল, যারা পাকিস্তানে লস্কর ও জয়েশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। গোয়েন্দারা বলছেন, এদের মধ্যে চারজন এমন লোকও রয়েছে, যারা ‘স্নাইপার’ বলে পরিচিত। পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানের বাসিন্দা শাহ মুকামিল ও কালাম নূর এই স্লাইপার দলে রয়েছে। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের প্রত্যক্ষ সহযাগিতায় বড়সড় কোনও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতেই লস্কর ও জয়েশের যৌথ টিম ইউনুসের দেশে পৌঁছেছে বলে গোয়েন্দারা মনে করছেন। এর প্রেক্ষিতে দেশের পূর্ব সীমান্তে সতর্কতা ও কড়া নজরদারি শুরু করা হয়েছে।
এই পর্বেই আবার লস্কর-জয়েশের যৌথ টিম সমুদ্র পথে প্রবেশ করে দেশের পশ্চিম প্রান্তে ‘নাশকতা’র ছক রূপায়ন করতে চাইছে বলেও গোয়েন্দা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, লস্করের রাজনৈতিক শাখা পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ (পিএমএমএল) গত একমাস ধরে স্কুবা ডাইভার ও পেশাদার সাতারুদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে। উপকূলবর্তী করাচি, কেটি বন্দর, কোরাঙ্গি সহ বিভিন্ন জায়গায় এই প্রশিক্ষণ শুরু করা হয়েছে। উত্তাল সমুদ্রে নৌকো চালানোর ট্রেনিংও চলছে একইসঙ্গে। গোয়েন্দারা আরও বলছেন, পিএমএমএল’এর ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি হারিশ দারের তত্ত্বাবধানে বড়সড় নাশকতা ঘটাতেই এই প্রশিক্ষণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের ভারত বিরোধী বিভিন্ন সংগঠন ও জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছে পাকিস্তান থেকে যাওয়া লস্কর ও জয়েশের যৌথ টিম। ওই টিমে রয়েছে লস্কর কমান্ডার আনোয়ার সাজ্জাদ (পাকিস্তানি পাসপোর্ট নম্বর-কেএইচ ১৭৯৮৩৭৪), জয়েশ হ্যান্ডলার রসুল মহম্মদ (পাসপোর্ট নম্বর-ডিসি ৯৮০২৬৩১৬) এবং নবি মোহতাজ (পাসপোর্ট নম্বর-এপি৯০৯৯৯৫৩) প্রমুখ কুখ্যাত জঙ্গি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, পাকিস্তানের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড পাসপোর্টের ডিজি’র তরফে এদের প্রত্যেককে বিশেষ নিরাপত্তা ও মর্যাদার ‘ডিপ্লোমেটিক ট্যাগ’ দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দারা বলছেন, শুধু লস্কর-জয়েশের জঙ্গিরাই নয়, ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার বলে চিহ্নিত তথা বাংলাদেশ থেকে পলাতকরা ওই বিমানে ঢাকায় ফিরেছে। পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে ১২-১৩ বছর পরে বাংলাদেশে ফেরা এরকম দু’জন হল সৈয়দ জিয়াউল হক এবং আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ আদালত বাচ্চু রাজাকারকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছিল। ততক্ষণে অবশ্য পাকিস্তানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল সে।