


ঢাকা: ৫৪ বছরের প্রথমবার। ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানালেন জামাতের প্রধান। এই ঘটনায় হইচই শুরু হয়েছে পদ্মাপারের দেশে। কারণ, পাকিস্তানপন্থী জামাত বরাবরই ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনকে ‘ইসলাম বিরোধী’ তকমা দিয়ে এসেছে। এমনকী, অতীতে জামাত নেতারা বারবার দাবি করেছেন, তত্কালীন পাক শাসকদের বিরুদ্ধে ভাষা আন্দোলন ভুল ছিল। কিন্তু এবার প্রচলিত রীতি মেনেই শুক্রবার মধ্যরাতে শহিদ মিনারে আসেন জামাতের প্রধান শফিকুর রহমান। সঙ্গে ১১ দলের বিরোধী জোটের অন্য নেতারাও। পরে শফিকুর জানান, জামাত প্রধান হিসাবে নন, সংসদের বিরোধী দলনেতা হিসাবে তিনি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় আচার হিসাবে এটা আমার দায়িত্ব। বিরোধী দলের নেতা হিসাবে শরিকদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে। তাই এসেছি।’ শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনকে কি জামাত এখনও অনুচিত মনে করে? এই প্রশ্নে অস্বস্তিতে পড়ে স্পষ্ট জবাব না দিয়েই শহিদ মিনার চত্বর ছাড়েন শফিকুর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকারের চেষ্টা শুরু করেছিল জামাত ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। কিন্তু সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধ বা ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তাই জামাতও তড়িঘড়ি নিজেদের বদলাতে চেষ্টা করছে। যদিও শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসার আগেও দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী প্রয়াত জামাত নেতা গোলাম আজমের নামে স্লোগান দেন দলের কর্মী-সমর্থকরা। পালটা শফিকুরদের বিরুদ্ধে ‘রাজাকার’, ‘একাত্তরের দালালরা, হুঁশিয়ার-সাবধান’ স্লোগান দেওয়া হয়।
শুক্রবার মধ্যরাতে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারেকের পরিবারের সদস্যরাও শহিদ মিনারে উপস্থিত ছিলেন। শনিবার দিনভর সাধারণ মানুষও সেখানে গিয়ে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।