Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

‘মহিলাদের নানা ভূমিকা পর্দায় রিপ্রেজেন্ট করাটা বড় দায়িত্ব’

সরস্বতী পুজোর পরের দিন বিকেলে মুম্বই থেকে ফোনে সাক্ষাৎকার দিলেন রানি মুখোপাধ্যায়। মুক্তির অপেক্ষায় ‘মর্দানি ৩’। কিন্তু আড্ডা শুরু হল সরস্বতী পুজোর গল্প দিয়েই।

‘মহিলাদের নানা ভূমিকা পর্দায় রিপ্রেজেন্ট করাটা বড় দায়িত্ব’
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সরস্বতী পুজোর পরের দিন বিকেলে মুম্বই থেকে ফোনে সাক্ষাৎকার দিলেন রানি মুখোপাধ্যায়। মুক্তির অপেক্ষায় ‘মর্দানি ৩’। কিন্তু আড্ডা শুরু হল সরস্বতী পুজোর গল্প দিয়েই।

Advertisement

• সরস্বতী পুজো করলেন?

হ্যাঁ...। সকলে একসঙ্গে সরস্বতী পুজো করেছি। মা ছিলেন। আমি ছোট থেকেই সরস্বতী পুজো করি। এখন এসব পুজো, উৎসব আমার মেয়েরও দেখা দরকার। আদিরাও খুব এনজয় করে। আমি তিন বছর বয়স থেকে শাড়ি পরতাম। আমার মেয়েও এখন শাড়ি পরে অঞ্জলি দেয়।

• জাতীয় পুরস্কারের জন্য অনেক শুভেচ্ছা...

ধন্যবাদ। সত্যিই এটা বড় পাওনা। বাবার কথা মনে পড়ছিল খুব...।

• জাতীয় পুরস্কারের পর প্রথম রিলিজ ‘মর্দানি’। আলাদা টেনশন হচ্ছে?

ছবি রিলিজের আগে নার্ভাস লাগেই। এবার যেন আরও বেশি নার্ভাস লাগছে। কারণ ছবি দেখে কেউ যেন হতাশ না হন, সেটা চিন্তা করি। বক্স অফিসের চিন্তাও হয়।

• দায়িত্ব বাড়ল?

দেখুন, দায়িত্ব চিরকালের। ভালো কাজ, ভালো চরিত্র, ভালো ছবি করব, এটাই তো লক্ষ্য। পুরস্কার নিয়ে আলাদা করে ভাবিনি কখনও। ‘শিবানি শিবাজি রায়’-এর চরিত্রটাই তো বড় দায়িত্ব। যখন ‘দেবিকা’ করেছিলাম ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’তে, তখনও বড় দায়িত্ব ছিল। আবার ‘নয়না মাথুর’র করেছিলাম ‘হিচকি’তে, সেটাও বড় দায়িত্ব। পুরস্কার পেলে ভালো লাগে। কিন্তু না পেলেও নানা চরিত্রের মহিলাকে বড়পর্দায় রিপ্রেজেন্ট করছি, সেটা যেন ঠিক ভাবে করতে পারি, এই দায়িত্ব সব সময়ই থাকে।

• ফ্র্যাঞ্চাইজি ছবির ক্ষেত্রে চরিত্রের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ একরকম রাখার জন্য আগের পার্টগুলো আবার দেখেন?

না (হাসি)। ১২ বছর বয়স থেকে তো অভিনয় করছি। ওটা এখন আমার মধ্যে বসে গিয়েছে। ‘শিবানি’র কস্টিউম পরে শ্যুটিংয়ে চলে এলে আর কিছু করতে হয় না। ম্যানারিজম, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সব হয়ে যায়।

• কোনও দৃশ্যে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন?

অনেক দৃশ্য আছে। ছবির গল্পটাই আবেগের। অত্যাচারিত মেয়েদের কথা ভাবতে গেলেই চোখে জল চলে আসে। একটা বাচ্চার সঙ্গে খারাপ কিছু হচ্ছে, তার পরিবার সেটা সামলাচ্ছে, এটা তো অভাবনীয়।

• বলিউডে ৩০ বছর সম্পূর্ণ হল আপনার। ফিরে তাকালে কী মনে পড়ে?

প্রতিদিন যাঁরা আমার সঙ্গে কাজ করেছেন, আমার সাপোর্ট সিস্টেম— তাঁদের কথা মনে পড়ে। আমার মেকআপ আর্টিস্ট, হেয়ার ড্রেসার, স্পট বয়, তাঁরাই সব। শ্যুটিংয়ে গিয়ে প্রথমে ওঁদের সঙ্গেই দেখা হয়। আর ওই মেকআপরুমেই একজন শিল্পীর আসল রূপটা দেখা যায়। কারণ আমাদেরও সব দিন সমান যায় না। একদিন মন ভালো তো একদিন মন খারাপ। তখন মেকআপ আর্টিস্ট হয়তো বললেন, কোনও চিন্তা নেই আজ দারুণ মেকআপ করব। হেয়ার ড্রেসার হয়তো জড়িয়ে ধরে বললেন, কোনও চিন্তা কর না। সব ভালো হবে। এটাই তো আসল। ওঁদের নিয়ে খুব কম কথা হয়। কিন্তু শিল্পীর জীবনে ওঁদের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

• এরপর?

আমার পরিচালক, সহ অভিনেতা, প্রযোজক, কোরিওগ্রাফার, ক্যামেরাম্যান, স্ক্রিপ্ট রাইটার, মিউজিক ডিরেক্টর— সকলকে ধন্যবাদ। ওঁরা না থাকলে এতটা আসতে পারতাম না। আর সকলের উপরে দর্শক। আমার কিছু ভালো হলে তাঁরা ভাবেন, আমাদের রানির ভালো হচ্ছে। ফলে দর্শক যদি এভাবে আমাকে গ্রহণ না করতেন, এত ভালোবাসা না দিতেন, তাহলে তো কিছুই হত না। রক্তের সম্পর্ক না হলেও যে পরিবার তৈরি হয়, সেটা দর্শক আমাকে বুঝিয়েছেন। দর্শক তো আমাকে চিনতেন না। ব্যক্তি জীবনে টিনএজার থেকে এখন মা হয়েছি, সবটাই দর্শকের চোখের সামনে। ৩০ বছরের কেরিয়ারের নারী হিসেবে আমার নানা দিকে উত্তরণ হয়েছে। এত বছর ধরে দর্শক আমার জন্মদিন পালন করেন। আমি সোশ্যাল মিডিয়াতে নেই। জেন জি-রা এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাকে প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে। এছাড়া বাবা, মায়ের আশীর্বাদ তো আছেই।

• কলকাতায় কবে আসছেন?

খুব তাড়াতাড়ি যাব। ছবিটা রিলিজ হোক। ভালো হলে নিশ্চয়ই কলকাতায় যাব একবার।

স্বরলিপি ভট্টাচার্য

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ