দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি; মাসে ইপিএফের ন্যূনতম পেনশনের পরিমাণ এক হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধির ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে ইপিএফ পেনশনের মাস বেতনের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দিয়ে উচ্চ হারে তা প্রদানের একটি রূপরেখা অবশ্য তৈরি করেছে কেন্দ্র। এবার এই ব্যাপারেও প্রশ্নচিহ্ন উঠতে শুরু করেছে। জল্পনা তৈরি হয়েছে, উচ্চ হারে ইপিএফ পেনশন প্রদান করতে আদৌ কি আগ্রহী মোদি সরকার? সোমবার সংসদে শ্রমমন্ত্রকের পেশ করা একটি পরিসংখ্যানকে কেন্দ্র করেই এই ইস্যুতে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ ওই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, ১৫ লক্ষ আবেদনের মধ্যে বাতিলই হয়েছে ১১ লক্ষ। এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে এই সংক্রান্ত ২২ হাজার আবেদনের ভবিষ্যৎ। স্বাভাবিকভাবেই এহেন কেন্দ্রীয় সরকারি খতিয়ানে চরম বিস্মিত তথ্যাভিজ্ঞ মহল।
এদিন উচ্চ হারে পিএফ পেনশন নিয়ে শ্রমমন্ত্রককে লিখিত প্রশ্ন করেন লোকসভার কংগ্রেস সাংসদ আদুর প্রকাশ। তারই জবাবে কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান পেশ করেন। গত ১৬ জুলাই পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ইপিএফওর জোনভিত্তিক ওই পরিসংখ্যান সংসদে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী। তাতে দেখা যাচ্ছে, উল্লিখিত সময়সীমা পর্যন্ত দেশব্যাপী ইপিএফওর বিভিন্ন ফিল্ড অফিসে উচ্চ হারে পিএফ পেনশন প্রাপ্তির জন্য আবেদন জমা পড়েছে মোট ১৫ লক্ষ ২৪ হাজার ১৫০টি। এর মধ্যে বাতিল হয়ে যাওয়া মোট আবেদনপত্রের সংখ্যা ১১ লক্ষ ১ হাজার ৫৮২টি।
অন্যদিকে, নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে মোট ২১ হাজার ৯৯৫টি আবেদনের। অর্থাৎ, সবমিলিয়ে উচ্চ হারে পেনশন প্রাপ্তির আবেদন গ্রাহ্য হয়েছে মাত্র ৪ লক্ষ ৫৭৩টি ক্ষেত্রে। এই বিষয়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেও মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। সবথেকে বেশি আবেদন বাতিল হয়েছে ইপিএফওর মহারাষ্ট্র (মুম্বই বাদে) (পুনে) এবং মুম্বই-১ (বান্দ্রা) ফিল্ড অফিসে। এই দু’ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৩৮২টি এবং ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৯৫৭টি আবেদন বাতিল হয়েছে। দু’ক্ষেত্রেই গ্রাহ্য হয়েছে মাত্র হাজার ছ’য়েক আবেদনপত্র। পশ্চিমবঙ্গ, আন্দামান-নিকোবর ও সিকিমের (কলকাতা) ক্ষেত্রে মোট আবেদন জমা পড়েছে ৫৭ হাজার ৮৫৩টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ২৭ হাজার ৮৬৪টি। যদিও এহেন বাতিলের কারণ হিসেবে লিখিত জবাবে কিছু উল্লেখ করেনি শ্রমমন্ত্রক। কেন্দ্রীয় শ্রম রাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু জানিয়েছেন, ২০২২ সালের ৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এই ব্যাপারে যেসব নির্দেশিকা দিয়েছিল, তা মেনেই যাবতীয় পদক্ষেপ হয়েছে।