তেহরান: আলোচনা বা সমঝোতা করে কোনো লাভ হবে না। ইরানে সরাসরি হামলা চালান। ভিডিয়ো বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমনই আরজি জানিয়ে আত্মঘাতী ইরানের এক যুবক। জানা গিয়েছে, আত্মঘাতী যুবকের নাম পৌরিয়া হামিদি। বাড়ি ইরানের বন্দর শহর বুশেহরে। চরম পদক্ষেপ গ্রহণের আগে ১০ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের ভিডিয়ো বার্তা দেন তিনি। সেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়ালোতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সঙ্গে কোনও চুক্তি না করার জন্য ট্রাম্পের কাছে আবেদন জানান হামিদি।
গত ডিসেম্বর থেকেই খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভে উত্তপ্ত ইরান। পালটা কড়া দমননীতি গ্রহণ করেছে তেহরান। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এরমধ্যে খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইতিমধ্যে আরব সাগরে পৌঁছে গিয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ। শান্তি স্থাপনের চেষ্টায় বারবার আলোচনায় বসেছে দু’পক্ষ। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই হামিদির মর্মান্তিক পরিণতি বিষয়টি সামনে এসেছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ওই ভিডিয়ো পোস্ট করেন হামিদি। সেখানে খামেনেই প্রশাসনের হাত থেকে ইরানের বাসিন্দাদের বাঁচানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে আরজি জানান তিনি। ওই বার্তায় তিনি বলেন, ‘আপনি যখন এই ভিডিয়ো দেখবেন তখন আমি হয়তো এই দুনিয়ায় আর থাকব না। ইরানে এখনো পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন যুদ্ধের তুলনায় সংখ্যাটা অনেকটাই বেশি। খামেনেই প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তি মানেই নিহত বিক্ষোভকারীদর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। নিজেকে উৎসর্গ করলাম। দয়া করে আমার দেশকে মুক্ত করুন। কোনোরকম সমঝোতা নয়। সরাসরি হামলা চালান ইরানে।’
হামিদি আরও জানান, বাইরের সমর্থন ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে লড়াই চালানো সম্ভব নয়। প্রতিবাদীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি। হামিদি বলেন, ‘আমাদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওঁকে বিশ্বাস করেছিলাম। এবার আমেরিকা ইরানে হামলা চালাক। বর্তমানে এটই আমাদের একমাত্র ভরসার জায়গা।’